প্রকাশ : ২১ অক্টোবর ২০২৬, ২৩:২৩
বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হলো শারদীয় দুর্গোৎসব
চাঁদপুরে আগামীতে কোনো মন্দিরে পুলিশ পাহারা থাকবে না : শেখ ফরিদ আহম্মেদ মানিক এমপি
আনন্দ, উচ্ছ্বাস আর বিদায়ের করুণ সুরে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে চাঁদপুর শহরসহ জেলার বিভিন্ন উপজেলায় বুধবার (২১ অক্টোবর ২০২৬) শেষ হয়েছে হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। রাত ৮টার পর হতে রাত সাড়ে দশটা পর্যন্ত চাঁদপুর জেলা পূজা উদযাপন পরিষদ আয়োজনে এবং চাঁদপুর পৌরসভার সার্বিক সহযোগিতায় চাঁদপুর শহরের ১০নং চৌধুরী ঘাটে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে মর্ত্যলোক থেকে বিদায় নিয়েছেন দেবী দুর্গা। পূজার আনুষ্ঠানিকতা অনুযায়ী, বুধবার সকালে দর্পণ-বিসর্জনের মাধ্যমে দেবীকে বিদায় জানান ভক্তরা। পরে সন্ধ্যা থেকে শুরু হয় প্রতিমা বিসর্জনের বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা।
|আরো খবর
শারদীয় দুর্গোৎসবের প্রতিমা বিসর্জন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও চাঁদপুর জেলা বিএনপির সভাপতি শেখ ফরিদ আহম্মেদ মানিক। জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি সুভাষ চন্দ্র রায়ের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সাধারণ সম্পাদক তমাল কুমার ঘোষ। চাঁদপুর পৌর পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি নেপাল সাহা ও সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. সুমন সরকার জয়ের পরিচালনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমান ও পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নৌ পুলিশ চাঁদপুর অঞ্চলের পুলিশ সুপার সৈয়দ মুশফিকুর রহমান, চাঁদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এসএমএন জামিউল হিকমা ও জেলা আনসার কমান্ডার।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহম্মেদ মানিক বলেন, আগামী বছর থেকে দুর্গোৎসবে কোনো মন্দিরে কোনো পুলিশ পাহারা থাকবে না। শারদীয় দুর্গোৎসবসহ সব ধর্মীয় উৎসব সবার নিজ নিজ আনন্দের ও অনুভূতির জায়গা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সবাই মিলে চাঁদপুরে একসঙ্গে শান্তিতে বসবাস করতে হবে এবং কোনোভাবেই যেনো সম্প্রীতি বিনষ্ট না হয়, সেদিকে সকলকে নজর রাখতে হবে। বিজয়া দশমীর বিসর্জন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই ঘোষণা দেন।
ঘটনার প্রেক্ষাপট তুলে ধরে সংসদ সদস্য বলেন, তিনি যখন কোনো পূজামণ্ডপে পরিদর্শনে যান, তখন রাজনৈতিক নেতা-কর্মী ও আয়োজকরা তাকে ঘিরে রাখেন এবং অনেক সময় পুলিশ পরিস্থিতি সামাল দিতে নিরাপত্তা দেয়। একবার এক তরুণী শিক্ষার্থীকে এক পুলিশ সদস্যের সাথে কথা বলতে দেখে তিনি নিজে দাঁড়িয়ে যান। মেয়েটি তার বাবাকে প্রশ্ন করেছিল, "পুলিশ কেন?" তার বাবা উত্তরে মন্দিরের নিরাপত্তার কথা বললে, মেয়েটি পাল্টা যুক্তি দিয়ে বলেছিলো যে, ঈদের সময় তো কোনো পুলিশ থাকে না। এই ছোট্ট ঘটনাটি তার মনে গভীর রেখাপাত করেছে উল্লেখ করে এমপি শেখ ফরিদ আহম্মেদ মানিক জানান, পরবর্তীতে তিনি জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার মহোদয়কে বলেছেন যে, আগামী বছর থেকে পূজা উদযাপনের সময় কোনো মন্দিরে পুলিশ মোতায়েন থাকবে না। অনুষ্ঠানে তিনি আরও বলেন, ধর্ম যার যার, উৎসব সবার। তাই ভেদাভেদ ভুলে সবাই মিলে একসঙ্গে কাজ করে চাঁদপুরকে এগিয়ে নিতে হবে এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি অটুট রাখতে হবে।
শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সহ-সভাপতি নরেন্দ্র নারায়ণ চক্রবর্তী, পরেশ মালাকার, যুগ্ম সম্পাদক গোপাল সাহা, জেলা জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক কার্তিক সরকার, চাঁদপুর কালীবাড়ি মন্দির দুর্গা কমিটির সভাপতি তাপস চন্দ্র সাহা, চাঁদপুর সদর উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি লক্ষ্মণ চন্দ্র সূত্রধর, সাধারণ সম্পাদক মানিক লাল ঘোষ, জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সদস্য সুজন সরকার, পৌর পূজা কমিটির মহিলা সম্পাদক মাধুুরী সাহা, জাতীয় হিন্দু মহাজোটের সভাপতি রতন কুমার দাস, পালপাড়া প্রতাপ সাহার বাড়ি লোকনাথ মন্দিরের রনজিত রায় মুন্না,
নতুন বাজার ঘোষপাড়া দুর্গাপূজা কমিটির রঞ্জন ঘোষ, রেলওয়ে হরিজন কলোনীর প্রদীপ দাস প্রমুখ।স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পাশাপাশি অন্য ধর্মের অসংখ্য মানুষ এ সম্প্রীতির মিলনমেলায় অংশ নেন। গত ১৬ অক্টোবর ষষ্ঠী তিথিতে চণ্ডীপাঠ, বোধন ও অধিবাসের মধ্য দিয়ে ‘আনন্দময়ীর’ আগমনে শারদীয় দুর্গোৎসবের সূচনা হয়। পরবর্তী ৫ দিন রাজধানীসহ দেশের পূজামণ্ডপগুলোতে পূজা অর্চনার মধ্য দিয়ে ভক্তরা দেবী দুর্গার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। দশমী তিথিতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে এই উৎসব শেষ হয়।







