প্রকাশ : ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ২৩:১৫
প্রজন্মের সেতুবন্ধনে এক উজ্জ্বল সকাল
এসএসসি পরীক্ষার্থীদের শিক্ষা উপহার প্রদান

ফরিদগঞ্জ নীরব অথচ স্বপ্নময় এক জনপদ। এই জনপদের শিক্ষাঙ্গনে রোববার (১৯ এপ্রিল ২০২৬) সকালের আলো যেনো একটু বেশি উজ্জ্বল হয়ে উঠেছিল। কারণ, সেই আলোয় জড়িয়ে ছিলো একঝাঁক তরুণ-তরুণীর ভবিষ্যৎ, আর তাদের পাশে দাঁড়ানোর এক আন্তরিক প্রয়াস।
|আরো খবর
ফরিদগঞ্জ আবিদুর রেজা পাইলট মডেল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের অডিটোরিয়ামটি সেদিন শুধুই একটি হলরুম ছিলো না, ছিলো আশা, উৎসাহ আর প্রেরণার এক মিলনমেলা। ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থীদের চোখেমুখে ছিলো প্রত্যাশার দীপ্তি, আর সেই দীপ্তিকে আরও উজ্জ্বল করতে এগিয়ে আসে ফরিদগঞ্জ আবিদুর রেজা পাইলট মডেল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় এক্স স্টুডেন্ট এসোসিয়েশন (FARESA)।
একসময় এই বিদ্যালয়ের বেঞ্চে বসে স্বপ্ন দেখা প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা আজ আবার ফিরে এসেছে—হাতে বই-খাতা, কলম আর প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণ। তবে এগুলো শুধু সামগ্রী নয়, এগুলো যেনো ভালোবাসা, দায়িত্ববোধ আর শেকড়ের প্রতি টান থেকে উঠে আসা এক নিঃশব্দ অঙ্গীকার—“আমরা আছি তোমাদের পাশে।”
অনুষ্ঠানের শুরুতে এক উষ্ণ আলোচনা সভা যেনো শিক্ষার্থীদের মনোবলকে আরও দৃঢ় করে তোলে।
ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হাছিনা আক্তার তাঁর বক্তব্যে বলেন, শিক্ষার পথে এমন উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস বাড়ায় এবং তাদের লক্ষ্যপানে এগিয়ে যেতে অনুপ্রাণিত করে। তাঁর কণ্ঠে ছিলো শিক্ষকসুলভ মমতা, আর কথায় ছিলো ভবিষ্যতের প্রতি গভীর আস্থা।
সিনিয়র শিক্ষক রফিকুল ইসলাম পাঠান ও সুলতানা রাজিয়া দিপু শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তুলে ধরেন অধ্যবসায়, সময়ের সঠিক ব্যবহার এবং আত্মবিশ্বাসের গুরুত্ব। তাঁদের কথায় যেনো প্রতিফলিত হয় অভিজ্ঞতার নির্যাস, যা পরীক্ষার্থীদের সামনে নতুন করে পথ দেখায়।
অন্যদিকে নুরুন্নবী নোমান সংগঠক হিসেবে FARESA’র পক্ষ থেকে বলেন, এই বিদ্যালয়ই আমাদের শেকড়। এখান থেকেই আমরা পথচলা শুরু করেছি। তাই আজকের শিক্ষার্থীদের জন্যে কিছু করতে পারা আমাদের দায়িত্বও, গর্বও।
উপকরণ বিতরণের সময় উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের প্রতিনিধি জিয়াউর রহমান জিয়া, গিয়াসউদ্দিন এবং জাহিদুল ইসলাম রাসেল। তাঁদের উপস্থিতি যেনো প্রমাণ করে, একটি সংগঠন তখনই শক্তিশালী হয়, যখন তার সদস্যরা হৃদয়ের টানে একসঙ্গে কাজ করে।
সবশেষে উপকরণ হাতে পাওয়া শিক্ষার্থীদের চোখে যে আনন্দের ঝিলিক দেখা গেলো, তা কোনো শব্দে সম্পূর্ণ প্রকাশ করা কঠিন। সেই ঝিলিকেই লুকিয়ে আছে আগামীর স্বপ্ন, সফলতার সম্ভাবনা এবং একটি আলোকিত ভবিষ্যতের ইঙ্গিত। এই ছোট্ট উদ্যোগ হয়তো পৃথিবী বদলে দেবে না, কিন্তু কয়েকজন শিক্ষার্থীর মনে সাহস আর আত্মবিশ্বাসের যে আলো জ্বালিয়ে দিলো, তা নিঃসন্দেহে একদিন অনেক দূর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়বে।







