শনিবার, ০৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য

প্রকাশ : ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২০:৫০

ফরিদগঞ্জে সহিংসতা ও নাশকতার অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন

আমার ও চিংড়ি প্রতীকের জনপ্রিয়তার ভয় পেয়ে তারা সহিংসতার পথ বেছে নিয়েছে

............. স্বতন্ত্র প্রার্থী এম এ হান্নান

ফরিদগঞ্জ ব্যুরো
আমার ও চিংড়ি প্রতীকের জনপ্রিয়তার ভয় পেয়ে তারা সহিংসতার পথ বেছে নিয়েছে

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চাঁদপুর-৪ (ফরিদগঞ্জ) আসনে চিংড়ি প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী এম এ হান্নান ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ (বৃহস্পতিবার)-এর ঘটনার বিষয়ে সংবাদ সম্মেলন করে ব্যাখ্যা প্রদান করেছেন। তিনি দাবি করেন, নির্বাচনে তাঁর ও চিংড় প্রতীকের জয়জয়কার দেখে তারা ভয় পেয়ে সহিংসতার পথ বেছে নিয়েছে।

শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) সন্ধ্যার পর ফরিদগঞ্জ প্রেসক্লাবে এ ক্লাবের সভাপতি মামুনুর রশিদ পাঠানের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম ফরহাদের পরিচালনায় সংসদ সম্মেলনে প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনের অন্যতম সমন্বয়ক, সাবেক পৌর মেয়র মঞ্জিল হোসেন লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন।

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, জনাব এম এ হান্নান দীর্ঘদিন ধরে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে বিএনপির রাজনীতি করে আসছেন এবং ভবিষ্যতেও সেই ধারা অব্যাহত রাখবেন। আমাদের দাবি, আলহাজ্ব এম. এ. হান্নান গত ১৭ বছর নানা প্রতিকূলতা, মামলা-হামলা ও নির্যাতন সহ্য করে দলকে সংগঠিত রেখেছেন এবং ফরিদগঞ্জে বিএনপির নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।

লিখিত বক্তব্যে তিনি অভিযোগ করেন, একটি ‘কুচক্রী মহল’ ও ‘দলীয় নামধারী’ একটি পক্ষের ষড়যন্ত্রে এমন একজনকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে, যিনি আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠ। এতে করে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মী ও সমর্থকদের আশা-আকাঙ্ক্ষা ভেঙ্গে পড়েছে। এই প্রেক্ষাপটে নেতাকর্মীদের আহ্বানে সাড়া দিয়ে এম. এ. হান্নান স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে চিংড়ি প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নেন। আমাদের দাবি, উপজেলার ১৫টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় প্রচারণায় ব্যাপক গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। এসব দেখে তারা নির্বাচনী প্রচারণা শুরুর পর থেকেই বিভিন্ন স্থানে আমাদের নির্বাচনী কার্যালয় ও প্রচারণার সরঞ্জাম ভাংচুর করেছে এবং নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালাচ্ছে। গত বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) গুপ্টি ইউনিয়নের হোগলী গ্রামে পূর্ব নির্ধারিত উঠান বৈঠক ও গণসংযোগ চলাকালে প্রতিপক্ষের নেতৃত্বে একদল সশস্ত্র ব্যক্তি হামলার চেষ্টা চালায়। পরে মান্দারতলী ও খাজুরিয়া বাজার এলাকায়ও হামলার ঘটনা ঘটে। এতে আমাদের কয়েকটি গাড়ি ও মোটরসাইকেল ভাংচুরের পাশাপাশি ক'জন নেতাকর্মী আহত হন। এম এ হান্নানকে প্রাণে মেরে ফেলার জন্যে মাথায় ইটের আঘাত ও পেছন দিক থেকে লাঠি দিয়ে আঘাত করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে চিংড়ি প্রতীকের প্রার্থী এম. এ. হান্নান বলেন, গতকাল (বৃহস্পতিবার) তারা আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যে মাথায় আঘাত করেছে। আমার কর্মী জহির যদি না ঠেকাতো তাহলে আমার কী হতো আল্লাহ ভালো জানেন। তারা আমার নির্বাচনী পরিচালনা কমিটির প্রধান সমন্বয়ক ডা. আবুল কালাম আজাদের গাড়ি ভাংচুর করেছে। তারা আমার জনপ্রিয়তা দেখে আতঙ্কিত হয়ে এই হামলা করেছে। বৃহস্পতিবার কারা হামলা করেছে সাংবাদিকদের কাছে তার ভিডিও চিত্র রয়েছে। আজ (শুক্রবার) প্রশাসন আমাদের নিয়ে বসেছে। আমি তদন্ত করে হামলাকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার অনুরোধ জানিয়েছি। একই সাথে আমি একটি স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন এবং এর আগে যে ক'দিন রয়েছে সে ক'দিনে সুষ্ঠু পরিবেশ চাইছি।

সংসদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি নেতা সফিউল বাশার মুকুল পাটওয়ারী, পৌর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক আমানত গাজী, এম এ হান্নানের পুত্র আব্দুল্লাহ ইবনে হান্নান, উপজেলা যুবদলের সাবেক আহ্বায়ক আমজাদ হোসেন শিপন, সাবেক সদস্য সচিব জাহাঙ্গীর আলম নান্টু, পৌর যুবদলের আহ্বায়ক ইমাম হোসেন, সাবেক কাউন্সিলর জাকির হোসেন গাজীসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়