বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য
ব্রেকিং নিউজ

প্রকাশ : ২০ অক্টোবর ২০২৬, ১৯:০০

নিমিষেই ছাই সব, দু শিশুসন্তানকে নিয়ে খোলা আকাশের নিচে প্রবাসীর স্ত্রী

ফরিদগঞ্জ ব্যুরো।।
নিমিষেই ছাই সব, দু শিশুসন্তানকে নিয়ে খোলা আকাশের নিচে প্রবাসীর স্ত্রী

ফরিদগঞ্জে গভীর রাতে এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে সহায়-সম্বল হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছে একটি প্রবাসীর পরিবার। আগুনে একমাত্র বসতঘরটি পুড়ে ছাই হয়ে যাওয়ায় দুই অবুঝ শিশুকে নিয়ে খোলা আকাশের নিচে দিন কাটাচ্ছেন পপি বেগম নামে এক গৃহবধূ।

সোমবার (১৯ অক্টোবর ২০২৬) রাত ১টার দিকে উপজেলার গোবিন্দপুর উত্তর ইউনিয়নের দক্ষিণ ধানুয়া গ্রামের খাসের বাড়িতে এই মর্মান্তিক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জীবিকার তাগিদে প্রায় এক বছর আগে সৌদি আরবে পাড়ি জমান পপি বেগমের স্বামী মো. রিয়াদ হোসেন। তবে তিনি সেখানে অবৈধভাবে অবস্থান করায় কোনো সুনির্দিষ্ট কাজ বা উপার্জন করতে পারছেন না। এদিকে দেশে ধারদেনা করে দু সন্তানের মাথা গোঁজার ঠাঁই হিসেবে ছোট একটি ঘর নির্মাণ করেছিলেন পপি বেগম। বড় মেয়ে ৭ বছরের ফাতেমা আক্তার স্কুলে ভর্তি হওয়া এবং ছোট ছেলে ৩ বছরের ফারাজ খানকে নিয়ে সীমিত আয়েই চলছিলো তাদের জীবনসংগ্রাম।

ক্ষতিগ্রস্ত পপি বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “সোমবার রাতে শিশুদের খাইয়ে ঘুমিয়ে পড়েছিলাম। রাত ১টার দিকে আগুনের প্রচণ্ড তাপে ঘুম ভেঙে যায়। চারদিকে আগুনের লেলিহান শিখা দেখে সন্তানদের বুকে জড়িয়ে পরনের এক কাপড়ে ঘর থেকে বের হয়ে ডাকচিৎকার করি। ফায়ার সার্ভিস ও প্রতিবেশীরা এসে আগুন নেভালেও আমাদের শেষ সম্বলটুকু রক্ষা করা যায়নি। আমার স্বামী বিদেশে থাকলেও অবৈধ হওয়ায় আয়-রোজগার নেই। এখন অবুঝ সন্তানদের নিয়ে কোথায় থাকবো, কী খাবো—তা ভেবে পাচ্ছি না।”

অগ্নিকাণ্ডের বিষয়ে ফরিদগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের ইনচার্জ মো. কামরুল ইসলাম জানান, খবর পাওয়ার পরপরই ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের সহযোগিতায় আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনেন। তবে তার আগেই কাঠের তৈরি ঘরটি ও ভেতরের মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে যায়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকেই এ অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান শাহ আলম শেখ বলেন, “পরিবারটি একেবারেই অসহায় ও দরিদ্র। বসতঘরটি পুড়ে যাওয়ায় বর্তমানে তারা খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে তাদের তাৎক্ষণিক সহযোগিতার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সমাজের বিত্তবানদেরও এই পরিবারটির পাশে দাঁড়ানোর বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি।”

ফরিদগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেহেদী হাসান মানিক বলেন, “ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটিকে আপাতত প্রয়োজনীয় শুকনো খাবার সরবরাহ করা হচ্ছে। সরকারি নিয়মানুযায়ী আবেদন সাপেক্ষে তাদের পুনর্বাসনে পরবর্তী প্রশাসনিক ব্যবস্থাগ্রহণ করা হবে।”

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়