শুক্রবার, ০৩ এপ্রিল, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য
ব্রেকিং নিউজ
  •   চাঁদপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাড. সলিম উল্লা সেলিম!

প্রকাশ : ০২ এপ্রিল ২০২৬, ২২:৫০

পাটের সুদিন ফেরাতে কৃষি বিভাগ ও উপজেলা পরিষদের উদ্যোগ

আউশ প্রণোদনা ছাড়াও বিনামূল্যে পাটবীজ পেলো কৃষকরা

প্রবীর চক্রবর্তী।।
আউশ প্রণোদনা ছাড়াও বিনামূল্যে পাটবীজ পেলো কৃষকরা

ফরিদগঞ্জে পাট চাষে মুখ ফিরিয়ে নেয়া কৃষকদের পাট চাষে আগ্রহী করা ও পাটের সুদিন ফিরিয়ে আনতে অবশেষে কৃষকদের পাটবীজ পাচ্ছেন। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল ২০২৬) ২০২৫-২৬ অর্থ বছরে খরিপ-১ মৌসুমে কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় আবাদ ও উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে ৩৫০ জন কৃষকের মাঝে আউশ ধান ও পাটের বীজ ও সার এবং উপজেলা পরিষদের অর্থায়নে ২০০ জন কৃষকের মাঝে বিনামূল্যে পাটের বীজ ও সার বিতরণ করা হয়।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কল্লোল কিশোর কর্মকারের সভাপতিত্বে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সেটু কুমার বড়ুয়া প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে পাট বীজ বিতরণ করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা ফাহিম হোসেন, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা বেলায়েত হোসেন, প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম ফরহাদ প্রমুখ।

প্রধান অতিথি তাঁর বক্তব্যে বলেন, সরকার ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করতে বছরের বিভিন্ন সময়ে বিনামূল্যে বীজ ও সার বিতরণ করা হচ্ছে। এসবের কারণ হলো কৃষকরা যাতে কৃষি উৎপাদন বাড়াতে এগিয়ে আসে। কৃষকরা যতো বেশি মাঠে কাজ করবে ততোই আমাদের জন্যে মঙ্গল। ফরিদগঞ্জে পাটের আবাদের জন্যে একটি উৎকৃষ্ট স্থান। এক সময়ে পাট আমাদের অর্থকরী ফসল। পাটের সুদিন ছিলো। কিন্তু পারিপার্শ্বিক কারণে এই ফসলটির উৎপাদন স্থবির হয়ে যায়। সরকার আবারো পাটের পূর্বের অবস্থান ফিরিয়ে আনতে উদ্যোগে নিয়েছে। বড়ো পরিসরে না হলেও ক্ষুদ্র পরিসরে পাটচাষীদের সহায়তা করছে। আশা করছি ফরিদগঞ্জের পাটচাষীরা অন্তত এই উপজেলায় পাটের আগের অবস্থান ফিরিয়ে আনতে সচেষ্ট হবেন।

কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ২০২৫-২৬ অর্থবছরে খরিপ-১ মৌসুমে কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় আবাদ ও উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে ৩৫০ জন কৃষকের মাঝে আউশ ধান ও পাটের বীজ ও সার এবং উপজেলা পরিষদের অর্থায়নে ২০০ জন কৃষকের মাঝে বিনামূল্যে পাটের বীজ ও সার বিতরণ করা হবে।

আউশ ধানের ক্ষেত্রে প্রতিজন কৃষক ৫ কেজি বীজ, ১০ কেজি ডিএপি, ১০ কেজি পটাশ সার, পাট ফসলের ক্ষেত্রে প্রতিজন ১ কেজি বীজ, ৫ কেজি ডিএপি, ৫ কেজি পটাশ সার সহায়তা পাবেন। উপজেলা পরিষদের অর্থায়নে প্রতিজন পাট চাষী ১ কেজি বীজ, ১০ কেজি ডিএপি, ১০ কেজি পটাশ সার সহায়তা পাবেন।

উল্লেখ্য, সরকার যখন পলিথিনের বিকল্প হিসেবে পাট দিয়ে তৈরি ব্যাগ বাজারে আনার চেষ্টা করছেন। সেখানে কৃষকরা পাটের আবাদ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছিলেন। এই সংক্রান্ত প্রতিবেদন জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকায় প্রতিবেদন প্রকাশের পর উপজেলা কৃষি বিভাগ ও উপজেলা পরিষদ এই বিষয়ে ব্যবস্থাগ্রহণ করে। এরই ফলস্বরূপ পাটের সুদিন ফিরিয়ে আনতে পাটবীজ ও সার বিতরণ কর্মসূচি গ্রহণ করে।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়