সোমবার, ২০ এপ্রিল, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য
ব্রেকিং নিউজ

প্রকাশ : ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ২১:১২

"তোরা কিসের জুলাই যোদ্ধা?" বিষয়ে ব্যাখ্যা দিলেন চাঁদপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাড. সলিম উল্যা সেলিম

চাঁদপুর কন্ঠ রিপোর্ট

সোস্যাল মিডিয়া ফেসবুকে "তোরা কিসের জুলাই যোদ্ধা"সহ নানা শিরোনামে নিজের একটি ভাইরাল ভিডিও'র মন্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়েছেন চাঁদপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাড. একেএম সলিম উল্যা সেলিম।তিনি চাঁদপুর জেলা বিএনপিরও সাধারণ সম্পাদক পদে দায়িত্ব পালন করছেন।

রোববার (১৯ এপ্রিল ২০২৬)

বিভিন্ন ফেসবুক পেইজে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটিতে দেখা যায়, জেলা পরিষদে প্রশাসকের কক্ষে একদল যুবকের কথোপকথনে উত্তেজিত যুবকদের প্রতি মেজাজ হারাচ্ছেন প্রশাসক সেলিম। তাঁর সাথে অপর প্রান্ত থেকে ক'জন যুবক একের পর এক উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় করছেন। আর ওই বাক্যের প্রতিউত্তরের এক পর্যায়ে প্রশাসক সলিম উল্যা সেলিম বলেন, ‘'তোরা কিসের জুলাই যোদ্ধা'’সহ ইত্যাদি। পুরো ঘটনার আগে-পরের কোনো কিছু না দিয়ে প্রশাসকের মেজাজ হারানোর ওই অংশের ভিডিওরই একটি ক্লিপ সোস্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ার পর কমেন্টে- 'জুলাই অবমাননা, জুলাই যোদ্ধাদের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ'সহ নানা মতামত ও অভিযোগ তুলে ধরেন নেটিজেনরা। তবে সেই নেটিজেনরই একটি পক্ষ অবশ্য প্রশাসক সলিম উল্যা সেলিমের এমন কথার প্রশংসামূলক কমেন্ট করতেও দেখা যায়। কমেন্টে অনেকে লিখে- 'ধন্যবাদ সেলিম আঙ্কেল, জুলাই বেচে খাওয়াদের এমন শিক্ষা দেয়ায়।'

বিষয়টি নিয়ে এ প্রতিবেদকের সাথে একান্ত আলোচনায় প্রশাসক সলিম উল্যা সেলিম নিজের সেই ভাইরাল মন্তব্যের ব্যাখ্যা দেন এবং ঘটনাটি কী ঘটেছিলো তা তুলে ধরেন।

জনাব সেলিম বলেন, চাঁদপুর জেলা পরিষদে গত ১৬ এপ্রিল ২০২৬ (বৃহস্পতিবার) অফিস চলাকালীন সময়ে কতিপয় যুবক আমি প্রশাসকের চেয়ারে বসা অবস্থায় আমার অফিস কক্ষে প্রবেশ করে। আমি তাদের সাথে কুশল বিনিময় করি। এক পর্যায়ে তারা 'জুলাই যোদ্ধা' হিসেবে আর্থিক অনুদান দেয়ার জন্যে দাবি করে। তাদের দাবি, জুলাই যোদ্ধা হিসেবে তারা অনুদান পাবেই। এক পর্যায়ে তারা আমাকে চাপ প্রয়োগ করে অনুদান দিতে বাধ্য করাতে চেষ্টা করে। তাদেরকে জেলা পরিষদ থেকে অনুদান দিতেই হবে এমনটা মর্জি করে।

তিনি বলেন, আমি তাদেরকে 'জুলাই যোদ্ধা' হিসেবে তাদের গেজেট দেখাতে বলি। এক পর্যায়ে তারা গেজেট বা আহতের কোনো প্রমাণাদি দেখাতে ব্যর্থ হয়ে বিশৃঙ্খলায় জড়ায়। তাদের আমি নিবৃত্ত করার চেষ্টা করি এবং বলি 'ওই ব্যটা প্রমাণ ছাড়া তোরা কীসের জুলাই যোদ্ধা'? তারা প্রশাসনিক বক্তব্য শুনতে বা মানতে নারাজ।

আমি প্রশাসক হিসেবে তাদের জানাই যে, জেলা পরিষদ একটি নিরপেক্ষ ও স্থানীয় সরকারের প্রতিষ্ঠান। এখানে দলমতের ঊর্ধ্বে থেকে কাজ করতে হয়। গেজেট ও বিধি-বিধান এবং প্রজ্ঞাপন মেনেই কাজ করতে হয়। বিধি-বিধানের বাইরে কাউকে সহযোগিতা করা হবে না। যাতে স্থানীয় সরকার ও মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা রয়েছে।

তিনি বলেন, তারা জুলাই আহত হিসেবে গেজেট দেখাতে ব্যর্থ হয়। পরে উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে তাদের সাথে আগত গুপ্তচর দ্বারা পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী অসৎ উদ্দেশ্যে কোনো একসময় তারা ভিডিও রেকর্ডিং করে। এরপর তার খণ্ডিত অংশ প্রচার করে সোস্যাল মিডিয়ায় বিভ্রান্তি ছড়ায়, যা সরকারি অফিস ও তথ্য আইন বিধি বহির্ভূত।

অ্যাড. সেলিম আরও বলেন, ১৯৫২ ও ১৯৭১ সবার আগে গর্বের সাথে ধারণ করতে হবে এবং একই সাথে বিগত সরকারের পতনের জন্যে তারেক রহমানের নেতৃত্বে দীর্ঘ ১৭ বছর লড়াই সংগ্রামের মূল্য সক্রিয় বিবেচনায় রেখে ৩৬ জুলাইয়ের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো সমীচীন বলে মনে করি। কাজেই সোস্যাল মিডিয়ায় বটবাহিনী কর্তৃক এসব খণ্ডিত ভিডিও ছড়িয়ে প্রোপাগান্ডা ছড়ানো শুধুই উদ্দ্যেশ্যপ্রণোদিত এবং অনৈতিক সুবিধা হাছিলের চক্রান্ত ছিলো বলে আমি মনে করি।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়