শনিবার, ৩১ জানুয়ারি, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য

প্রকাশ : ৩০ জানুয়ারি ২০২৬, ১৭:০৬

বাবুরহাট কলেজে চার নক্ষত্রের বিদায়: ৩০ বছরের পথচলার আবেগঘন সমাপ্তি

বিশেষ প্রতিবেদক
বাবুরহাট কলেজে চার নক্ষত্রের বিদায়: ৩০ বছরের পথচলার আবেগঘন সমাপ্তি
ক্যাপশন:বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখছেন অধ্যক্ষ মো. মোশারেফ হোসেন।

চাঁদপুরের ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠ বাবুরহাট উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজে এক অত্যন্ত আবেগঘন পরিবেশে চারজন জ্যেষ্ঠ শিক্ষকের বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় ধরে প্রতিষ্ঠানের সাথে নিবিড়ভাবে মিশে থাকা এই চারজন প্রাণপুরুষ হলেন— সহকারী প্রধান শিক্ষক গোপাল চন্দ্র পাল, সহকারী অধ্যাপক শেখ নজরুল ইসলাম, সহকারী অধ্যাপক মো. জাহাঙ্গীর কবির এবং সহকারী অধ্যাপক মো. জাকির হোসেন।

1769765414943

​ক্যাপশন: বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বিদায়ী শিক্ষকদের ফুল দিয়ে বরণ করা হচ্ছে।

​অনুষ্ঠানে অধ্যক্ষ তাঁর বক্তব্যে বলেন, "বিদায়ী সহকর্মীদের সাথে গত এক যুগেরও বেশি সময় ধরে আমি অত্যন্ত নিবিড়ভাবে কাজ করেছি। আজ তাঁদের বিদায় বেলায় পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের পর থেকেই আমার মন ভারাক্রান্ত হয়ে উঠেছে। তাঁরা চারজনই বয়সে আমার বড় এবং তাঁরা ছিলেন এই প্রতিষ্ঠানের মূল শক্তি। তাঁদের জ্যেষ্ঠতা এবং অভিজ্ঞতা আমাদের পথ চলতে সবসময় সাহস যুগিয়েছে।"

1769766823559

ক্যাপশন: বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বিদায়ী শিক্ষকদের বক্তব্য।

​সহকারী প্রধান শিক্ষক গোপাল চন্দ্র পাল আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, "এই প্রতিষ্ঠানের প্রতিটি ধূলিকণার সাথে আমার দীর্ঘদিনের স্মৃতি জড়িয়ে আছে। সহকারী প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সবসময় চেষ্টা করেছি প্রতিষ্ঠানের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে। আজ বিদায়বেলায় মনে হচ্ছে, আমি শুধু একটি পদ থেকে বিদায় নিচ্ছি না, বরং নিজের পরিবারকে ছেড়ে যাচ্ছি।"

​সহকারী অধ্যাপক শেখ নজরুল ইসলাম তাঁর অনুভূতি ব্যক্ত করে বলেন, "শিক্ষকতা কেবল আমার পেশা ছিল না, এটি ছিল আমার ব্রত। শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের সেই উৎসুক চোখগুলো আমি খুব মিস করব। দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় ধরে সহকর্মীদের যে ভ্রাতৃত্ব পেয়েছি, তা আমার জীবনের শ্রেষ্ঠ সম্পদ।"

1769767192983

​ক্যাপশন: বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বিদায়ী শিক্ষকদের উদ্দেশ্যে সহকর্মীদের বক্তব্য।

​বিদায়ী শিক্ষক মো. জাকির হোসেন সম্পর্কে সহকর্মীরা বিশেষভাবে উল্লেখ করেন যে, তিনি শুধু একজন সফল শিক্ষকই ছিলেন না; তিনি চাঁদপুর শহরের একজন স্বনামধন্য সমাজসেবক, নির্ভীক সাংবাদিক এবং বিশিষ্ট লেখক হিসেবেও অত্যন্ত সমাদৃত। তাঁর এই বহুমুখী প্রতিভা প্রতিষ্ঠানের জন্য এক অনন্য গৌরব।

বক্তব্যে জাকির হোসেন বলেন, "আমি লেখালেখি বা সাংবাদিকতার সাথে যুক্ত থাকলেও বাবুরহাট কলেজই ছিল আমার আসল পরিচয়। সহকর্মীরা আমাকে যে সম্মান দিয়েছেন, তা পরম পাওয়া। দূর থেকে হলেও এই কলেজের যেকোনো প্রয়োজনে আমি সবসময় পাশে থাকব।"

​সহকারী অধ্যাপক সবিতা বিশ্বাস তাঁর দীর্ঘ ৩০ বছরের হাড়ভাঙা খাটুনির স্মৃতি তুলে ধরে বলেন, "আজকের এই সুসজ্জিত বাবুরহাট কলেজ অনেকের অদৃশ্য ত্যাগ ও শ্রমে দাঁড়িয়ে আছে। আমরা এই প্রতিষ্ঠানকে গড়ে তুলতে ইটের পর ইট বসানোর মতো পরিশ্রম করেছি। ব্যক্তিগত বিপদে-আপদে আপনাদের যে সহযোগিতা পেয়েছি, তা কখনোই ভোলার নয়।"

​বিদায়ী বক্তব্যে সহকারী অধ্যাপক মো. জাহাঙ্গীর কবির বলেন, "এই দীর্ঘ সময়ে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে অনেকের সাথে হয়তোবা রুঢ় ব্যবহার করতে হয়েছে। এটি আমি কেবল প্রতিষ্ঠানের স্বার্থেই করেছি। আমার আচরণে যদি কেউ মনে কষ্ট পেয়ে থাকেন, তবে তা ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।"

​অনুষ্ঠানে সহকারী অধ্যাপক প্রণব কুমার দে বলেন, "জাকির ভাই শুধু আমাদের সহকর্মী ছিলেন না, তিনি ছিলেন আমার বড় ভাইয়ের মতো।" প্রভাষক রাসেল বলেন, "বিদায়ী শিক্ষকগণ আমাদের কাছে শুধু সিনিয়র ছিলেন না, তাঁরা ছিলেন আমাদের প্রিয় বন্ধুর মতো।" সিনিয়র শিক্ষক হযরত আলী ও শিক্ষক মাসুদুর রহমান তাঁদের বক্তব্যে এই চার শিক্ষকের অবদানকে ‘নক্ষত্রের’ সাথে তুলনা করেন এবং বলেন, তাঁদের এই শূন্যতা কখনোই পূরণ হবার নয়।

1769766381975

​ক্যাপশন: বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বিদায়ী শিক্ষকদের মাঝে উপহারসামগ্রী বিতরণ করা হচ্ছে।

​অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের সকল শিক্ষক ও কর্মকর্তা উপস্থিত থেকে তাঁদের প্রিয় সহকর্মীদের বিদায় জানান। বিদায়ী চারজন শিক্ষককে প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে বিশেষ সম্মাননা ক্রেস্ট ও উপহার সামগ্রী প্রদান করা হয়।

ডিসিকে/এমজেডএইচ

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়