বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য

প্রকাশ : ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৪:৩৭

ঐতিহ্যের ধারক বাখরপুর জামে মসজিদ

স্টাফ রিপোর্টার
ঐতিহ্যের ধারক বাখরপুর জামে মসজিদ

চাঁদপুর সদর উপজেলার ১২নং চান্দ্রা ইউনিয়নের বাখরপুর গ্রামে অবস্থিত 'বাখরপুর জামে মসজিদ'। এটি একটি পুরানো ঐতিহ্যের ধারক। স্থানীয়ভাবে এটি গায়েবি মসজিদ নামে পরিচিত। এক সময় এই মসজিদটির মেঘনা নদীর অনেক দূরত্বে অবস্থান ছিল। নদীর ভাঙ্গনের কারণে সেটি এখন মেঘনার কাছাকাছি চলে এসেছে।

জানা যায়, নৌ যোগাযোগ সহজ হওয়ার কারণে এ জেলায় ব্যবসা বাণিজ্যের জন্যে ভারতীয় মুসলমানদের আগমন ঘটে। তারা অস্থায়ীভাবে এই জেলায় অবস্থান করলেও বিভিন্ন সময় নানা স্থাপনা তৈরি করে যায়। ওইসব স্থাপনারই অংশ চাঁদপুরের বিভিন্ন এলাকায় চুন-সুরকি দিয়ে তৈরি করা মসজিদ। এসব স্থাপনাগুলো মোগল আমলের মসজিদ নামে পরিচিত।

সম্প্রতি বাখরপুর জামে মসজিদ এলাকা ঘুরে এবং মসজিদ পরিচালনা পর্ষদের সদস্য ও মুসল্লিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে এই মসজিদ সম্পর্কিত বিভিন্ন তথ্য।

জেলা সদর থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার ভেতরে এই মসজিদটির অবস্থান। সদরের দক্ষিণে সদর-হাইমচর সড়ক হয়ে চান্দ্রা বাজার চৌরাস্তা থেকে দক্ষিণে বাখরপুর গ্রাম। মূল সড়ক থেকে গ্রামীণ সড়ক দিয়ে চান্দ্রা ইউনিয়নের বাখরপুর পশ্চিম পাড়ায় মেঘনার নদীর কাছেই মসজিদটির অবস্থান।

স্থানীয়রা জানান, এই মসজিদ কবে নির্মাণ হয়েছে তার সঠিক কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে ইতিহাস পর্যালোচনা ও প্রবীণ লোকদের মতে মোগল আমলেই এই মসজিদ নির্মাণ হয়েছে। এটির নির্মাণশৈলী দেখে তা-ই মনে হয়।

মসজিদের উন্নয়নমূলক কাজে জড়িত নাজির পাটোয়ারী (৬৫) নামে এক মুসল্লি বলেন, মসজিদ কমপ্লেক্সটি ২৮ শতাংশ জমির ওপর। এর মধ্যে তিন গম্বুজ বিশিষ্ট মসজিদ ভবনটি ৬ শতাংশ জমির ওপর নির্মিত। এরপর প্রায় ৩০ বছর আগে মসজিদের মুসল্লি সংকুলান না হওয়ার কারণে মসজিদ সংলগ্ন পূর্ব দিকে ৮ শতাংশের মধ্যে ৫তলা ভিতের ওপর একতলা ভবনের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। পাশে ঈদগাহ ও পুকুর মিলিয়ে রয়েছে ১৪ শতাংশ।

মোগল আমলের নকশায় এই মসজিদটি তিন গম্বুজ ও তিন তারা বিশিষ্ট। আর এই নির্মাণ কাজ হয় শুধুমাত্র চুন-সুরকি দিয়ে। পুরো মসজিদের চারপাশে ২৮টি চুন-সুরকির তৈরি খুঁটি রয়েছে। আর এই খুঁটির সঙ্গে দেয়ালের পুরুত্ব সোয়া ৩ ফুট। পাঁচটি দরজা ও মূল মিম্বারের দু পাশে দুটি মেহরাব। সোয়া ৩ ফুট পুরুত্বের ঝুল ভিম দুটি। মসজিদটি যখন নির্মাণ হয়, তখনকার নির্মাণশৈলী অনেকাংশ এখন আর নেই। শুধুমাত্র তিনটি গম্বুজের ভেতরের অংশে কিছু হাতে তৈরি নকশা রয়েছে বিভিন্ন রঙের।

স্থানীয়রা জানান, এই মসজিদের মূল অংশে একসঙ্গে দেড় শতাধিক মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারে। বর্তমানে বর্ধিতাংশসহ প্রতি শুক্রবার প্রায় ৩০০ মুসল্লি একসঙ্গে নামাজ আদায় করতে পারেন।

সূত্র : জাগো নিউজ।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়