প্রকাশ : ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ০১:৩০
স্থানীয় সরকার নির্বাচন : সম্ভাব্য প্রার্থীর মুখোমুখি-২১
মাঠ পর্যায়ে আমার সবকিছু গোছানো, ইনশাআল্লাহ শতভাগ আশাবাদী আমি দলীয় সমর্থন পাবো
....................মো. শাহজালাল মিশন

৯০-এর স্বৈরাচারবিরোধী গণঅভ্যুত্থান এবং ২৪-এর ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের সম্মুখ যোদ্ধা, ছাত্রদল থেকে উঠে আসা এবং যুবদলের মাধ্যমে বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয়, বর্তমানে চাঁদপুর সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. শাহজালাল মিশন। এমন নেতার উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার বিষয়টি স্থানীয় রাজনীতিতে বেশ আলোচিত।
|আরো খবর
চাঁদপুর সদর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. শাহজালাল মিশন গণতন্ত্রের জন্যে আন্দোলন করতে গিয়ে জেল-জুলুম-মামলা- হামলার শিকার হয়েছেন। জেলও খেটেছেন। ছিলেন চাঁদপুর সরকারি কলেজ ছাত্র সংসদের নির্বাচিত ভিপি। এরপর ক্রমান্বয়ে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল চাঁদপুর জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক, জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক, চাঁদপুর সদর উপজেলা বিএনপির দুবারের আহ্বায়কের দায়িত্ব পালনশেষে বর্তমানে চাঁদপুর সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি চাঁদপুর জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদেও রয়েছেন। এক সাক্ষাৎকারে চাঁদপুর কণ্ঠের পক্ষ থেকে দেয়া প্রশ্নগুলোর জবাবে তিনি বলেছেন খোলামেলা কথা, যা নিচে হুবহু তুলে ধরা হলো।
চাঁদপুর কণ্ঠ : আপনি স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ইচ্ছা আছে কিনা?
মো. শাহজালাল মিশন : আমি ১৯৮৬ সাল থেকে ৪১ বছর যাবত বিএনপির রাজনীতি করি। ছাত্রদল, যুবদল এবং ধাপে ধাপে সদর ও জেলা বিএনপি; এ পর্যন্ত আসায় জনগণ চাচ্ছে আমি যাতে সদর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হই। এখন দলীয় সিদ্ধান্ত পেলে আমি জনগণের সে আশা পূরণ করবো। নির্বাচনে জনগণের রায় আমার পক্ষে পাবো আশা করছি।
চাঁদপুর কণ্ঠ : অতীতে কি কখনও নির্বাচনে অংশ নিতে চেয়েছিলেন বা নিয়েছিলেন?
মো. শাহজালাল মিশন : হ্যাঁ। আমি এর আগেও চাঁদপুর পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে দলীয় মনোনয়ন চেয়েছিলাম। পরে যদিও দলীয় সিদ্ধান্ত মেনে আর নির্বাচন করা হয়নি। তবে এখন দলীয় সকল দিকের বিবেচনা আমার পক্ষে পাবো বলেই প্রত্যাশা রাখি।
চাঁদপুর কণ্ঠ : আপনি কি প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে দলীয় সমর্থন বা মনোনয়ন প্রত্যাশা করেন? না নির্দলীয়ভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চান?
মো. শাহজালাল মিশন : স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীক তুলে দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। সুতরাং দলীয়ভাবে প্রত্যক্ষ মনোনয়ন হবে কিনা জানি না। তবে আমি যেহেতু সক্রিয়ভাবে একটি রাজনৈতিক দলের সাথে জড়িত এবং নেতৃত্ব দেই, সেহেতু দলের প্রত্যক্ষ হোক আর পরোক্ষ হোক মনোনয়ন প্রত্যাশা করি। বিশেষ করে দল এবং আমাদের মাননীয় সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহম্মেদ মানিক ভাইয়ের সিদ্ধান্তের জন্যে অপেক্ষা করবো। তিনি যে সিদ্ধান্ত দেবেন আমি দলের একজন কর্মী হিসেবে তা-ই মেনে নেবো। আমার সবকিছু মাঠ পর্যায়ে গোছানো। ইনশাল্লাহ শতভাগ আশাবাদী আমি দলীয় সমর্থন পাবো।
চাঁদপুর কণ্ঠ : নির্বাচনে নিতান্তই জনপ্রিয়তা যাচাই করার জন্যে বা কেবল পরিচিতি লাভের জন্যে প্রার্থী হতে চান? না বিজয়ী হবার মানসে আঁটঘাঁট বেঁধে নেমেছেন বা নামবেন?
মো. শাহজালাল মিশন : বিরোধীদের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে মানুষের সেবা করার দল বিএনপির রাজনীতির সাথে আমি সক্রিয়ভাবে জড়িত। উপজেলার তৃণমূলের সাথে আমার গভীর সম্পর্ক। দলীয় সকল নির্বাচনসহ সাংগঠনিক সব বিষয়েই প্রত্যেকটি ইউনিয়নসহ ওয়ার্ডে আমার ব্যাপক পদচারণা রয়েছে। আমার বিশ্বাস, জনপ্রিয়তায় আমি এগিয়ে। রাজনৈতিক পরিসর ছাড়াও সাধারণ জনগণের সাথে আমার হৃদয়ের সম্পর্ক রয়েছে। দীর্ঘদিন থেকে রাজনীতির বাইরেও আমি বিভিন্ন সামাজিক কাজে জড়িত থাকায় বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষের সাথেও আমার ভালো সম্পর্ক রয়েছে। সুতরাং জনপ্রিয়তা যাচাই কিংবা পরিচিতির প্রশ্নই ওঠে না। নির্বাচন করলে আমি বিজয়ের জন্যেই নির্বাচনে অংশ নেবো।
চাঁদপুর কণ্ঠ : নির্বাচনকেন্দ্রিক আপনার পরিকল্পনা কী? সমাজসেবামূলক কাজ কতোটুকু করতে পেরেছেন বা করবেন? ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়েছেন তথা গণসংযোগ শুরু করেছেন?
মো. শাহজালাল মিশন : আমি উপজেলা বিএনপির দীর্ঘ সময়ের দায়িত্বে রয়েছি। দলীয় দায়িত্ব পালনের খাতিরেই আমি জনগণের পাশে ছিলাম। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও প্রত্যন্ত অঞ্চলে ব্যাপক গণসংযোগ করেছি। সাংগঠনিক কাজেই নিয়মিত জনগণের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে চলছি। জনসেবা বলতে আমি ছোটবেলা থেকেই অবহেলিত ও দুঃখী মানুষের পাশে রয়েছি। এখনও তা অব্যাহত আছে। অসহায় মানুষের সকল ডাকেই সাধ্যানুযায়ী নিয়মিত সাড়া দিয়ে আসছি। জনসেবা আর মানুষের কল্যাণে কাজ করার মানসেই উপজেলা নির্বাচনে অংশ নেয়ার ইচ্ছা পোষণ করছি।
চাঁদপুর কণ্ঠ : নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে হবে বলে আপনি আশাবাদী? নির্বাচনের সুষ্ঠুতার বিষয়ে আপনার কোনো পরামর্শ আছে কি?
মো. শাহজালাল মিশন : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রমাণ করেছে পেশী শক্তি নয়, এখন নির্বাচন হবে জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন। নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে বলে আমার দৃঢ় বিশ্বাস। আর পরামর্শ হচ্ছে : কেউ যাতে কোনোভাবে প্রভাব বিস্তার করতে না পারে, সেদিকে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখা।
চাঁদপুর কণ্ঠ : এলাকার উন্নয়নে আপনি ভোটারদের উদ্দেশ্যে কোনো প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করতে চান?
মো. শাহজালাল মিশন : প্রিয় চাঁদপুর সদর উপজেলাবাসী যদি নির্বাচনে তাদের মূল্যবান রায় আমাকে দেন, ইনশাআল্লাহ আমি দলমতের ঊর্ধ্বে উঠে জনগণের সেবক হয়ে কাজ করবো। একেবারে গ্রামীণ পর্যায় থেকে যোগাযোগ ব্যবস্থা, বিশুদ্ধ পানির সমস্যা এবং জলাবদ্ধতা নিরসনে প্রয়োজনীয় ড্রেনেজ ব্যবস্থা মাননীয় সংসদ সদস্যের সহযোগিতায় সমাধান করে একটি সুন্দর উপজেলা হিসেবে চাঁদপুর সদরকে দেশবাসীর সামনে তুলে ধরবো।
চাঁদপুর কণ্ঠ : আপনার শিক্ষাজীবন ও পারিবারিক পরিচিতি তুলে ধরুন।
মো. শাহজালাল মিশন : আমি একাডেমিকভাবে পড়ালেখায় স্নাতক সম্পন্ন করেছি। আমার পিতা হচ্ছেন মরহুম সোনা মিয়া মুন্সী এবং মাতা সম্পা বেগম। পরিবারে আমরা ৫ ভাই ও ৩ বোন। দাম্পত্যজীবনে আমার স্ত্রী হচ্ছেন হাসিবা হাবিব নিপু। আমার ২ কন্যা সন্তান রয়েছে এবং তারা পড়ালেখা করছে।
ডিসিকে /এমজেডএইচ








