শুক্রবার, ০৭ আগস্ট, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য
ব্রেকিং নিউজ

প্রকাশ : ০৭ আগস্ট ২০২৬, ০১:৫৭

স্থানীয় সরকার নির্বাচন : সম্ভাব্য প্রার্থীর মুখোমুখি—৫২

রাধাসার গ্রামকে মাদক ও জুয়ামুক্ত একটি আদর্শ ওয়ার্ড হিসেবে গড়ে তোলাই আমার মূল লক্ষ্য

—------ শাহাদাত পাঠান

জসিম উদ্দিন (হৃদয়)
রাধাসার গ্রামকে মাদক ও জুয়ামুক্ত একটি আদর্শ ওয়ার্ড হিসেবে গড়ে তোলাই আমার মূল লক্ষ্য

হাজীগঞ্জ উপজেলার ২ নং বাকিলা ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ডের (রাধাসার) আসন্ন নির্বাচনে সদস্য (মেম্বার) পদপ্রার্থী হিসেবে আলোচনায় আছেন বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান শাহাদাত পাঠান। পারিবারিক ঐতিহ্য ও রাজনৈতিক আদর্শকে ধারণ করে দীর্ঘ দিন ধরে তিনি স্থানীয় সাধারণ মানুষের সেবাসামাজিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত রয়েছেন। হাজীগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক এই ছাত্রনেতা বর্তমানে ইউনিয়ন যুবদলের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন। বিগত নির্বাচনে জনরায় পাওয়া সত্ত্বেও রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হওয়া এই প্রার্থী এবারও নিজের গ্রামের অধিকারসেবা নিশ্চিত করতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। সম্প্রতি তাঁর নির্বাচনী ভাবনা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে মুখোমুখি হয়েছেন 'চাঁদপুর কণ্ঠ'-এর।

চাঁদপুর কণ্ঠ : আপনি কেন সদস্য (মেম্বার) পদে নির্বাচন করছেন? আপনার পরিচিতি সম্পর্কে কিছু বলুন।

শাহাদাত পাঠান : আমি একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান এবং আমার পিতা আব্দুর রাজ্জাক পাঠান । পারিবারিক ঐতিহ্য ও রাজনৈতিক আদর্শ থেকেই আমার রাজনীতিতে আসা। আমি হাজীগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক ছাত্রনেতা এবং বর্তমানে ২ নং বাকিলা ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি। রাজপথের আন্দোলনে ও জনগণের অধিকার আদায়ে যুক্ত থাকতে গিয়ে বিভিন্ন সময় আমি রাজনৈতিক হয়রানির শিকার হয়েছি । বিগত নির্বাচনে জনগণের রায়ে আমি জয়ী হলেও অন্যায়ভাবে সেই বিজয় ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছিল । মূলত আমার প্রিয় রাধাসার গ্রামের মানুষের ন্যায্য অধিকারসেবা নিশ্চিত করতেই আমি পুনরায় প্রার্থী হয়েছি ।

চাঁদপুর কণ্ঠ : নির্বাচিত হলে আপনার ওয়ার্ডের জন্য প্রথম তিনটি অগ্রাধিকারমূলক কাজ কী হবে?

শাহাদাত পাঠান : নির্বাচিত হলে আমার প্রধান তিনটি অগ্রাধিকারমূলক কাজ হবে : ১. সামাজিক ব্যাধি দূরীকরণ : রাধাসার ওয়ার্ডকে সম্পূর্ণরূপে জুয়া, মাদক ও ইভটিজিং মুক্ত একটি নিরাপদ এলাকা হিসেবে গড়ে তোলা। ২. ঐতিহ্যবাহী বাজারের পুনরুজ্জীবন : অবহেলিত ও বিলুপ্তপ্রায় 'ফকির সাহেব বাজার'-এর পুরানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে এনে সেখানে নিয়মিত সাপ্তাহিক হাট চালু করা। ৩. অবকাঠামোগত উন্নয়ন :ওয়ার্ডের রাস্তাঘাট ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার আধুনিকায়নসহ সার্বিক জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে সততার সাথে কাজ করা।

চাঁদপুর কণ্ঠ : আপনার ওয়ার্ডের সবচেয়ে বড় সমস্যা কী এবং তা সমাধানে আপনার পরিকল্পনা কী?

শাহাদাত পাঠান : আমাদের ৪ নং ওয়ার্ডের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো ঐতিহ্যবাহী 'ফকির সাহেব বাজার' আজ বিলীন হওয়ার পথে । একসময় যা এই এলাকার অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র ছিল, আজ সঠিক তদারকি ও উদ্যোগের অভাবে তা স্থবির হয়ে পড়েছে। আমার পরিকল্পনা হলো, নির্বাচিত হওয়ার সাথে সাথেই স্থানীয় ব্যবসায়ী ও মুরুব্বিদের নিয়ে এই বাজারের সীমানা নির্ধারণ, পরিবেশ উন্নয়ন এবং অবকাঠামো সংস্কার করা । প্রশাসনিক ও স্থানীয় সহযোগিতায় ঐতিহ্যবাহী সাপ্তাহিক হাট পুনরায় চালু করে এলাকার আর্থ-সামাজিক গতিশীলতা ফিরিয়ে আনাই আমার লক্ষ্য ।

চাঁদপুর কণ্ঠ : ভোটাররা কেন অন্য প্রার্থীদের বাদ দিয়ে আপনাকেই ভোট দেবেন বলে আপনি মনে করেন?

শাহাদাত পাঠান : একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হিসেবে দেশপ্রেম ও নীতি-নৈতিকতাই আমার মূল ভিত্তি । আমি কোনোদিন অন্যায়ের সাথে আপস করিনি এবং জুলুম-হয়রানির শিকার হয়েও সাধারণ মানুষের ভালোবাসা থেকে বিচ্যুত হইনি । বিগত নির্বাচনেও জনগণ আমাকে বিপুল ভোটে বিজয়ী করেছিল । এলাকার প্রতিটি মানুষ জানে আমি সুখে-দুঃখে তাঁদের পাশে ছিলাম এবং ভবিষ্যতেও থাকব । আমার সততা, ত্যাগের ইতিহাস এবং এলাকার উন্নয়নের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার ওপর আস্থা রেখেই ভোটাররা আমাকে তাঁদের মূল্যবান ভোট দেবেন বলে আমি বিশ্বাস করি ।

চাঁদপুর কণ্ঠ : পরিশেষে ভোটারদের উদ্দেশ্যে আপনার কিছু বলার আছে?

শাহাদাত পাঠান : আমি রাধাসার গ্রামের সকল সম্মানিত ভোটার, মুরুব্বি ও যুবসমাজের কাছে বিনীত আহ্বান জানাব—আপনারা সঠিক ও সৎ প্রতিনিধি নির্বাচনে এগিয়ে আসুন এবং ঘুণে ধরা সমাজটাকে রক্ষা করুন । অতীতে আমার ওপর যে অন্যায় হয়েছে, ব্যালটের মাধ্যমে তার জবাব দেওয়ার এবং ওয়ার্ডের প্রকৃত উন্নয়নের চাবিকাঠি এখন আপনাদের হাতে । আমাকে একটিবার আপনাদের সেবা করার সুযোগ দিলে আমি রাধাসার গ্রামকে একটি আদর্শ ও অপরাধমুক্ত ওয়ার্ড হিসেবে গড়ে তুলব, ইনশাআল্লাহ । ডিসিকে/ এমজেডএইচ

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়