মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য
ব্রেকিং নিউজ

প্রকাশ : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:২২

ক্রীড়াকণ্ঠের সাথে সাক্ষাৎকারে চাঁদপুর সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ

পুরাতন প্রশাসনিক ভবন ও পুরাতন হোস্টেল ভেঙে কলেজের খেলার মাঠ প্রশস্ত করা যেতে পারে

----প্রফেসর মাসুদুর রহমান

ক্রীড়াকণ্ঠ প্রতিবেদক
পুরাতন প্রশাসনিক ভবন ও পুরাতন হোস্টেল ভেঙে কলেজের খেলার মাঠ প্রশস্ত করা যেতে পারে

চাঁদপুর সরকারি মহিলা কলেজে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রমের পাশাপাশি শারীরিক ও মানসিক বিকাশে খেলাধুলা এবং সাহিত্য-সাংস্কৃতিক চর্চার বর্তমান চিত্র ঠিক কেমন, অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা, মাঠের স্বল্পতা কিংবা ক্রীড়া শিক্ষকের শূন্যতার মাঝেও কীভাবে পরিচালিত হচ্ছে শিক্ষার্থীদের ইনডোর ও আউটডোর গেমস—এসব বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন কলেজের বিজ্ঞ অধ্যক্ষ প্রফেসর মাসুদুর রহমান। ক্রীড়াকণ্ঠের মুখোমুখি হয়ে তিনি কলেজের খেলাধুলার সুযোগ-সুবিধা, সীমাবদ্ধতা ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার নাতিদীর্ঘ বিবরণ তুলে ধরেছেন।

ক্রীড়াকণ্ঠ : চাঁদপুর সরকারি মহিলা কলেজের শতকরা প্রায় ৭৫ ভাগ জায়গাই ভবনে ঢাকা। ভবনগুলো ওঠার আগে যে বড় মাঠ ছিলো, তাতে পর্যাপ্ত খেলাধুলা করা যেতো। বর্তমানে মাঠের যেটুকু অংশ অবশিষ্ট আছে, সেখানে কি কোনো খেলাধুলা হয়?

প্রফেসর মাসুদুর রহমান : সীমিত পরিসরে হলেও খেলাধুলা হয়। বিশেষ করে নিয়মিত ব্যাডমিন্টন এবং বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা উপলক্ষে অ্যাথলেটিকসের বিভিন্ন ইভেন্ট অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে।

ক্রীড়াকণ্ঠ : আপনার কলেজে কি কোনো নিয়মিত ক্রীড়া শিক্ষক আছেন? পদ না থাকলে খেলাধুলার বিষয়টি কারা পরিচালনা করেন?

প্রফেসর মাসুদুর রহমান : আমাদের কলেজে অনুমোদিত কোনো ক্রীড়া শিক্ষকের পদ নেই। তবে খেলাধুলার সার্বিক বিষয়টি তদারকি করেন শিক্ষক প্রতিনিধি জনাব নুরুন্নাহার, জান্নাতুল ফেরদৌস গুলে জান্নাত ম্যাডাম এবং ফাতেমা আক্তার শিল্পী।

ক্রীড়াকণ্ঠ : সাধারণত দেখা যায় ছাত্রীরা আউটডোর গেমসের চেয়ে ইনডোর গেমসের প্রতি বেশি আগ্রহী। আপনার কলেজে টেবিল টেনিস, ক্যারাম, দাবাসহ অন্যান্য ইনডোর গেমসের পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা আছে কি?

প্রফেসর মাসুদুর রহমান : আপনার পর্যবেক্ষণটি সঠিক, আমাদের ছাত্রীরা ইনডোর গেমসে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে। তাদের জন্য ক্যারাম, দাবাসহ বিভিন্ন ইনডোর গেমসের পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা রাখা হয়েছে।

ক্রীড়াকণ্ঠ : হোস্টেলের আবাসিক ছাত্রীদের জন্য সংক্ষিপ্ত পরিসরে ব্যাডমিন্টন কিংবা সাধারণ ছাত্রীদের জন্য হ্যান্ডবল ও ভলিবল আয়োজনের পরিকল্পনা আছে কি? এ বিষয়ে ছাত্রীদের আগ্রহ কেমন?

প্রফেসর মাসুদুর রহমান : হোস্টেলে অবস্থানরত ও কলেজের সাধারণ ছাত্রী—সবার জন্যই ব্যাডমিন্টন খেলার সুব্যবস্থা রয়েছে। তবে হ্যান্ডবল বা ভলিবলের প্রতি ছাত্রীদের তেমন আগ্রহ না থাকায় বর্তমানে সেগুলোর ব্যবস্থা করা হয়নি।

ক্রীড়াকণ্ঠ : আন্তঃশ্রেণি পর্যায়ে কি ইনডোর বা আউটডোর গেমস প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়? এ বিষয়ে কলেজ কর্তৃপক্ষের নতুন কোনো পরিকল্পনা রয়েছে?

প্রফেসর মাসুদুর রহমান : হ্যাঁ, নিয়মিতভাবেই আন্তঃশ্রেণি ইনডোর গেমস প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়ে থাকে।

ক্রীড়াকণ্ঠ : খেলাধুলার পাশাপাশি সাহিত্য-সাংস্কৃতিক কার্যক্রম কেমন চলছে? এ ক্ষেত্রে কোনো প্রতিবন্ধকতা বা বিশেষ সুযোগ দেখছেন কি?

প্রফেসর মাসুদুর রহমান : সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা প্রতিবছরই অত্যন্ত উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে নিয়মিত অনুষ্ঠিত হয়।

ক্রীড়াকণ্ঠ : কলেজের ১২ তলা ভবনের ছাদে কিংবা অন্য কোনো ভবনের ছাদে একটি সুইমিংপুল তৈরি করা গেলে কেমন হতো? এ বিষয়ে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরে কোনো প্রস্তাব পাঠানোর চিন্তাভাবনা আছে?

প্রফেসর মাসুদুর রহমান : ছাদে একটি সুইমিংপুল করা গেলে নিশ্চিতভাবেই চমৎকার হতো। এ বিষয়টি নিয়ে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের সাথে আলোচনা করে একটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রস্তাব পাঠানো যেতে পারে।

ক্রীড়াকণ্ঠ : প্রাইম মিনিস্টার গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টে কি আপনাদের কলেজের কোনো দল অংশ নেবে?

প্রফেসর মাসুদুর রহমান : নারী ফুটবল দল গঠনের লক্ষ্যে আমরা শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নাম আহ্বান করেছিলাম। কিন্তু পর্যাপ্ত সাড়া না পাওয়ায় শেষ পর্যন্ত দল গঠন ও টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ করা সম্ভব হয়নি।

ক্রীড়াকণ্ঠ : কলেজের সামগ্রিক ক্রীড়া পরিবেশ নিয়ে আপনার বিশেষ কোনো বক্তব্য বা দাবি আছে কি?

প্রফেসর মাসুদুর রহমান : চাঁদপুর সরকারি মহিলা কলেজের ছাত্রীদের পর্যাপ্ত আউটডোর গেমসের অনুশীলনের জন্য একটি বড় মাঠ অত্যন্ত জরুরি। সে লক্ষ্যে পুরাতন প্রশাসনিক ভবন ও পুরাতন হোস্টেল ভেঙে মাঠের পরিধি প্রসারিত করা যেতে পারে।

ক্রীড়াকণ্ঠ : মূল্যবান সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

প্রফেসর মাসুদুর রহমান : ক্রীড়াকণ্ঠকেও ধন্যবাদ।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়