প্রকাশ : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮:০৪
শ্রীনগরে বিলুপ্তির পথে মাটির হাঁড়ি-পাতিল

মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার বাঘড়া, ভাগ্যকুলসহ বিভিন্ন কুমারপাড়ায় একসময় কাদা-মাটি দিয়ে তৈরি হতো হরেক রকমের হাঁড়ি-পাতিল ও শিশুদের খেলনা। একসময় গ্রামাঞ্চলের গৃহবধূরা নিয়মিতই এসব মাটির হাঁড়িতে ভাত, মাছ ও সবজি রান্না করতেন। শিশুদের জন্য তৈরি করা হতো মাটির হাঁড়ি-পাতিল ও পুতুল, যা নিয়ে আনন্দে মেতে উঠতো তারা। এমনকি সঞ্চয়ের উদ্দেশ্যে গ্রামের মানুষ মাটির ব্যাংকেই জমা করতেন তাঁদের জমানো টাকা।
কুমাররা হাড়ভাঙা খাটুনি দিয়ে এসব সামগ্রী তৈরি করতেন। আর প্রয়োজন অনুযায়ী ক্রেতারা নিজেরাই ছুটে যেতেন কুমারপাড়ায়। তা ছাড়া স্থানীয় হাট-বাজার এবং বিভিন্ন মেলাতেও ব্যাপকভাবে বিক্রি হতো মাটির তৈরি জিনিসপত্র। তবে কালের পরিক্রমায় ও আধুনিক সামগ্রীর ভিড়ে মাটির হাঁড়ি-পাতিলের স্থান দখল করে নিয়েছে প্লাস্টিক, অ্যালুমিনিয়াম ও স্টিলের তৈরি বাসনকোসন। গৃহস্থালিতে ব্যবহার কমে যাওয়ায় ঐতিহ্যবাহী এই মৃৎশিল্প আজ বিলুপ্তির পথে।
বর্তমানে গুটিকয়েক স্থানে কেবল নির্দিষ্ট কিছু কাজে মাটির হাঁড়ির ব্যবহার টিকিয়ে রাখা হয়েছে। ব্যবসায়ীরা সেসব স্থান থেকে হাঁড়ি কিনে এনে বাজারে বিক্রি করেন, এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি চাহিদা রয়েছে দইয়ের হাঁড়ির। গ্রামাঞ্চলে বিয়ের অনুষ্ঠানে অতিথিদের আপ্যায়নে মিষ্টি ও দই পরিবেশন করা একটি চিরাচরিত রীতি, আর সেই দই বসাতে প্রয়োজন হয় মাটির হাঁড়ি। তাই বিয়ের বর-কনে পক্ষকে এখনো বাজারে মাটির হাঁড়ির দোকানে ছুটতে দেখা যায়। বাজারের মৃৎপণ্যের দোকানগুলোতেও এখন শুধু এসব নির্দিষ্ট চাহিদার হাঁড়িই সীমিত পরিসরে সাজিয়ে রাখতে দেখা যায়।








