প্রকাশ : ০৫ মার্চ ২০২৬, ১৭:১৫
এইচএসসির ফরম ফিলাপে অতিরিক্ত অর্থ আদায়
সাংবাদিকদের সাথে শিক্ষকের অসদাচরণ ॥ তদন্ত কমিটি গঠন
ফরিদগঞ্জ উপজেলার গৃদকালিন্দিয়া হাজেরা হাসমত ডিগ্রি কলেজে ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষার ফরম ফিলাপ বাবদ অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের ঘটনার সত্যতা জানতে দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষককে প্রশ্ন করার কারণে মফিজুল ইসলাম ভূঁইয়া নামে এক শিক্ষক সাংবাদিকদের সাথে অসদাচরণ করেন। এক পর্যায়ে গালিগালাজ ও দেখে নেয়ার হুমকি দেন তিনি। এই ঘটনায় সংক্ষুব্ধ সাংবাদিক, দৈনিক নয়াদিগন্তের ফরিদগঞ্জ প্রতিনিধি শাকিল হাসান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ করলে তিনি এই ঘটনার তদন্তে কমিটি গঠন করেছেন।
|আরো খবর
জানা গেছে, গৃদকালিন্দিয়া হাজেরা হাসমত বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের কাছে ফরম ফিলাপ বাবদ অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের তথ্য পেয়ে নয়াদিগন্তের প্রতিনিধি শাকিল হাসান এবং মোহনা টেলিভিশনের মো. ফাহাদ মঙ্গলবার (৩ মার্চ ২০২৬) সংবাদ সংগ্রহ করতে যান। সেখানে শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকদের সাথে কথা বলে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত হন। এ বিষয়ে প্রাতিষ্ঠানিক বক্তব্য জানার জন্যে এই বিষয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষক মফিজুল ইসলাম ভূঁইয়ার সাথে কথা বললে তিনি অতিরিক্ত অর্থ নেয়ার কথা স্বীকার করে জানান, তারা বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৩০০০ টাকার স্থলে ৪৫০০ টাকা এবং ব্যবসায় শিক্ষা ও মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ২৫০০ টাকার স্থলে ৪০০০ টাকা করে আদায় করছেন। এই অর্থ প্রতিষ্ঠানের সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সেটু কুমার বড়ুয়ার অনুমতিক্রমেই আদায় করছেন বলে জানান। বিষয়টি তাৎক্ষণিক সভাপতিকে অবহিত করা হলে তিনি বিষয়টি অবগত নন জানালে শিক্ষক মফিজুল ইসলাম ভূঁইয়া ক্ষিপ্ত হন এবং সাংবাদিকদের সাথে অসদাচরণ করেন। এক পর্যায়ে তিনি অশ্রাব্য ভাষায় গালাগাল দেন, হুমকি প্রদান এবং মারমুখী আচরণ করেন।
ঘটনার বিষয়ে সাংবাদিক শাকিল হাসান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর ঘটনার প্রতিকার ও তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থাগ্রহণের জন্যে লিখিত অভিযোগ করেন।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সেটু কুমার বড়ুয়া বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ ২০২৬) জানান, কলেজের সভাপতি হিসেবে আমার নাম ব্যবহার করে ফরম ফিলাপের অতিরিক্ত অর্থ আদায় অনৈতিক এবং একই সাথে সাংবাদিকদের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণও দুঃখজনক। আমি অভিযোগের ভিত্তিতে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে প্রধান করে তদন্ত কমিটি গঠন করে দিয়েছি। তদন্ত রিপোর্ট সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এদিকে স্থানীয় লোকজন জানান, কলেজের শিক্ষক মফিজুল ইসলাম ভূঁইয়া ইতঃপূর্বে অসদাচরণের জন্যে দীর্ঘ সময় সাময়িক বরখাস্ত ছিলেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে তিনি পুনরায় কলেজে নিয়মিত শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন।








