রবিবার, ২৮ জুন, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য
ব্রেকিং নিউজ

প্রকাশ : ২৮ জুন ২০২৬, ১৩:২৫

বিশিষ্ট আলেমে দ্বীনের ইন্তেকালে শোক

অনলাইন ডেস্ক
বিশিষ্ট আলেমে দ্বীনের ইন্তেকালে শোক

চঁাদপুর শহরের বড়ো মসজিদ বলতে পুরাণবাজার বড়ো মসজিদকে বোঝায়। তার বাইরে অনেক বেশি বিখ্যাত ও ঐতিহাসিক মসজিদ বলতে যেটিকে বোঝায়, সেটি হচ্ছে বেগম জামে মসজিদ। এ মসজিদটি চঁাদপুর শহরের জেএম সেনগুপ্ত রোডে অবস্থিত। এ মসজিদে দীর্ঘ সময় ধরে যিনি ইমাম ও খতিব হিসেবে সুনাম-সুখ্যাতির সাথে দায়িত্বপালন করেছেন, তিনি হচ্ছেন বিশিষ্ট বুজুর্গানে দ্বীন মাওলানা মোহাম্মদ রুহুল্লাহ। শহরের অশীতিপর প্রবীণ ব্যক্তি, বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ জনাব সফিউদ্দিন আহমেদ জানান, একসময় চঁাদপুরের রাষ্ট্রীয় প্রোগ্রামগুলোতে স্বীয় গ্রহণযোগ্যতার কারণে মাওলানা মোহাম্মদ রুহুল্লাহকে দিয়ে কোরআন তেলাওয়াত ও মোনাজাত করানো হতো। সেই বিশিষ্ট আলেমের দ্বিতীয় পুত্র ছিলেন মাওলানা আ ন ম মুহিবুল্লাহ নোমান, যিনি আমলে-আখলাকে ও পেশাগতভাবে পিতার ন্যায় হয়েছিলেন। পিতা মাদ্রাসার শিক্ষক, মসজিদের ইমাম ও খতিব ছিলেন, মাওলানা মুহিবুল্লাহ তা-ই ছিলেন। তিনি ফরিদগঞ্জের চান্দ্রা সামাদিয়া ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষের দায়িত্বপালন করেন, অবসরগ্রহণের পর নিকটবর্তী নন-এমপিও একটি মাদ্রাসার একই দায়িত্বে অধিষ্ঠিত হন। একই সাথে তিনি চঁাদপুর সরকারি কলেজের শেরে বাংলা ছাত্রাবাস জামে মসজিদের ইমাম ও খতিবের দায়িত্বপালন করছিলেন। ওপেন হার্ট সার্জারি ও হার্নিয়া অপারেশনের পর তিনি শারীরিকভাবে সুস্থতা বোধ করছিলেন। পেশাগত জীবনের পুরোটাতেই চঁাদপুর শহরে ভাড়া বাসায় কাটিয়েছেন। সহোদর ছোটভাইয়ের সাথে চঁাদপুর সেতুর নিকটবর্তী মাজার রোডে একটু জায়গা কিনে নিজ পুত্র সন্তানের সিংহভাগ অর্থায়নে একটি বাসভবন বানিয়ে গেলো চার মাস আগে সেখানে গিয়ে বসবাস করছিলেন। কিন্তু সুখ তঁার কপালে সইলো না। গত বুধবার (২৪ জুন ২০২৬) দিবাগত রাতে তিনি আকস্মিকভাবে হৃদরোগে আক্রান্ত হলেন। তঁাকে নেয়া হলো ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট চঁাদপুর জেনারেল হাসপাতালে। কিন্তু প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তঁাকে কর্মরত চিকিৎসক ঢাকায় রেফার করলেন। পুত্রের ইচ্ছায় তঁাকে দেশের সবচে’ বিখ্যাত হাসপাতালের অন্যতম ইউনাইটেডে নেওয়া হলো। কিন্তু সিট না পাওয়ায় তঁাকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিলো ইব্রাহিম কার্ডিয়াক হাসপাতালে। দুর্ভাগ্য, পথিমধ্যে বৃহস্পতিবার (২৫ জুন ২০২৬) সকাল পৌনে ৯টায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। ইন্না লিল্লাহে ওয়া ইন্না ইলাইহে রাজিউন।

মাওলানা আ ন ম মুহিবুল্লাহকে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট চঁাদপুর জেনারেল হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসাশেষে আইসিইউতে পর্যবেক্ষণে রেখে ঢাকায় রেফার করলে হয়তো তিনি বেঁচে যেতেন। কিন্তু মহান আল্লাহর ইচ্ছার বিপরীতে সেটি আর হয় নি। তিনি আল্লাহর ডাকে সাড়া দিয়ে তঁার স্ত্রী, তিন পুত্র, ভাই-বোনসহ বহু আত্মীয়স্বজন ও গুণগ্রাহীদের শোক সাগরে ভাসিয়ে পরকালে পাড়ি জমালেন। বুধবার রাতে এশার নামাজে যিনি ইমামতি করেছেন, তিনি পরদিন আর মসজিদের মুসল্লিদের নামাজ পড়াতে আসতে পারবেন না, সেটা কি তিনিসহ অন্য কেউ আদৌ ভেবেছিলেন?

কাউকে কষ্ট না দিয়ে, দীর্ঘদিন শয্যাশায়ী থেকে কারো বিরক্তি উদ্রেক করার আগেই মাওলানা মুহিবুল্লাহ আকস্মিকভাবে চলে গেলেন। তঁার সহোদর বড়োভাই বেঁচে আছেন, অথচ তার আগেই তিনি মৃত্যুবরণ করলেন। তঁার এমন মৃত্যুতে সর্বত্র গভীর শোকের ছায়া নেমে আসে। সৌম্য দর্শন এই বিশিষ্ট আলেমে দ্বীনকে এক নজর দেখলেই যে কারো মনে শ্রদ্ধা জাগতো, মনে পড়তো তঁার পিতার প্রতিচ্ছবি, সেই আলেমে দ্বীন মাত্র পঁয়ষট্টি-ঊর্ধ্ব বয়সে দুনিয়ার মায়া ত্যাগ করলেন--সেটা ভাবতেই তঁার ভক্ত-অনুরাগীদের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হয়। ফরিদগঞ্জের চান্দ্রা, চঁাদপুর শহরের মাইক্রো স্ট্যান্ড ও হাজীগঞ্জ উপজেলাধীন পশ্চিম রাজারগঁাওয়ে অনুষ্ঠিত হয় তঁার তিনটি জানাজা। এ জানাজাগুলোতে হাজার হাজার মুসল্লি অংশ নেন। তারপর তঁাকে নিভৃত পল্লীতে পবিত্র আশুরার রাতে বাবা-মায়ের কবরের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়। পরম করুণাময় ও ক্ষমাশীল মহান আল্লাহ তঁাকে পরকালে চিরসুখের জান্নাত দিক এবং সে জান্নাতের সর্বোচ্চ স্থানে মর্যাদার সাথে তঁার অবস্থান নিশ্চিত করুক--আমরা চঁাদপুর কণ্ঠ পরিবারের পক্ষ থেকে নিরন্তর সে মোনাজাতই করছি। সাথে সাথে তঁার শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানাচ্ছি।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়