প্রকাশ : ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:০৯
ফরিদগঞ্জের কচুরিপানা অপসারণ নিয়ে আগাম শুভ কামনা

পানি উন্নয়ন বোর্ডের চাঁদপুর সেচ প্রকল্প (সিআইপি)-এর আওতাভুক্ত ফরিদগঞ্জ উপজেলার বোরোপিট খাল ও ডাকাতিয়া নদীর কচুরিপানা অপসারণ বিষয়ে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল ২০২৬) বিকেলে ফরিদগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সভাকক্ষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সেটু কুমার বড়ুয়ার সভাপতিত্বে আয়োজিত সভায় বক্তব্য রাখেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কল্লোল কিশোর সরকার, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা বেলায়েত হোসেন, ফরিদগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি মামুনুর রশিদ পাঠান, পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা শাহ সুফিয়ান খান, ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহজাহান পাটোয়ারী, শাহ আলম শেখ, বুলবুল আহমেদ, বেলায়েত হোসেন এবং পানি উন্নয়ন বোর্ড ও বিএডিসির প্রতিনিধি। এছাড়া সভায় বিডি ক্লিনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় বক্তারা বলেন, বোরোপিট খাল ও ডাকাতিয়া নদী কচুরিপানামুক্ত থাকলে কৃষক এবং জেলেরা উপকৃত হবে, দেশীয় প্রজাতির মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে। খাল ও নদীর পানি নষ্ট না হয়ে ভালো থাকবে। এতে জীববৈচিত্র্য রক্ষা পাবে। তবে এটি অবশ্যই পরিকল্পিতভাবে করতে হবে। এছাড়া উত্তোলিত কচুরিপানাকে কাজে লাগানোর বিষয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। চাঁদপুর সদর ও ফরিদগঞ্জ উপজেলার ডাকাতিয়া নদী থেকে কচুরিপানা উত্তোলনের বিষয়ে চাঁদপুরের সাবেক জেলা প্রশাসক কামরুল হাসান তাঁর কর্মকালীন সময়ে বিডি ক্লিনের সাথে প্রস্তুতিমূলক সভা করেছিলেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টে ছাত্রগণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষিতে বিডি ক্লিনকে নিয়ে জেলা প্রশাসকের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন সম্ভব হয় নি। ফরিদগঞ্জের সদ্য সাবেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুলতানা রাজিয়া ফরিদগঞ্জের ডাকাতিয়া নদী ও চাঁদপুর সেচ প্রকল্প বোরোপিট খাল থেকে কচুরিপানা উত্তোলনের পরিকল্পনা হাতে নিয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের কাজে লাগানো শুরু করেছিলেন। কিন্তু সে কাজ ছিলো একেবারে ধীর গতির। কচুরিপানা পরিষ্কার ও ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কারের কাজ স্বল্প সময়ে বাস্তবায়নের বিডি ক্লিনের যে দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা আছে, সেটা বাংলাদেশে অন্য কোনো সংগঠনের নেই। ফরিদগঞ্জের বর্তমান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সে ব্যাপারে ওয়াকিবহাল হয়ে বিডি ক্লিনের সাথে সভা করে সিআইপির বোরোপিট খাল ও ডাকাতিয়া নদী থেকে কচুরিপানা উত্তোলনের ব্যাপারে যে সভা করেছেন, তাতে আমরা আশার আলো দেখতে পাচ্ছি। এ ব্যাপারে স্থানীয় এমপি, রাজনৈতিক দল, ইউপি চেয়ারম্যান ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের সংশ্লিষ্ট করতে পারলে ফরিদগঞ্জের ডাকাতিয়া নদী ও সিআইপির বোরোপিট খাল যে সত্যিকার অর্থে সামগ্রিকভাবে কচুরিপানামুক্ত হবে সেটা আস্থার সাথে আশা করা যায়। একই সাথে যদি সিআইপির অভ্যন্তরস্থ চাঁদপুর সদর ও হাইমচর উপজেলার এবং লক্ষ্মীপুর জেলার রামগঞ্জ ও রায়পুরসহ অন্য উপজেলার ডাকাতিয়া নদী ও বোরোপিট খালকেও কচুরিপানামুক্ত করার কাজটি হাতে নেয়া যায়, তাহলে সিআইপিতে ডাকাতিয়া নদী ও বোরোপিট খালকে কচুরিপানামুক্ত করার কাজটি সামগ্রিকতা বা পরিপূর্ণতায় পর্যবসিত হবে। তবে এমন আশাবাদে আমরা ফরিদগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগকে নিরুৎসাহিত ও বাধাগ্রস্ত করতে চাই না। আমরা চাই, ডাকাতিয়া নদী ও বোরোপিট খাল কচুরিপানামুক্ত করার ক্ষেত্রে ফরিদগঞ্জ দৃষ্টান্ত স্থাপন করুক, তারপর অন্য উপজেলা প্রশাসন সেটা অনুসরণ করুক। এ ব্যাপারে চাঁদপুর ও লক্ষ্মীপুর জেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ, মনিটরিং ও সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রত্যাশা করছি। পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকল্প সিআইপিতে কচুরিপানা মুক্ত করার এ উদ্যোগে তাদের উপকরণ, জনবল ও আর্থিক তথা সর্বাত্মক সহযোগিতা যে অনিবার্যতার দাবি রাখে, সেটা কি বলার দরকার আছে?




