রবিবার, ১৯ এপ্রিল, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য

প্রকাশ : ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ০০:১৭

স্থানীয় সরকার নির্বাচন : সম্ভাব্য প্রার্থীর মুখোমুখি-১৩

মাদক ইভটিজিং বাল্যবিবাহ ও দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গড়ার অঙ্গীকারে ইউনিয়নবাসীর সেবা করতে চাই

----------গোলাম ইয়াজদানী চৌধুরী (এনাম)

অনলাইন ডেস্ক
মাদক ইভটিজিং বাল্যবিবাহ ও দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গড়ার অঙ্গীকারে ইউনিয়নবাসীর সেবা করতে চাই

এলাকার প্রতি দায়বদ্ধতা, সরকারি অনুদানের সঠিক ব্যবহার এবং মাদক-দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গড়ার অঙ্গীকারে একজন জনপ্রিয় সদালাপী, সাদা মনের মানুষ, বিশিষ্ট সমাজসেবক গোলাম ইয়াজদানী চৌধুরী (এনাম) ইউপি চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হতে চান। তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের একজন নিবেদিতপ্রাণ কর্মী। এলাকার সামাজিক উন্নয়নমূলক, ধর্মীয় সকল কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত থেকে কাজ করছেন। চাঁদপুর কণ্ঠের একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি চাঁদপুর সদর উপজেলার বিষ্ণুপুর ইউনিয়নকে মডেল ইউনিয়নে রূপান্তর করতে চান বলে তাঁর কিছু মতামত এবং বক্তব্য তুলে ধরেছেন। এলাকার মানুষের কল্যাণে কাজ করার জন্যেই আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অত্র ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করার জন্যে তিনি সকলের দোয়া ও সমর্থন কামনা করেছেন। তিনি দুর্নীতি ও মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে সকলের সহযোগিতা কামনা করেছেন।

চাঁদপুর কণ্ঠ : আপনি স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ইউনিয়ন পরিষদে কোন্ পদে প্রার্থী হিসেবে অংশ নিতে চান?

গোলাম ইয়াজদানী চৌধুরী : আমি বিষ্ণুপুর ইউনিয়নকে মডেল ইউনিয়নে রূপান্তর করাসহ এলাকার প্রতি দায়বদ্ধতা, সরকারি অনুদানের সঠিক ব্যবহার এবং মাদক-দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গড়ার অঙ্গীকারে ১নং বিষ্ণুপুর ইউনিয়ন থেকে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করার জন্যে ইচ্ছা পোষণ করছি।

চাঁদপুর কণ্ঠ : প্রার্থী হবার ইচ্ছা আপনি কবে থেকে পোষণ করছেন?

গোলাম ইয়াজদানী চৌধুরী : সত্যিকার অর্থে আমি নির্বাচন করার ইচ্ছা ছিলো না। কিন্তু যখন দেখি আমাদের ইউনিয়নে গত ১৭ বছর তেমন কোনো উন্নয়ন হয়নি, যা হওয়া উচিত ছিলো। ঠিক তখনই আমার ইউনিয়নের অবহেলিত মানুষের কথা চিন্তা রেখে ইউনিয়নের কিছু একটা করার জন্যে চিন্তা আসে। আর কিছু করতে হলে ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান হওয়া ছাড়া অন্যভাবে করা যাবে না। তাই আমাদের ইউনিয়নের বড়ো, ছোট, সকলের কথা চিন্তা করেই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার আশা করছি। আমার চাচারা বিগতদিনে চেয়ারম্যান হওয়ার মাধ্যমে ৪০-৫০ বছর বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের মানুষের পাশে ছিলেন, এখনও আমরা বিভিন্নভাবে পাশে থাকার চেষ্টা করি, যা ইউনিয়নবাসী জানে। ইউনিয়নবাসী অবশ্যই অবগত আছেন আমাদের পরিবার বিগতদিনে কীভাবে তাদের পাশে ছিলেন। অপরদিকে যখনই সাধারণ মানুষের সাথে যোগাযোগ হয় তখন জনগণ চাচ্ছে আমি যাতে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে অংশ নেই। তাদের অকৃত্রিম বিশ্বাস ও ভালোবাসা আমাকে সত্যিকার অর্থে মোহিত করেছে এবং প্রকৃত পক্ষে দলমত নির্বিশেষে প্রচুর সমর্থক প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে নির্বাচনে অংশ নেয়ার জন্যে উৎসাহিত করে, যা ইতিবাচক দিক।

চাঁদপুর কণ্ঠ : আপনি কি কখনও নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন?

গোলাম ইয়াজদানী চৌধুরী : না, আমি কখনো নির্বাচনে অংশগ্রহণ করিনি। তবে ১৯৯১ সাল থেকে বিভিন্নভাবে স্থানীয় অথবা জাতীয় নির্বাচনে পরিচালনা কমিটির সাথে সম্পৃক্ত ছিলাম।

চাঁদপুর কণ্ঠ : আপনি কি প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে দলীয় সমর্থন বা মনোনয়ন প্রত্যাশা করেন? না নির্দলীয়ভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চান?

গোলাম ইয়াজদানী চৌধুরী : আমি যে দলের সাথে জড়িত, ইতোমধ্যে সে দলের চেয়ারম্যান ইউনিয়ন পর্যায়ে দলীয়ভাবে নির্বাচন হবে না বলে স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন। সুতরাং দলীয়ভাবে করার কোনো সুযোগ নেই। তবে দলীয় নেতা-কর্মীদের সমর্থন অবশ্যই পাবো বলে আশা রাখি। বর্তমান যুবদল সভাপতি (মানিকুর রহমান মানিক) আমার ছেলে বেলার বন্ধু এবং একসাথে ১৯৯১ সালে ছাত্রদলের সভাপতি ও সেক্রেটারির মাধ্যমে আমাদের রাজনৈতিক যাত্রা শুরু হয় এবং পর্যায়ক্রমে রাজনৈতিক বিভিন্ন পর্যায়ে সম্পৃক্ত আছি এবং গত ১৬-১৭ বছরে বিভিন্নভাবে দলকে সহযোগিতা করার চেষ্টা করেছি, যা জেলা পর্যায় থেকে শুরু করে ইউনিয়ন পর্যায়ের সিনিয়র নেতৃবৃন্দ অবশ্যই অবগত আছেন।

চাঁদপুর কণ্ঠ : নির্বাচনে নিতান্তই জনপ্রিয়তা যাচাই করার জন্যে বা কেবল পরিচিতি লাভের জন্যে প্রার্থী হতে চান? না বিজয়ী হবার মানসে আঁটঘাঁট বেঁধে নেমেছেন বা নামবেন?

গোলাম ইয়াজদানী চৌধুরী : আমি মনে করি নির্বাচিত হওয়ার জন্য নির্বাচনে যাবো। যদি বলেন শুধু পরিচিতির জন্যে, তাহলে বলবো, বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের কম/বেশি প্রতিটি বাড়ি আমাকে এবং আমাদের পরিবারের সকলকে চেনে জান, সুতরাং এখানে পরিচিত হওয়ার কিছুই নেই।

চাঁদপুর কণ্ঠ : নির্বাচনকেন্দ্রিক আপনার পরিকল্পনা কী? সমাজসেবামূলক কাজ করেছেন বা করবেন? ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়েছেন তথা গণসংযোগ শুরু করেছেন?

গোলাম ইয়াজদানী চৌধুরী : আমাদের লক্ষ্য খুবই পরিষ্কার—একটি উন্নত, শান্তিপূর্ণ ও স্বনির্ভর ইউনিয়ন গড়ে তোলা, যেখানে সবাই সমান সুযোগ পাবে। উন্নয়ন মানে শুধু রাস্তা বা ভবন নয়; উন্নয়ন মানে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, মর্যাদা ও ন্যায়বিচার। উন্নয়নের প্রধান অগ্রাধিকার হলো এসব। আমি বা আমাদের পরিবার সবসময় সমাজসেবামূলক কার্যক্রম সবসময় করে থাকি এবং ভবিষ্যতেও করবো। ভোটারের কাছে যাওয়া শুরু করেছি এবং গণসংযোগ শুরু করেছি।

চাঁদপুর কণ্ঠ : নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে হবে বলে আপনি আশাবাদী? নির্বাচনের সুষ্ঠুতার বিষয়ে আপনার কোনো পরামর্শ আছে কি?

গোলাম ইয়াজদানী চৌধুরী : আমি বিশ্বাস করি, বর্তমান সরকারের প্রধান অঙ্গীকার গণতান্ত্রিক উপায়ে যে কোনো নির্বাচন করা এবং আমি সে ব্যাপারে সম্পূর্ণ আশাবাদী।

চাঁদপুর কণ্ঠ : এলাকার উন্নয়নে আপনি ভোটারদের উদ্দেশ্যে কোনো প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করতে চান?

গোলাম ইয়াজদানী চৌধুরী : আমাদের ইউনিয়ন শুধু একটি প্রশাসনিক এলাকা নয়—এটি আমাদের ঘর, আমাদের পরিচয় এবং আমাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ। এই ইউনিয়নের উন্নয়নের দায়িত্ব কোনো একক ব্যক্তির নয়, এটি আমাদের সবার যৌথ দায়িত্ব।

চাঁদপুর কণ্ঠ : উপরোল্লিখিত প্রশ্নগুলোর বাইরে আপনার কোনো বক্তব্য থাকলে সেটা বলতে পারেন।

গোলাম ইয়াজদানী চৌধুরী : আমরা যদি ঐক্যবদ্ধ থাকি, সৎ থাকি ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করি, তবে কোনো চ্যালেঞ্জই আমাদের থামাতে পারবে না। আসুন, আমরা এমন একটি ইউনিয়ন গড়ে তুলি যেখানে আমাদের সন্তানরা শিক্ষিত হবে, পরিবারগুলো সুস্থ থাকবে এবং ভবিষ্যৎ হবে উজ্জ্বল। চলুন, আমরা সবাই একসঙ্গে এগিয়ে যাই—আমাদের ইউনিয়নের জন্যে, আমাদের জনগণের জন্যে এবং আগামী প্রজন্মের জন্যে।

চাঁদপুর কণ্ঠ : আপনার সংক্ষিপ্ত পরিচিতি তুলে ধরুন।

গোলাম ইয়াজদানী চৌধুরী : মনোহরখাদী চৌধুরী বাড়ির সন্তান আমি। আমার পিতা গোলাম জিলানী চৌধুরী ছিলেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও মাতা সালেহা চৌধুরী একজন গৃহিণী। পারিবারিকভাবেই আমাদের পরিবারে অতীতে জনপ্রতিনিধি হিসেবে অনেকেই সফলভাবে দায়িত্ব পালন করেছে। তারই উত্তরসূরি আমি এনাম চৌধুরী। আমাদের পরিবারের সদস্য শ্রদ্ধেয় গোলাম মোস্তফা চৌধুরী (দু বার), গোলাম মাওলা চৌধুরী (মানিক মিয়া-ছয় বার) ও গোলাম কিবরিয়া চৌধুরী (একবার) অত্র ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যান পদে সফলভাবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তারই ধারাবাহিকতায় আমি তাদের সন্তান হিসেবে আগামী নির্বাচনে অত্র ইউনিয়ন ও এলাকাবাসীর সুপারিশে, ডাকে দোয়া ও সমর্থন নিয়ে চৌধুরী বাড়ির সন্তান হিসেবে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার জন্যে ইচ্ছা পোষণ করেছি।

আমি চাঁদপুর সরকারি কলেজ থেকে পড়ালেখা শেষ করে ঢাকায় একটি বহুজাতিক কোম্পানিতে সিনিয়র ব্যবস্থাপক হিসেবে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর দায়িত্বে নিয়োজিত আছি। পাশাপাশি আমি আমার ছোট একটি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে জড়িত। আমাদের ইউনিয়নের ওপর শান্তি, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি বর্ষিত হোক।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়