বুধবার, ০১ এপ্রিল, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য
ব্রেকিং নিউজ
  •   চাঁদপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাড. সলিম উল্লা সেলিম!

প্রকাশ : ০১ এপ্রিল ২০২৬, ১২:৫৯

রামগঞ্জে জ্বালানি সংকটে সেচ দিতে না পেরে দিশেহারা কৃষক

রামগঞ্জে জ্বালানি সংকটে সেচ দিতে না পেরে দিশেহারা কৃষক
মাসুদ রানা মনি, রামগঞ্জ (লক্ষ্মীপুর) থেকে

লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলায় চলতি বোরো মৌসুমে তীব্র জ্বালানি সংকটে জমিতে সেচ দিতে না পেরে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কৃষকরা। সেচনির্ভর এই মৌসুমে ডিজেল ও বিদ্যুতের অনিয়মিত সরবরাহে ব্যাহত হচ্ছে জমিতে পানি দেয়া। ফলে ইরি, বোরো উৎপাদন নিয়ে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা।

উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, অনেক কৃষক সেচ পাম্প চালাতে প্রয়োজনীয় ডিজেল পাচ্ছে না। আবার কোথাও কোথাও বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে নির্ধারিত সময়েও সেচ দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। এতে জমিতে পানি স্বল্পতা দেখা দিয়েছে, যা ধানের ফলনে বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন কৃষি সংশ্লিষ্টরা।

স্থানীয় কৃষকরা জানান, সময়মতো পানি না পেলে বোরো ধানের ফলন কমে যায় এবং ফসল চিটা হয়ে যায়। কিন্তু জ্বালানি সংকটের কারণে তারা নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী সেচ দিতে পারছেন না। অনেকেই বাধ্য হয়ে বেশি দামে ডিজেল কিনছেন, এতে উৎপাদন খরচ দ্বিগুণ বেড়ে যাচ্ছে।

রামগঞ্জের কৃষক শামসুল আলম, ফয়েজ, হেলালসহ অনেকেই জানান, আগে যেখানে নির্দিষ্ট দামে সহজেই ডিজেল পাওয়া যেতো, এখন সেখানে দুই, তিনগুণ টাকা দিয়েও সময়মতো ডিজেল পাওয়া যাচ্ছে না। এতে আমাদের চাষাবাদ হুমকির মুখে পড়েছে।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে রামগঞ্জে ৩ হাজার ৯১০ হেক্টর জমিতে বোরো চাষ হয়েছে। তবে জ্বালানি সংকট অব্যাহত থাকলে লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ছাব্বির আহমেদ বলেন, কৃষকদের সমস্যার বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে।

এদিকে কৃষকরা দ্রুত সমস্যার সমাধান চান। তাদের দাবি, সেচের জন্যে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং সহজলভ্য দামে ডিজেল সরবরাহ করা। তা না হলে বোরো মৌসুমে বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হতে হবে।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়