প্রকাশ : ১০ জানুয়ারি ২০২৬, ১৮:০৯
চাঁদপুরে গানে গানে সাংস্কৃতিক বিপ্লব
সংবাদমাধ্যম ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানে হামলার প্রতিবাদে ফুঁসে উঠেছে জনতা

সম্প্রতি রাজধানীর ধানমন্ডিতে ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান ছায়ানট, তোপখানা রোডে উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী এবং কারওয়ান বাজারে শীর্ষস্থানীয় দুই গণমাধ্যম প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার কার্যালয়ে বর্বরোচিত হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনার প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছে চাঁদপুর।
অনুষ্ঠানে ভিডিও চিত্র ধারণ করেন সাংবাদিক ও সংস্কৃতিকর্মী পলাশ দে।
আজ শনিবার (১০ জানুয়ারি) বিকেলে চাঁদপুর জেলা শিল্পকলা একাডেমির সম্মুখ সড়কে সকল সাংস্কৃতিক সংগঠন ও সংস্কৃতিকর্মীদের আয়োজনে এক বিশাল মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। ‘গানে গানে প্রতিবাদ’ স্লোগানকে সামনে রেখে এই কর্মসূচিতে শিল্পী, সাহিত্যিক, সাংবাদিক এবং সাধারণ নাগরিকরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন।
অসাম্প্রদায়িক চেতনার সুর
সমাবেশের শুরুতেই সংস্কৃতিকর্মীরা হারমোনিয়াম, ঢোল ও করতাল নিয়ে গণসংগীত ও দেশাত্মবোধক গান পরিবেশন করেন। গানের সুরের মাধ্যমে তারা উগ্রবাদ ও মব কালচারের বিরুদ্ধে তীব্র ঘৃণা প্রকাশ করেন। মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, "সংস্কৃতির ওপর হামলা মানে একটি জাতির মেরুদণ্ডের ওপর হামলা। যারা ছায়ানট, উদীচী কিংবা গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় আঘাত হানে, তারা দেশ ও জাতির শত্রু।"
সমাবেশে প্রধান দাবিগুলো:
ছায়ানট ও উদীচীর কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগকারীদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা।
গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা এবং প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার কার্যালয়ে হামলার সুষ্ঠু বিচার।
দেশের অসাম্প্রদায়িক ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ রক্ষায় সরকারকে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া।
সাংস্কৃতিক সংগঠন ও কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
একাত্মতা ও সংহতি
চাঁদপুরের বিভিন্ন নাট্যদল, সংগীত বিদ্যালয় এবং আবৃত্তি সংগঠনের প্রতিনিধিরা এই মানববন্ধনে অংশ নেন। বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও আবহমান বাংলার সংস্কৃতিকে মুছে ফেলার কোনো অপচেষ্টাই সফল হতে দেওয়া হবে না। সমাবেশে বক্তারা হুশিয়ারি দিয়ে বলেন, যদি দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না দেওয়া হয়, তবে সারাদেশের সংস্কৃতিকর্মীরা আরও কঠোর কর্মসূচির ডাক দেবে।
ডিসিকে/এমজেডএইচ








