প্রকাশ : ১১ মে ২০২৬, ০৯:৩১
জৈনপুর এক্সপ্রেসের গতি নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব কার?

মতলবে জৈনপুর এক্সপ্রেস-অটোবাইক সংঘর্ষ। মতলব দক্ষিণ উপজেলায় জৈনপুর এক্সপ্রেসের একটি যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে অটোবাইকের মুখোমুখি সংঘর্ষে অন্তত তিনজন গুরুতর আহত হয়েছেন। আহতদের আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে মেহেদী হাসান ও সেলিমের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। শনিবার (৯ মে ২০২৬) সকালে উপজেলার নাগদা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সংঘর্ষের পর আহতদের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত তাদের ঢাকায় পাঠানো হয়। বর্তমানে তারা হাসপাতালের নিবিড় পর্যবেক্ষণে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। একই ঘটনায় অটোবাইক চালকও গুরুতর আহত হয়েছেন। চিকিৎসকরা তার অবস্থাকেও সংকটাপন্ন বলে জানিয়েছেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, দ্রুতগতিতে চলতে থাকা জৈনপুর এক্সপ্রেসের বাসটি হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কে থাকা একটি অটোবাইককে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলে আতঙ্ক ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়। পরে স্থানীয় বাসিন্দারা তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধার করে আহতদের হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন। দুর্ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়দের অভিযোগ, জৈনপুর এক্সপ্রেসের ক’টি বাস দীর্ঘদিন ধরেই বেপরোয়া গতিতে চলাচল করছে। এর আগেও পরিবহনটির বিরুদ্ধে একাধিকবার অসতর্ক চালনা ও দুর্ঘটনার অভিযোগ উঠেছে বলে দাবি করেন তারা। এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে স্থানীয় বাসিন্দা ও যাত্রীসাধারণ সড়কে চলাচলকারী গণপরিবহনের ফিটনেস পরীক্ষা জোরদার, চালকদের দক্ষতা যাচাই এবং বেপরোয়া যান চলাচল নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের মতে, কার্যকর নজরদারি ও নিয়মিত তদারকি নিশ্চিত করা না গেলে এ ধরনের দুর্ঘটনা ভবিষ্যতেও ঘটতে পারে, যা জননিরাপত্তার জন্যে বড়ো হুমকি হয়ে দাঁড়াবে। বাবুরহাট-মতলব-পেন্নাই রুটে ঢাকায় যাতায়াতকারী বাস সার্ভিস জৈনপুর এক্সপ্রেসের রুট পারমিট আছে কি নাই সেটা নিয়ে প্রশ্ন তোলার সময় এ বাসটির যাত্রীপ্রিয়তা স্বীকার করতেই হবে। মাত্র দু-আড়াই ঘন্টায় স্বল্প ভাড়ায় চাঁদপুর থেকে ঢাকা যাওয়া এবং ঢাকা থেকে চাঁদপুর আসার জন্যে এ বাসটিতে চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হওয়া সত্ত্বেও গ্রহণযোগ্যতা লাভ করেছে। যাত্রীদের সুবিধা ও স্বার্থের কথা চিন্তা করে এ বাস সার্ভিসের বিরুদ্ধে ব্যবস্থাগ্রহণ করতে গেলে দৃশ্য-অদৃশ্য চাপের সম্মুখীন হয় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। সমস্যা হচ্ছে, এই চাপ উপেক্ষা করার সাহস বা দৃঢ়তা কর্তৃপক্ষের রহস্যজনক কারণেই নেই। প্রকাশ্য ও গোপন সমঝোতায় জৈনপুর বাস সার্ভিস সদম্ভে চলাচল করে, আর বেপরোয়া গতিতে চালাতে গিয়ে জানমালের ক্ষয়ক্ষতি সাধন করে। দুর্ঘটনা ঘটার পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কালেভদ্রে ব্যবস্থা নেয়, তারপর চুপ হয়ে যায়। মতলব থেকে পেন্নাই পর্যন্ত অনেক বেশি বাঁকসম্পন্ন এ সড়কটিতে সতর্কতার সাথে চলাচল যেখানে অতি আবশ্যক, সেখানে বেপরোয়া গতিতে কিংবা দ্রুত গতিতে বাস চালানোর প্রবণতা দুর্ঘটনাকেই নিশ্চিত করে। এ রুটে দুর্ঘটনার খবর পরিবেশন করতে করতে গণমাধ্যমকর্মীরা রীতিমত হয়রান, অথচ কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা অফুরান। এটাই দুঃখজনক, আপত্তিকর এবং সাধারণ্যে ক্ষোভ সঞ্চারের প্রধান কারণ। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট সকল কর্তৃপক্ষকে অর্থপূর্ণ উদাসীনতা ঝেড়ে ফেলে জৈনপুরসহ অন্য বাস সার্ভিসের গতি নিয়ন্ত্রণ ও ফিটনেস পরীক্ষার নিয়মিত ব্যবস্থাগ্রহণের কার্যকর, কঠোর, ফলপ্রসূ উদ্যোগ নিতে হবে। অন্যথায় ধরে নিতে হবে, জৈনপুর এক্সপ্রেস তথা এ রুটের বাস সার্ভিসকে মানুষের জীবন কেড়ে নেয়ার পরোক্ষ লাইসেন্স (!) দেওয়া হয়েছে। এ লাইসেন্স (!) বাতিল তখনই হয়তো সম্ভব হবে, যখন অনেক বড়ো দুর্ঘটনায় রাষ্ট্রের টনক নড়বে। অগত্যা সে অপেক্ষায় থাকতে হবে উদ্বিগ্ন সকলকে।




