শনিবার, ০৪ এপ্রিল, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য
ব্রেকিং নিউজ
  •   চাঁদপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাড. সলিম উল্লা সেলিম!

প্রকাশ : ০৪ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:৪২

এমন হামলা উদ্বেগজনক

অনলাইন ডেস্ক
এমন হামলা উদ্বেগজনক

ফরিদগঞ্জ উপজেলায় সন্ত্রাসী কায়দায় আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে বহিরাগত লোক দিয়ে বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য মোতাহার হোসেন পাটওয়ারীর সীমানা প্রাচীর ভেঙ্গে দিয়েছে তারই ভাতিজা মাহাবুব ও আবু জাফর গং। তারা সম্পত্তি নিজের দাবি করে পুনরুদ্ধারের নামে দেওয়াল ভাংচুর করেছে বলে সাংবাদিকদের জানান। এ ঘটনায় ৯৯৯-এ কল পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায় এবং সাংবাদিকরা তথ্য সংগ্রহে গেলে পুলিশ ও সাংবাদিকের ওপর হামলার অভিযোগ উঠে। ঘটনাস্থলে গিয়ে জানা যায়, ফরিদগঞ্জ পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ডের শাহাপুর গ্রামের পাটওয়ারী বাড়িতে বিএনপি কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য, উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোতাহার হোসেন পাটওয়ারীর নির্মাণ করা দেওয়াল ভাংচুর করে তারই ভাতিজা মাহাবুব পাটওয়ারী ও জাফর পাটওয়ারী নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী। এ সময় অনেকের হাতে অস্ত্র দেখতে পাওয়া যায়। এ ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা নাম প্রকাশ না করে বলেন, বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল ২০২৬) সকাল ৬ টার সময় হঠাৎ করে বাড়িতে অস্ত্রশস্ত্রসহ তিন মাইক্রো ও এক পিকআপ ভ্যান নিয়ে প্রায় অর্ধশতাধিক সন্ত্রাসী ঢুকে পড়ে। এর সাথে ছিলো মাহাবুব, জাফর ও তার বোনসহ অন্যরা। এ অবস্থায় পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তারা দেওয়াল ভাংচুর করে এবং হুমকি-ধমকি ও ভয়-ভীতি দিয়ে যায়। বাড়ির সবাই ভয় পেয়ে কেউ বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়, আবার কেউ দরজা বন্ধ করে স্তব্ধ হয়ে যায়। ৯৯৯-এ কল দিলে পুলিশ আসে, পাশাপাশি সাংবাদিকরাও আসে। ভিডিও করার কারণে তারা সাংবাদিক আব্দুস সালামের ওপর হামলা করে এবং তার মোবাইল কেড়ে নিয়ে যায়। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করলে তারা পুলিশ সুমনকে কিল ঘুষি মারে। হামলার শিকার সাংবাদিক আব্দুস সালাম বলেন, ঘটনার সংবাদ পেয়ে আমি আর মেহেদি সাথে সাথে সেখানে ছুটে যাই। গিয়ে দেখি একদল লোক সীমানা প্রাচীর ভাংছে। ঘটনার ভিডিও করতে গেলে কয়েকজন এসে আমাকে কিল-ঘুষি মারে এবং আমার মোবাইল কেড়ে নেয়। আমি হাসপাতালে গিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছি। আবু জাফর পাটওয়ারী বলেন, এটা আমাদের সম্পত্তি। ২০২৪ সালের আগস্টের পর সে (মোতাহার পাটওয়ারী) জোর করে দেওয়াল নির্মাণ করেছে। আজ আমরা দখলমুক্ত করেছি। মোতাহার হোসেন পাটওয়ারী বলেন, তারা (মাহাবুব ও জাফর) শতাধিক সন্ত্রাসী এনে, তিন গাড়ি আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে আমার সীমানা প্রাচীর ভেঙ্গে দিয়েছে। বিস্ময়কর বিষয় হলো, বহিরাগত এতোগুলো সন্ত্রাসী তিন গাড়ি অস্ত্র নিয়ে ফরিদগঞ্জে প্রবেশ করে ভাংচুর করে নিরাপদে আবার বেরিয়ে গেলো, অথচ প্রশাসন কিছুই করতে পারলো না! আওয়ামীলীগের আমলে তারা আমার ঘর ভেঙ্গে দিয়েছে। আমার যাতায়াতের পথে ওয়াল দিয়ে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছে। এখন পুরোনো স্টাইলে আবার আমার সীমানা প্রাচীর ভেঙ্গে দিয়েছে। ঘটনাটি আওয়ামীলীগের আমলকে স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে। পুলিশের উপস্থিতিতে সীমানা প্রাচীর ভাংচুর, পুলিশ ও সাংবাদিকের ওপর হামলার বিষয়ে ফরিদগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মো. হেলাল উদ্দিন বলেন, ‘ঘটনাস্থালে পুলিশের সংখ্যা কম থাকায় তাদের আটক করা সম্ভব হয়নি।’ পুলিশ সদস্যের ওপর হামলার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জবাব না দিয়ে এড়িয়ে যান। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) লুৎফর রহমান বলেন, ফরিদগঞ্জে বহিরাগতদের দেশীয় ও আগ্নেয়াস্ত্র সহ হামলার সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো দলীয় মনোভাব কিংবা পক্ষপাত অবলম্বন না করে এ কথা নিশ্চয় সচেতন প্রতিটি মানুষই বলবে, ফরিদগঞ্জ পৌর এলাকার শাহাপুর গ্রামে প্রকাশ্য দিবালোকে সংঘবদ্ধ হামলাটি খুবই উদ্বেগজনক। হামলাকারীরা সাংবাদিক ও পুলিশের ওপরও হামলা চালানোর দুঃসাহস দেখিয়েছে। এমন ঔদ্ধত্য দ্বারা বোঝাতে চেয়েছে, তারা প্রচণ্ড সন্ত্রাসী ও ক্ষমতাধর। ফরিদগঞ্জের প্রত্যন্ত কোনো গ্রামে নয়, খোদ উপজেলা সদরে এমন সংঘবদ্ধ হামলার কাছে পুলিশের অসহায়ত্ব মেনে নিতে কষ্ট হচ্ছে ভুক্তভোগীদের। এমন হামলাকারীদের শায়েস্তা না করলে বা প্রশ্রয় দিলে ফরিদগঞ্জ সন্ত্রাসের জনপদ হতে কম-বেশি এগিয়ে যাবে। এমনটি হতে দেয়া কি ঠিক হবে?

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়