প্রকাশ : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১:১২
ফরিদগঞ্জে সরকারি খাল দখল করে ভবন নির্মাণ

ফরিদগঞ্জ উপজেলার গোবিন্দপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের গোয়ালভাওড় বাজারে সরকারি খাল দখল করে ভবন নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। খালের প্রবাহ রোধ করে বহুতল ভবন নির্মাণ করায় সংকুচিত হয়ে পড়েছে পানি চলাচলের পথ। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই সৃষ্টি হচ্ছে তীব্র জলাবদ্ধতা, আর এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
|আরো খবর
সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, গোয়ালভাওড় বাজারের বালুর মাঠ সংলগ্ন সরকারি খালের ওপর ভবনের দেয়াল তৈরি করা হয়েছে। একসময় খালটি ১৪ ফুট প্রশস্ত থাকলেও দখলের কারণে তা সংকুচিত হয়ে ৩ থেকে ৪ ফুটে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে বৃষ্টির পানি ও সেচের পানি নিষ্কাশন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
ইউনিয়ন ভূমি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ৮০৮৭ ও ৮০৮৮ নম্বর দাগে সরকারের প্রায় ১১ শতাংশ জমি রয়েছে। এর পাশেই ৮৪২৭ ও ৮৪২৮ নম্বর দাগে গনি খন্দকার, সিরাজ খন্দকার ও টেলু খন্দকারের ব্যক্তিমালিকানাধীন সম্পত্তি। তবে অভিযোগ উঠেছে, নিজস্ব সীমানা ছাড়িয়ে তারা সরকারি সম্পত্তি ও খালের জায়গা দখল করে ইমারত নির্মাণ করছেন।
স্থানীয় অধিবাসীদের অভিযোগ, খালটি দিন দিন ভরাট ও দখল হয়ে যাওয়ায় ওই এলাকার পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। বর্ষা মৌসুমে তাঁদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। তবে সরকারি সম্পত্তি দখলের অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত টেলু খন্দকার বলেন, "আমরা নিজেদের জায়গাতেই ভবন নির্মাণ করছি। ভূমি অফিসের লোকজন মেপে সীমানা নির্ধারণ করে দিয়েছেন। তদন্তে যদি এটি সরকারি জায়গা প্রমাণিত হয়, তবে আমরা তা ছেড়ে দেব।"
এ বিষয়ে গোবিন্দপুর দক্ষিণ ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা সৈয়দ আহমেদ জানান, সরকারি জমি দখলের খবর পেয়ে প্রাথমিক তদন্ত শেষে নির্মাণকাজ বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের পরামর্শ অনুযায়ী পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অন্যদিকে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এআরএম জাহিদ হাসান বলেন, "তদন্তে অভিযোগের সত্যতা মিললে উচ্ছেদ মামলা রুজু করে খাস জমি উদ্ধার ও অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হবে।"








