প্রকাশ : ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৮:৫৯
ফরিদগঞ্জে মাটিখেকো চক্র সক্রিয়, আর প্রশাসন?

ফরিদগঞ্জ উপজেলার গুপ্টি ইউনিয়নের বৈচাতরী মাঠ থেকে ফসলি জমির মাটি কেটে নেওয়া হচ্ছে ইটভাটায়। জানা যায়, স্থানীয় মাটিখেকো চক্র দীর্ঘদিন যাবত বৈচাতরী মাঠসহ আশেপাশের এলাকার ফসলি জমির মাটি কেটে ইটভাটায় বিক্রি করছে। তারা একটি জমির মাটি কিনে বিশালাকার গর্ত করে পাশের জমির সীমানা ঘেঁষে মাটি কেটে নেয়, যাতে পাশের জমির মাটি ভেঙ্গে পড়লে জমির মালিক তার জমির মাটি বিক্রি করে ফেলতে বাধ্য হয়। এরা দীর্ঘদিন যাবত বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে নিষিদ্ধ ট্রাক্টর ও ট্রলি দ্বারা মাটি পরিবহন করে আসছে। চাঁদপুর সেচ প্রকল্প (সিআইপি) বেড়িবাঁধ কেটে রাস্তা তৈরি করে গাড়িগুলো জমি থেকে মাটি বহন করে নিয়ে যায়। মাটি কাটার সাথে জড়িত চক্রের ক’জন হচ্ছে : নজরুল ইসলাম, শাওন ও মোস্তফা। এদের মাধ্যমে অত্র অঞ্চলের মাটি কেটে নিষিদ্ধ ট্রলি ও ট্রাক্টর দ্বারা ইটভাটায় নেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে সিআইপি বেড়িবাঁধ সংলগ্ন জমির মাটি বিক্রি করেন ইব্রাহিম খলিল। তার জমির মাটির গভীরতা বেশি করার কারণে ও পাশের জমির সীমানা ঘেঁষে মাটি কেটে নেওয়ার ফলে পাশের জমির মাটি ভেঙ্গে পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। এমনকি মাটি নেওয়ার জন্যে সিআইপি বেড়িবাঁধ কেটে রাস্তা করে বিভিন্ন জনের জমির মাটি নেওয়া হয়েছে। দিনের পর দিন এভাবে মাটি কাটার কারণে জমির উর্বরতা শক্তি হারিয়ে যাচ্ছে। ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে আবাদী জমি। এ ব্যাপারে ৫নং গুপ্টি ইউপি চেয়ারম্যান শাহজাহান পাটোয়ারী বলেন, সাবেক চেয়ারম্যানের বাড়ির নিকট ও গুপ্টি ব্রিজের গোড়ায় মাটি কাটা হচ্ছে। বৈচাতরী মাঠে এখন মাটি কাটতে দেখি না। স্কিম ম্যানেজার আনোয়ার বলেন, জমির মাটি কেটে জমিগুলো নষ্ট করে ফেলেছে। এ ব্যাপারে ইব্রাহিম খলিল বলেন, পুরো মাঠেরই মাটি বিক্রি করে ফেলেছে। আমি আমার মাটি বিক্রি করেছি। মাটি বিক্রেতা ইব্রাহিম খলিলের সরল স্বীকারোক্তিতেই বোঝা যায়, ফরিদগঞ্জের একটি মাঠ থেকে প্রশাসনের নীরবতায় কীভাবে অবৈধ উপায়ে মাটি বিক্রি হয়েছে। এখানকার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়মিত অভিযান না চালানোর কারণে একটি মাঠের অবস্থা কী দাঁড়াতে পারে সেটি বৈচাতরী মাঠের বর্তমান অবস্থা থেকেই অনুধাবন করা যায়। ফরিদগঞ্জে কালেভদ্রে ভ্রাম্যমাণ আদালত চালানো হয়, যেটা অপর্যাপ্ত, যাতে মাটিখেকোদের যথার্থ শায়েস্তা হয় না। মতলব দক্ষিণে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মুমতাহিনা পৃথুলা মাটিখেকোদের এক বছর কারাদণ্ড ও লাখ লাখ টাকা জরিমানা করে যেভাবে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছেন, সেটা ফরিদগঞ্জে দৃশ্যমান নয়। নখর দন্তহীন পরিবেশ অধিদপ্তরও ফরিদগঞ্জের মাটিখেকো ও অবৈধ ব্রিক ফিল্ডের ব্যাপারে নিশ্চুপ। এটা নিঃসন্দেহে রহস্যজনক। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন দরজায় কড়া নাড়ছে। এখন এ রহস্য উন্মোচনে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় জেলা প্রশাসনের করার ফুরসত হয় তো নেই। তবে নির্বাচনের পর সে ফুরসত থাকবে। তখন সেটি কাজে লাগাবার জন্যে অনুরোধ জানাচ্ছি।



