প্রকাশ : ০৫ আগস্ট ২০২৬, ১৫:৫৭
হাজীগঞ্জে যুবধারা'র সংবাদ সম্মেলন
সমিতির টাকা দ্বিগুণ ফিল্ডে আছে, সুযোগ দিলে সবার দেনা পরিশোধ করবেন চেয়ারম্যান

যুবধারা সঞ্চয় ও ঋণদান সমবায় সমিতি সংবাদ সম্মেলন করেছে। সমিতির সকল শাখার গ্রাহকদের অবগতির জন্যে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন চেয়ারম্যান জুলহাস মিয়া। বুধবার (৫ আগস্ট ২০২৬) হাজীগঞ্জ প্রেসক্লাবে ক্লাবের সভাপতি খালেকুজ্জামান শামীমের সভাপতিত্বে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জুলহাস মিয়া জানান, "গ্রাহকদের যে পরিমাণ টাকা আমার কাছে রয়েছে, তার চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ টাকা ব্যবসায়ীদের কাছে ঋণ বাবদ জমা আছে। কার্যক্রম বন্ধ থাকায় ব্যবসা রানিং করা সম্ভব হচ্ছে না। আমাকে আপনারা সময় ও সুযোগ দিলে আমি কাজ শুরু করবো, আর যাদের টাকা আমার কাছে রয়েছে তা ধীরে ধীরে পরিশোধ করতে পারবো। আমাকে সহযোগিতা করে ব্যবসা চালু করার সুযোগ দিলে সবার দেনা পরিশোধ করতে পারবো ইনশাআল্লাহ।"
|আরো খবর
লিখিত বক্তব্যে জুলহাস মিয়া আরো জানান, "প্রিয় সাংবাদিক বন্ধুগণ, যুবধারার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পরিচালনা কমিটির এম. এ. নাফের শাহ্, খোরশেদ আলম (দুলাল মাস্টার) ও শাহজাহান মাস্টার ইন্তেকাল করেছেন। উনাদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে বলছি, ২০০৪ সাল থেকে যুবধারা নামে একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সেলাই, মৎস্য, গবাদি পশু, হাঁস-মুরগি চাষাবাদ ও প্রশিক্ষণ শুরু করি। পরবর্তীতে উপজেলা সমবায় অফিস থেকে রেজিস্ট্রেশন নিয়ে ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম শুরু করি। এরপর থেকে দীর্ঘদিন সুনামের সাথে পরিচালনা করে আসছি এবং সরকারি ও বেসরকারিভাবে বিভিন্ন পুরস্কার অর্জন করেছে সমিতি। ২০২৩ সালে বাকিলা অফিসের কিছু অসাধু কর্মকর্তা ও কর্মচারী সদস্যদের কাছ থেকে টাকা সংগ্রহ করে অফিসে জমা না দিয়ে আত্মসাৎ করে। পরবর্তীতে প্রতিষ্ঠানটি তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থাগ্রহণ করে। এই খবর গ্রাহক ও সদস্যদের মাঝে ছড়িয়ে পড়লে তারা টাকা উত্তোলনের জন্যে একত্র হয়ে চাপ সৃষ্টি করে। এতে কালেকশন কমে যায় এবং অনেকে কিস্তির টাকা দেওয়া বন্ধ করে দেয়। ফলে গ্রাহকদের সঞ্চয়ের টাকা ও অন্যান্য টাকা ফেরত দিতে প্রতিষ্ঠানকে বেগ পেতে হয়।"
তিনি আরো বলেন, "এই সমস্যাগুলো কাটিয়ে ওঠার আগেই ৫ আগস্ট ২০২৪ সালে সরকার পতনের পর টাকা উত্তোলনের চাপ বহুগুণ বেড়ে যায়। একই সময়ে সদস্যরা সম্পূর্ণ কিস্তি দেওয়া বন্ধ করে দেয়। মূলত তারপরেই প্রতিষ্ঠানটি আরো ঝুঁকির মধ্যে পড়ে। এতে পরিচালকগণ তাঁদের ব্যক্তিগত তহবিল থেকে প্রতিষ্ঠানে টাকা প্রদান করেন। তাতেও ঝুঁকি না কমে আরো বহুগুণ বেড়ে যায়। প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ হওয়ার উপক্রম দেখে আমি ব্যক্তিগত সম্পত্তি বিক্রি করে এবং নিজ বাড়ি ব্যাংকে বন্ধক রেখে ২ কোটি টাকা লোন নিয়ে প্রতিষ্ঠানের সদস্যদের যতটুকু দেওয়া সম্ভব দিয়েছি। কিন্তু দুঃখের বিষয়, কিছু চক্রান্তকারী প্রতিহিংসাপরায়ণ হয়ে প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করার লক্ষ্যে এবং আমাকে নিঃশেষ করার জন্যে চক্রান্ত শুরু করে। তারই সূত্র ধরে হঠাৎ করে কিছু লোক অফিস ভাংচুর করে কম্পিউটারসহ অন্যান্য মালামাল নিয়ে যায় এবং আমার কর্মকর্তাদের মারধর করে। তারপর আমি কোনো উপায় না পেয়ে উপজেলা ও জেলা কর্মকর্তাদের অবহিত করি। নিজে বাঁচার জন্য ৯৯৯-এ ফোন দিয়ে সাহায্য চাই। পরের দিন পরিচালকসহ আমরা অফিসের কর্মকর্তাদের নিয়ে এসব বিষয়ে মিটিং করি। এর ২-৩ দিন পর কিছু স্থানীয় পত্রিকায় সংবাদ আসে—‘যুবধারা ও জুলহাস মিয়া পালিয়ে গেছে’। এই কথা জানাজানি হলে সদস্যদের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরের দিন সদস্যরা এসে অফিসে ভাংচুর করে এবং তালা ঝুলিয়ে দেয়। তারপর থেকে আমরা আর অফিস খুলতে পারি নাই। এতে সদস্যরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এবং প্রতিষ্ঠানও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।"
বক্তব্যের শেষে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, "যুবধারা ছিল, যুবধারা আছে, যুবধারা থাকবে। সদস্যদের টাকার চেয়ে প্রতিষ্ঠানের টাকা অনেক গুণ বেশি ফিল্ডে আছে। এখন আমরা সদস্যদের ও সকলের সহযোগিতা পেলে অফিস খুলে টাকা কালেকশন করে সদস্যদের উত্তোলন প্রদান করতে পারব। আপনারা আমাদের প্রতিষ্ঠানের প্রতি আস্থা ও বিশ্বাস রাখুন, আমি আপনাদের আমানতের খেয়ানত করব না, ইনশাআল্লাহ। আপনাদের সকলকে ধন্যবাদ, আসসালামু আলাইকুম।"
যুগ্ম সম্পাদক পাপ্পু মাহমুদের সঞ্চালনায় এতে হাজীগঞ্জের বিভিন্ন নিউজ পোর্টাল, জাতীয় ও স্থানীয় দৈনিক পত্রিকার সাংবাদিকগণ এবং প্রেসক্লাবের সকল সদস্য উপস্থিত ছিলেন।








