প্রকাশ : ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৯:২৪
শিকড়ের আখ্যান

ব্যস্ত শহরের যান্ত্রিক কোলাহলে যখন দম বন্ধ হয়ে আসে, তখন মনের কোনো এক কোণে বেজে ওঠে আমার সেই অতি চেনা মাটির সুর। ছোটবেলার সেই পথ, ধুলোবালি আর প্রথম হঁাটি-হঁাটি পা-পা করার সেই স্মৃতিগুলো যেন আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে আছে আমার শিকড়ে।
১. প্রকৃতির অভিমানী প্রশ্ন
আমি যখন দীর্ঘ বিরতির পর গ্রামে ফিরি, তখন চারপাশের প্রকৃতি যেন আমায় ঘিরে ধরে কৈফিয়ত চায়:
* মাটি বলে : এতদিন কোথায় ছিলে? তোমার পায়ের স্পর্শ ছাড়া আমার বুকটা বড় শুকনো লাগে।
* গাছপালা বলে : আমার ছায়া কি এখন আর শীতল লাগে না? কার মোহে নিজেকে বঞ্চিত করলে আমার এই পরম মমতা থেকে?
* হিমেল হাওয়া বলে : ভোরবেলার সেই স্নিগ্ধতা ছেড়ে কোন ধেঁায়াশায় নিজেকে বন্দি করে রেখেছ?
* পাখিদের অভিযোগ : আমার গানে কি তুমি বিরক্ত? কেন আজ তুমি তোমার জন্মস্থানকে ভুলে দূরে আছো?
২. বাবা-মায়ের অন্তহীন প্রতীক্ষা
সবচেয়ে বড় সত্য তো সেখানে, যেখানে দুটি চোখ সারাদিন দরজার দিকে চেয়ে থাকে। পৃথিবীর সব অর্জন একদিকে, আর মা-বাবার সেই তৃপ্ত হাসির কাছে সব যেন ম্লান। আমরা অর্থের পেছনে ছুটি, সময়ের অজুহাত দেই, কিন্তু তাদের সেই নিঃস্বার্থ ভালোবাসার কোনো বিকল্প নেই।
শহুরে চাকচিক্যে ভুলেছি পথ, শিকড়কে দিয়েছি ফঁাকি,
সেই মাটিই জানে আমি কার কাছে ঋণী বাকি।
পাখির গানে অভিমান ঝরে, বাতাসে বহে সুর,
ফিরবে কবে পথিক তুমি, কোথায় যাবে এত দূর?
জন্ম যেথায়, মরণও সেথায়Ñমাটির কোলেই শেষ,
শিকড়ের টানেই টিকিয়ে রাখি আমার আসল বেশ।
কালো ফাইল
কাজী আজিজুল হাকিম (নাহিন)
এমন একটি দ্বীপ
যেখানে রয়েছে নীরবতার কান্না
শুধু চকচকে আলো ও
বিলাসিতার আড়ালে
লুকিয়ে থাকা অন্ধকার
পৃথিবীর বড় বড়
ক্ষমতাধর ও নামীদামী মানুষের
মুখোশের আড়ালে চলে
বেআইনীর উন্মাদ বন্যা
এপস্টেইনের ফাইল শুধু
একটি নাম নয়
যেখানে রয়েছে
ঘৃণিত সব নগ্ন মুখ
যাদেরকে মোরা ভাবতাম আইডল
তারাই হচ্ছে নরপিশাচের দল
কিছু মেয়েদের কান্নায়
অদৃশ্য রয়ে যায় ইতিহাস
কিন্তু বিবেকের কাছে
হেরে যায় সব ক্ষমতা আর বল
শেষ পর্যন্ত হেরে যায় কারা
ক্ষমতা নাকি মুখোশ?
কিন্তু
ধিক্কার তাদের
কঠিন বিচার করে বদ করুক
তাদের।
যে ফাইল হবে
মানবতা, বিবেক ও ন্যায়বিচারের
সত্যের কাছে
সব মুখোশ হবে পরাস্ত
সেদিন হবে পৃথিবীর মানুষ আশ্বস্ত।








