প্রকাশ : ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৩৯
বিদ্যুৎস্পৃষ্টে দগ্ধ শিশুর ৫ দিন পর মৃত্যু, আশঙ্কাজনক অপরজন

চাঁদপুর শহরের নিউ ট্রাক রোড এলাকায় একটি বহুতল ভবনের বারান্দায় খেলতে গিয়ে ৩৩ হাজার ভোল্টের বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনে দগ্ধ দুই শিশুর মধ্যে মো. রাব্বি (৪) নামের এক শিশু চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে। প্রায় পাঁচ দিন পর বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) ভোর ৪টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে তার মৃত্যু হয়। একই ঘটনায় দগ্ধ অপর শিশু ফাইজা আক্তারের (৬) অবস্থাও আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
|আরো খবর
নিহত রাব্বির খালার নাম ইয়াছমিন আক্তার। তিনি মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, "রাব্বির মা ফোন করে ভোর ৪টার দিকে তার মৃত্যুর খবর দেন। বর্তমানে অন্য শিশু ফাইজার অবস্থাও সংকটাপন্ন। বিকেলে রাব্বির মরদেহ বাড়িতে আনা হবে।"
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্বজনদের সূত্রে জানা যায়, গত ৩ অক্টোবর ২০২৬ (শনিবার) বেলা ২টার দিকে শহরের নিউ ট্রাক রোডের ‘আরএস টাওয়ার’-এর পঞ্চম তলার পশ্চিম পাশের ফ্ল্যাটের বারান্দায় খেলছিলো দুই খালাতো ভাইবোন রাব্বি ও ফাইজা। এ সময় ভবনের কোল ঘেঁষে যাওয়া ৩৩ হাজার ভোল্টের বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের সংস্পর্শে এসে তারা গুরুতর দগ্ধ হয়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় প্রথমে তাদের ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে প্রাথমিক চিকিৎসাশেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের ঢামেক হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে পাঠানো হয়েছিল।
চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. আসিবুল হাসান জানান, দগ্ধ অবস্থায় শিশু দুটিকে হাসপাতালে আনা হলে তিনিই চিকিৎসা দেন। আগুনে ফাইজার শরীরের প্রায় ৫০ শতাংশ এবং রাব্বির শরীরের প্রায় ৬০ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল। শুরু থেকেই দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক ছিলো।
স্বজনরা জানান, নিহত রাব্বি ও চিকিৎসাধীন ফাইজা সম্পর্কে খালাতো ভাইবোন। তারা তাদের মায়ের সঙ্গে ঘটনার দিন চাঁদপুরে ওই আত্মীয়ের বাসায় বেড়াতে এসেছিলো। তাদের মূল বাড়ি পার্শ্ববর্তী লক্ষ্মীপুর জেলার রায়পুর উপজেলায়।
আরএস টাওয়ারে ভাড়া থাকেন তাদের খালা ইয়াছমিন আক্তার। তার স্বামী সোহেল দেওয়ান সৌদি প্রবাসী এবং তাদের মূল বাড়ি ফরিদগঞ্জের কালিরবাজার এলাকায়। দুর্ঘটনার পর শিশুরা ঢাকায় চিকিৎসাধীন থাকায় পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আইনি পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে চাঁদপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফয়েজ আহমেদ জানান, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে শিশু দগ্ধ বা মৃত্যুর ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কেউ লিখিত অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।






