বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য
ব্রেকিং নিউজ

প্রকাশ : ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ০১:৩২

বর্ষবরণে গান গেয়ে মন জয় করলেন জেলা প্রশাসক

স্টাফ রিপোর্টার
বর্ষবরণে গান গেয়ে মন জয় করলেন জেলা প্রশাসক

চাঁদপুরে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপন উপলক্ষে অনুষ্ঠিত হয়েছে বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক আয়োজন। জেলার অন্যতম প্রাচীন ও শুদ্ধ সংস্কৃতি চর্চার প্রতিষ্ঠান ‘সংগীত নিকেতন’-এর উদ্যোগে এক সমৃদ্ধ আয়োজন মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল ২০২৬) ভোর থেকেই উৎসবমুখর পরিবেশে শুরু হয়, যেখানে নানা আয়োজনে অংশ নিয়ে দর্শনার্থীরা উপভোগ করেন বাঙালির ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতির রঙিন রূপ

সকাল সাতটায় সংগীত নিকেতনের নিজস্ব মিলনায়তনে শুরু হয় বর্ষবরণের মূল অনুষ্ঠান। প্রভাতী আয়োজনের শুরুতেই ছিলো সঙ্গীত পরিবেশনা, যা এক অনন্য আবহ সৃষ্টি করে। অনুষ্ঠানের প্রধান আকর্ষণ হয়ে ওঠেন চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমান, যিনি নিজ কণ্ঠে রবীন্দ্র সংগীত পরিবেশন করে উপস্থিত দর্শকদের মুগ্ধ করেন।

তার পরিবেশনায় মিশে ছিলো দেশাত্মবোধ, সংস্কৃতির প্রতি ভালোবাসা এবং ব্যক্তিগত আবেগ, যা মুহূর্তেই দর্শকদের হৃদয়ে স্থান করে নেয়। তিনি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এবং বাংলা নববর্ষের তাৎপর্য তুলে ধরে বক্তব্য দেন।

তিনি বলেন, আমাদের নিজস্ব সংস্কৃতি চর্চার বাইরে কোনো বিকল্প নেই। এই সংস্কৃতিই আমাদের পরিচয়, আমাদের শেকড়, আবহমান বাংলার চিরায়ত রূপ, সম্প্রীতির বন্ধন। এ ঐতিহ্য ধরে রেখে আমাদের সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে। তিনি আরও বলেন, নববর্ষের এই উৎসব কেবল আনন্দের নয়, এটি জাতিগত ঐক্য ও সম্প্রীতির এক অনন্য প্রতীক।

তিনি চাঁদপুরকে ইলিশের বাড়ি হিসেবে খ্যাত উল্লেখ করে জেলার ঐতিহ্য, সংস্কৃতি এবং মানুষের আন্তরিকতার ভূয়সী প্রশংসা করেন। তাঁর মতে, চাঁদপুরের সংস্কৃতি চর্চা দেশের অন্যান্য জেলার জন্যে অনুকরণীয় হতে পারে।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সংগীত নিকেতনের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ফারুক আহম্মদ। তিনি সংগঠনের দীর্ঘদিনের পথচলা এবং সংস্কৃতি চর্চার ধারাবাহিকতা তুলে ধরেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চাঁদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জামিউল হিকমা সজীব এবং জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার সাজিদ হক। তাঁরা উভয়েই এমন উদ্যোগকে সাধুবাদ জানান।

অনুষ্ঠান উপস্থাপনায় ছিলেন সংগীত নিকেতনের প্রশিক্ষক বিমল দে, যিনি তার প্রাণবন্ত উপস্থাপনায় পুরো অনুষ্ঠানকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলেন। সমাপনী বক্তব্যে সংগীত নিকেতনের অধ্যক্ষ বিচিত্রা সাহা উপস্থিত সবাইকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি বলেন, সংগীত নিকেতন সবসময় শুদ্ধ সংস্কৃতি চর্চার মাধ্যমে সমাজে ইতিবাচক প্রভাব বিস্তারে কাজ করে যাচ্ছে।

পুরো আয়োজন জুড়ে ছিলো সঙ্গীত, নৃত্য, কবিতা আবৃত্তি এবং চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা। ছোট ছোট শিশু থেকে শুরু করে তরুণ-তরুণীরা অংশ নেয় এসব প্রতিযোগিতায়। বিজয়ীদের মাঝে ক্রেস্ট ও সনদপত্র বিতরণ করা হয়, যা তাদের উৎসাহ ও অনুপ্রেরণা জোগায়।

সংগীত নিকেতনের বিভিন্ন বিভাগের প্রশিক্ষকরা পুরো আয়োজন সফল করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় অনুষ্ঠানটি হয়ে ওঠে প্রাণবন্ত ও সুশৃঙ্খল

সার্বিকভাবে সকাল সাতটা থেকে শুরু হয়ে দুপুর একটা পর্যন্ত চলা এ আয়োজন ছিলো এক স্মরণীয় অভিজ্ঞতা। নতুন বছরের প্রথম দিনটি তারা উদযাপন করেন আনন্দ, উচ্ছ্বাস এবং সংস্কৃতির গভীর আবেগে।

বাংলা নববর্ষের এই আয়োজন প্রমাণ করেছে, যতোই আধুনিকতার ছোঁয়া আসুক না কেন, বাঙালি তার শেকড় ও সংস্কৃতিকে ভুলে যায়নি। বরং নতুন উদ্যমে তা লালন করছে, যা ভবিষ্যতের জন্যে এক আশাব্যঞ্জক বার্তা বহন করে।

ডিসিকে/ এমজেডএইচ

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়