প্রকাশ : ১০ এপ্রিল ২০২৬, ১৫:৫৮
অজেয় বিদ্রোহ
শরীর যদি করে বেইমানি, মাটি যদি টানে নিচে,
আমি তবে রুখে দঁাড়াই আজ, ভয়কে ফেলে পিছে!
চারপাশে যারা ছুটে চলে আজ গতির তপ্ত ধুলোয়,
আমার পতন তুচ্ছ নয়কো তুলাদণ্ডের পাল্লায়।
হেঁাচট খাওয়া মানে পিছুটান নয়, এ যে নতুন রণসাজ,
পড়ে যাওয়া মানে থমকে যাওয়া নয়, বজ্রের আওয়াজ।
আমি তো সেই ধূমকেতু এক, সীমানা ভাঙার কারক,
স্বপ্ন দিয়ে গড়ি আমি যে এক অজেয় সেতু-স্মারক।
শরীর আমায় শিকল পরায়, সীমাবদ্ধতার বিষে,
স্বপ্ন আমার আকাশ ছেঁায়, যায় যে দিগন্তে মিশে।
হয়তো পথটা বন্ধুর বড়, গতিটা আমার ধীর,
তবুও আমি হার মানি না, নোয়াব না কোনো শির।
ধুলোবালি মেখে যখন দঁাড়াই, বুকে জ্বলে এক জেদ,
অক্ষমতার ললাট লিখন করি আমি আজ ভেদ।
প্রতিটি কদম নিখুঁত নয়কো, তাতে মিশে আছে ঘাম,
সততা আর সাহসের নামে লিখেছি নিজের নাম।
বিধাতা আমায় যা দিয়েছেন, সেটুকুই মোর অস্ত্র,
আত্মবিশ্বাস সঙ্গী আমারÑপুড়ুক অপমানের বস্ত্র।
ওরে শোন তোরা—
আমি পঙ্গু নই, আমি যে এক অশান্ত ঝোরা!
পড়েছি হাজারবার, কিন্তু হেরে যাইনি একবারো,
পরাজয়কে রুখে দিতে আমি শক্তি সঞ্চারি আরও।
জীবন মানে শুধু গন্তব্যে পেঁৗছানো নয় জানি,
জীবন মানে ঝড়ের মাঝেও মাথা না নোয়ানোর গ্লানি।
দোয়া করো তবে, ফের যখন আমি ছিটকে পড়িব দূরে,
উঠে যেন দঁাড়াই আমি এক দ্বিগুণ শক্তির সুরে।
আমি বিদ্রোহী, আমি লড়াকু, আমিই নিজের জয়গান,
সীমাবদ্ধতার ছাই উড়িয়ে গাইব অজেয় প্রাণ!
ছবি-৩৭
আমাদের গ্রাম
নিশি পাটওয়ারী
গ্রামের নাম কেশরাংগা,
রাস্তাঘাট নয়তো ভাঙা।
সবুজে ঘেরা চারিদিক,
প্রকৃতি যেন অঁাকে ছবি ঠিক।
গাছগাছালির ছায়ার তলে,
শান্তি মেলে মনটা ভরে।
মাঝখানে আছে বিদ্যালয়খানি,
স্বপ্ন গড়ে ছোট্ট প্রাণী।
এখান থেকে বড় হয়ে,
অনেকেই যায় দূর দেশ ছুঁয়ে।
জ্ঞানি-গুণী সেরা যারা,
আমার গ্রামের গর্ব তারা।
সোনার ছেলে, সোনার মানুষ,
কাজে নেই কো হেলা কভু।
তাদের নিয়ে গর্ব করতে,
কেটে যায় আমার বেলা যত।
বড় বেশি বেদনার বিষয়
গ্রাম থেকে উঠে আসা মানুষ গুলো,
শহর কেন্দ্রিক হয়ে যায়,
ভুলে যায় মাতৃভূমি।







