বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য
ব্রেকিং নিউজ

প্রকাশ : ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ১৫:০০

কালির বাজারে পুড়ে যাওয়া দোকান পুনঃনির্মাণে বাধা, নেপথ্যে রাজনৈতিক দাপট

স্টাফ রিপোর্টার।।
কালির বাজারে পুড়ে যাওয়া দোকান পুনঃনির্মাণে বাধা, নেপথ্যে রাজনৈতিক দাপট

ফরিদগঞ্জ উপজেলার ফরিদগঞ্জ দক্ষিণ ইউনিয়নের কালিরবাজারে গত ৮ এপ্রিল ২০২৬ তারিখ রাতে রহস্যজনক অগ্নিকাণ্ডে ৫/৬টি দোকানঘর পুড়ে যায়। এর মধ্যে জেলা পরিষদ থেকে লিজ নিয়ে দোকানঘর করা প্রতিষ্ঠানও রয়েছে। সেই পুড়ে যাওয়া দোকানঘর পুনরায় নির্মাণে বাধা দেয়ার অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগ রয়েছে, রাজনৈতিক দাপট দেখিয়ে এক ব্যবসায়ী নেতা এই স্থান দিয়ে রাস্তা নির্মাণ করা হবে দাবি করে পুনঃনির্মাণ কাজে বাধা দিয়েছেন। ইতোমধ্যেই তিনি ভবনের পেছনে রাস্তা নির্মাণের জন্যে মাপজোখ করে দড়ি টানিয়ে দিয়েছেন। এ উপলক্ষে পহেলা বৈশাখ নিরামিষ রান্না করে আনন্দ উদযাপন করেছেন তার সঙ্গীরা ওই স্থানে।

সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, প্রায় ৪০ বছর আগে স্থানীয় আবুল হোসেন বাবুল পাটোয়ারী জেলা পরিষদের কাছ থেকে জমিটি লিজ নিয়ে সেখানে দোকান নির্মাণ করেন। বর্তমানে খোরশেদ আলম নামে এক ব্যবসায়ী দীর্ঘদিন ধরে ওই দোকান দুটির একটিতে ব্যবসা করছেন।

লিজ সূত্রে দোকান মালিক বাবুল পাটোয়ারী জানান, অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত দোকান দুটি পুনর্নির্মাণের জন্যে গত ১০ এপ্রিল কাজ শুরু করতে গেলে ইউসুফ পাটোয়ারী নামে স্থানীয় এক ব্যক্তি বাধা দেন এবং জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা করেন। দোকান পুড়ে যাওয়ার পর পেছনের অবশিষ্ট দেয়াল ভেঙ্গে ফেলা হয়। এছাড়াও পুনরায় নির্মাণ কাজের জন্যে আনা মালামাল নিয়ে যায়। এমনকি ওই দোকানের পেছনে ডোবায় দড়ি টানিয়ে রাস্তা নির্মাণের জন্যে সীমানা নির্ধারণ করেন। সরকার যদি তার জায়গায় রাস্তা নির্মাণ করেন, তাতে আমার আপত্তি নেই। কিন্তু রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে এভাবে বাধা প্রদান কাম্য নয়।

এদিকে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী খোরশেদ আলম বলেন, আমি দীর্ঘদিন ধরে এখানে ব্যবসা করছি। আগুনে সবকিছু পুড়ে যাওয়ার পর নতুন করে ঘুরে দাঁড়াতে চাইলেও বিভিন্ন হুমকি ও বাধার কারণে মেরামতের কাজ শুরু করতে পারছি না।

অভিযোগের বিষয়ে ইউসুফ পাটওয়ারী বাজার ব্যবসায়ী কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক পরিচয় দিয়ে বলেন, এটি একটি সরকারি সম্পত্তি। বাবুল পাটওয়ারী ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসর। এখানে এক সময় রাস্তা ছিলো। তারা তা দখল করে দোকান করেছে । আমরা আবারো এখানে রাস্তা নির্মাণ করবো। বিকল্প রাস্তা বাজারের জন্যে প্রয়োজন।

বাজার ব্যবসায়ী পরিচালনা কমিটির সভাপতি জাকির খান জানান, পুড়ে যাওয়া দোকানগুলোর মধ্যে দুটি দোকান জেলা পরিষদ থেকে লিজ নেয়া বলে আমরা জেনেছি। পুড়ে যাওয়া দোকান মেরামত করবে এটাই স্বাভাবিক। সরকারি সম্পত্তি যদি লিজ না থাকে তাহলে সরকারিভাবে বাধা প্রদান করা হবে এটাই স্বাভাবিক। তবে একটি চক্র কাজে কেন বাধা দিচ্ছে তা বোধগম্য নয়। ইউসুফ পাটওয়ারী বাজার ব্যবসায়ীর যুগ্ম আহ্বায়ক পরিচয় নিয়ে তিনি বলেন, বাজার ব্যবসায়ী নির্বাচিত একটি কমিটি রয়েছে, সেই কমিটির কেউ এখানে বাধা দেয়নি। ৫ আগস্টের পর তিনি নিজেকে ব্যবসায়িক কমিটির নেতা বলে দাবি করছেন।

এ ব্যাপারে ফরিদগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সেটু কুমার বড়ুয়া বলেন, সরকারি সম্পত্তির বিষয়ে সিদ্ধান্ত সরকার নিবে। কালিরবাজারের বিষয়টি তারা খোঁজ খবর নিচ্ছেন।

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, বারংবার কেনো কালিরবাজারে আগুন লাগছে, সেটি যেমন তদন্ত হওয়া প্রয়োজন, একই সাথে আগুন লাগলে যেনো দ্রুত নদী ও খাল থেকে যাতে পানি নেয়া যায় তার ব্যবস্থা প্রয়োজন। আবার রাজনৈতিক কারণে যেনো কোনো ব্যবসায়ী প্রতিহিংসার শিকার না হয়, সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে। এমনিতেই বারবার আগুনের কারণে ব্যবসায়ীরা কালিরবাজারে ব্যবসা করতে ভয় পাচ্ছেন। নতুন করে জুজুর ভয় দেখালে বাজারটির উন্নয়নে ব্যাঘাত ঘটবে। আমরা বাজার উন্নয়ন চাই, বিকল্প সড়ক চাই, তবে তা যেনো সরকারি ব্যবস্থাপনায় হয়। কোনো রাজনৈতিক হস্তক্ষেপে নয়।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়