প্রকাশ : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯:৫৩
ফরিদগঞ্জে ওনুআ স্মৃতি সংসদের মতবিনিময় সভা
ভাঙচুর হওয়া ভাস্কর্যটি দ্রুত পুনঃস্থাপনে ইউএনও ও পৌর প্রশাসকের প্রতি আহ্বান

ফরিদগঞ্জে ওনুআ স্মৃতি সংসদের উদ্যোগে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬) ফরিদগঞ্জ ওয়াপদা ভবনস্থ সংগঠনের কার্যালয়ে এ সভার আয়োজন করা হয়।
সভায় বক্তারা গত ৫ আগস্ট ২০২৪ সালে দুর্বৃত্তদের হাতে ভেঙে ফেলা ‘ওনুআ ভাস্কর্য'টি দ্রুত পুনঃস্থাপনের জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও পৌর প্রশাসকের হস্তক্ষেপ দাবি করেন। তাঁরা জানান, সরকারি অর্থায়নে ইতোমধ্যেই নতুন ভাস্কর্যটি পুনর্নির্মাণ করা হলেও তা স্থাপনে অনাবশ্যক বিলম্ব করা হচ্ছে এবং তা বর্তমানে সংরক্ষিত অবস্থায় রাখা রয়েছে।
সংগঠনের সভাপতি জহিরুল ইসলাম চৌধুরীর সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেন দুলালের পরিচালনায় সভায় বক্তারা স্মৃতি সংসদের ইতিহাস তুলে ধরেন। তারা জানান, ২০০৭ সালে সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণে এলাকার তিন গুণী ব্যক্তিত্ব—নওজোয়ান ওয়ালিউল্লাহ, নুরেজ্জামান ভূঁইয়া ও আইউব আলী খানের নামের আদ্যাক্ষর নিয়ে ‘ওনুআ স্মৃতি সংসদ’ গঠিত হয়। সে সময় সর্বসম্মতিক্রমে জহিরুল ইসলাম চৌধুরীকে সভাপতি ও আলমগীর হোসেন দুলালকে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করা হয়।
বক্তারা উল্লেখ করেন, গত শতাব্দীর শুরুর দিকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জনকারী এই তিন মহৎ প্রাণ ব্যক্তি চাঁদপুর জেলাসহ সংশ্লিষ্ট এলাকায় শিক্ষা বিস্তার, রাজনীতি ও সমাজসেবায় অসামান্য অবদান রাখেন। তাদের স্মৃতি রক্ষা ও নতুন প্রজন্মের সামনে তাঁদের আদর্শ তুলে ধরতে ২০০৮ সালে স্থানীয় টিঅ্যান্ডটি অফিসের সামনে ‘ওনুআ ভাস্কর্য’ স্থাপন করা হয়। ভাস্কর্যটি উদ্বোধন করেন খুলনা চারুকলার তৎকালীন অধ্যক্ষ শেখ সাদী এবং স্মৃতি সংসদ উদ্বোধন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক আকমল হোসেন। এ কার্যক্রমে তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আলীম আক্তার খান, যুগ্ম সচিব খান মো. বেলায়েত হোসেন, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক আমিনুল হক মাস্টার, পৌর চেয়ারম্যান মঞ্জিল হোসেনসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সমর্থন ও সহযোগিতা প্রদান করেন।
সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেন দুলাল সভার তথ্য উপস্থাপন করে বলেন, ২০২৪ সালের ১৮ আগস্ট ভাস্কর্য ভাঙচুরের ঘটনায় ইউএনও বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। পরবর্তীতে পৌর প্রশাসক ও ইউএনও’র লিখিত অনুমোদনের পর সরকারি বরাদ্দে নতুন ভাস্কর্যটি তৈরি করা হয়। কিন্তু রহস্যজনক কারণে তা এখনো স্থাপন না করায় ক্ষোভ প্রকাশ করে অতিদ্রুত তা পুনঃস্থাপনের জোরালো দাবি জানান বক্তারা।
সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন চারণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের সহ-সভাপতি ও গণতান্ত্রিক ঐক্যের সদস্য কামরুজ্জামান ভূঁইয়া (নুরেজ্জামান ভূঁইয়ার ছেলে), আইউব আলী খানের নাতি মামুনুর রশিদ, সাবেক পৌর মেয়র মঞ্জিল হোসেন, গল্লাক ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক শাহ মাহমুদ জুয়েল, ফরিদগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি আবু হেনা মোস্তফা কামাল, সাবেক সভাপতি মামুনুর রশিদ পাঠান, সহ-সভাপতি প্রভাষক মহিউদ্দিন, প্রাক্তন শিক্ষক শামসুল আরেফিন, জাকির হোসেন পাটওয়ারী, হিতেশ শর্মা, আনিসুর রহমান, মমতাজ সরকার, বাবুল পাটওয়ারী, ফরিদ পাঠান, নেছার আহমেদ দেওয়ান ও মোশাররফ হোসেন নান্নু।
এছাড়া সভায় ফরিদগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি নুরুন্নবী নোমান, সাবেক সাধারণ সম্পাদক প্রবীর চক্রবর্তী, সাংস্কৃতিক কর্মী রহিমা আক্তার কলি এবং রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হারুনুর রশিদসহ স্থানীয় রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।








