শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য

প্রকাশ : ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৪৭

তীব্র গ্যাস সংকটে থমকে গেছে জনজীবন

চরম ভোগান্তিতে চাঁদপুরের সিএনজি অটোরিকশা চালকরা

আব্দুল্লাহ আল মামুন
চরম ভোগান্তিতে চাঁদপুরের সিএনজি অটোরিকশা চালকরা

চাঁদপুরে গত কয়েক দিন ধরে তীব্র আকার ধারণ করেছে গ্যাস সংকট। গ্যাসের সরবরাহ না থাকায় জেলার অধিকাংশ সিএনজি ফিলিং স্টেশন বন্ধ হয়ে পড়েছে। চালু থাকা মাত্র দুটি স্টেশনে জ্বালানি নিতে গ্যাসচালিত যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হচ্ছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও চাহিদামতো গ্যাস পাচ্ছেন না চালকরা। এতে ব্যাহত হচ্ছে যাত্রীসেবা, সৃষ্টি হচ্ছে যানজট এবং নষ্ট হচ্ছে মূল্যবান কর্মঘণ্টা। একই সঙ্গে বাসাবাড়িতে গ্যাসের চাপ আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন গৃহিণীরাও।

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর ২০২৬) চাঁদপুর শহরের বাবুরহাট এলাকার শারমিন ফিলিং স্টেশনে সরেজমিনে দেখা যায়, সিএনজি অটোরিকশা, বাস ও মাইক্রোবাসের দীর্ঘ সারি। স্টেশনের আশপাশের সড়ক ছাড়িয়ে যানবাহনের লাইন চলে গেছে কুমিল্লা-চাঁদপুর মহাসড়কে। এতে সড়কে দেখা দিয়েছে তীব্র যানজট এবং ধীরগতিতে চলাচল করছে অন্যান্য যানবাহন।

হাজীগঞ্জ থেকে গ্যাস নিতে আসা এক সিএনজি অটোরিকশা চালক জানান, জ্বালানির জন্য তাকে প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। শুধু স্থানীয় নয়, ফরিদগঞ্জসহ জেলার বিভিন্ন দূরবর্তী এলাকা থেকেও চালকরা এখানে গ্যাস নিতে আসছেন। ফলে একটি ফিলিং স্টেশনকে কেন্দ্র করেই বিশাল জটলা তৈরি হয়েছে।

শুধু অটোরিকশা নয়, গ্যাসচালিত বাস ও মাইক্রোবাসকেও দীর্ঘ সময় অপেক্ষায় থাকতে দেখা গেছে। চাঁদপুর থেকে চলাচলকারী জৈনপুর পরিবহন, জৈনপুর এক্সপ্রেস ও মতলব এক্সপ্রেসসহ বিভিন্ন বাস জ্বালানি সংকটে পড়েছে। এক বাসচালক উদ্বেগের সঙ্গে বলেন, “আমরা চরম সংকটের মধ্যে আছি। দ্রুত সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে পুরো পরিবহন খাত অচল হয়ে পড়বে।”

চালকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকায় তাদের দৈনিক আয় অর্ধেকে নেমে এসেছে। নির্ধারিত সময়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে না পেরে ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ যাত্রীরা। অন্যদিকে সড়কজুড়ে যানবাহনের লাইনের কারণে পথচারী ও স্বাভাবিক যানবাহন চলাচল বিঘ্নিত হচ্ছে।

বাসাবাড়িতে থমকে গেছে রান্না : সংকটের প্রভাব পড়েছে শহরের বাসাবাড়িগুলোতেও। শহরের বিভিন্ন এলাকার গ্রাহকরা জানান, লাইনে গ্যাসের চাপ একদমই কম। দিনে বা রাতে কোনো সময়েই ঠিকমতো চুলা জ্বলছে না। ফলে বাধ্য হয়ে অনেকেই হোটেল থেকে চড়া দামে খাবার কিনে খাচ্ছেন, যা মধ্যবিত্ত পরিবারের দৈনন্দিন খরচ বাড়িয়ে দিয়েছে।

সরবরাহ ঘাটতির কারণ : গ্যাস সরবরাহে বিঘ্নের বিষয়ে বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি সূত্রে জানা যায়, জিটিসিএল-এর মাধ্যমে বিজরা থেকে ফ্লো নিয়ন্ত্রণ করে বর্তমানে ঘণ্টায় ১৮-২০ এমএমএসসিএফডি হারে গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। সরবরাহ করা এই গ্যাস দিয়েই ১৫০ মেগাওয়াট ক্ষমতার একটি বিদ্যুৎকেন্দ্রও সর্বনিম্ন ৩০-৩৫ মেগাওয়াট লোডে সচল রাখা হয়েছে।

বাখরাবাদ সূত্র আরও জানায়, মূল জাতীয় গ্রিড থেকে সরবরাহ কম থাকায় পুরো চাঁদপুর অঞ্চলে স্বল্পচাপ বিরাজ করছে। মূল লাইন থেকে সরবরাহ না বাড়ানো পর্যন্ত এই অবস্থা বজায় থাকতে পারে।

দ্রুত সমাধানের দাবি : স্থানীয় বাসিন্দা ও ভুক্তভোগী চালকদের দাবি, দ্রুত গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করার পাশাপাশি ফিলিং স্টেশনগুলোর আশপাশে যানজট নিরসনে ট্রাফিক পুলিশের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। অন্যথায় সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও চরমে পৌঁছাবে।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়