সোমবার, ২০ এপ্রিল, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য

প্রকাশ : ২০ এপ্রিল ২০২৬, ০০:৩০

মরা ডাকাতিয়া নদী ইজারা নিয়ে দ্বন্দ্ব

জেলা প্রশাসকের কাছে অভিযোগ

ফরিদগঞ্জ ব্যুরো
মরা ডাকাতিয়া নদী ইজারা নিয়ে দ্বন্দ্ব

প্রকৃত জেলেদের পরিবর্তে অন্য পেশার লোকজনকে জেলে বানিয়ে ফরিদগঞ্জ উপজেলার চররামপুর এলাকার 'মরা ডাকাতিয়া নদী জলাশয়’ ইজারা নেয়ার পাঁয়তারা করার অভিযোগ উঠেছে বিশকাটালী আদর্শ মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি লি.-এর বিরুদ্ধে। এ ব্যাপারে প্রতিকার চেয়ে এবং পুনঃটেন্ডারের মাধ্যমে প্রকৃত মৎস্যজীবীদের জলাশয় ইজারা দেয়ার জন্যে চররামপুর মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি লিমিটেডের পক্ষ থেকে চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত আবেদন করা হয়েছে।

চররামপুর মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি লিমিটেডের সাধারণ সম্পাদক আমির হোসেন জানান, ফরিদগঞ্জের দক্ষিণ ইউনিয়নের চররামপুর এলাকায় অবস্থিত ১৮৫ নং চররামপুর মৌজার ১নং খাস খতিয়ানভুক্ত ‘মরা ডাকাতিয়া নদী, মৌজা-পুটিয়া, চররামপুর, আয়তন- ৫৪.৪৮ একর' জলাশয়। চরদুঃখিয়া পশ্চিম ইউনিয়নের কিন্তু বিশকাটালী আদর্শ মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি লি., সাং- বিশকাটালী, ফরিদগঞ্জ, চাঁদপুর নামীয় সমিতি কর্তৃপক্ষ কৌশলের আশ্রয় নিয়ে টেন্ডারের বিষয়টি গোপন করে জলশায়টি ইজারা নেয়ার পাঁয়তারা করে। অথচ আমরা নিকটবর্তী সমিতি হিসেবে চররামপুর মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি লিমিটেড ইজারা নেয়ার অন্যতম দাবিদার। আমরা চাই জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ঘটনা তদন্ত করে নতুন করে টেন্ডার আহ্বান করে প্রকৃত মৎস্যজীবীরা যাতে জলাশয় আবাদ করতে পারে তা নিশ্চিত করবেন। তাছাড়া যেই সমিতি এই জলাশয় ইজারা নিতে অপতৎপরতা চালাচ্ছে তারা পতিত সরকারের দোসর। আমরা জেলা প্রশাসক বরাবর গত ২ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে লিখিত আবেদন করেছি। কিন্তু অদ্যাবধি কোনো অগ্রগতি দেখছি না।

এদিকে স্থানীয় লোকজন জানান, বিশকাটালী আদর্শ মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি লি.-এর সদস্যরা অধিকাংশই জেলে নন এবং অনেকেই ভিন্ন পেশার লোক। এছাড়া যেসব জেলের আইডি কার্ড ব্যবহার করা হয়েছে তারা এই বিষয়ে কেউই কিছু জানেন না। তাদেরকে খাদ্য সহায়তা দেয়ার মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে জাতীয় পরিচয়পত্র ও ছবি নিয়ে এই সমিতির সদস্য হিসেবে দেখানো হয়েছে। তাছাড়া জলাশয়ের নিকটবর্তী সমিতি সেটি নয়।

এ ব্যাপারে বিশকাটালী আদর্শ মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি লি.-এর সভাপতি আব্দুল কুদ্দছ সায়েম ১৮৫ নং চররামপুর মৌজার ১নং খাস খতিয়ানভুক্ত ‘মরা ডাকাতিয়া নদীর ইজারা' নিয়ে আনীত অভিযোগ সঠিক নয় দাবি করে বলেন, কর্তৃপক্ষ যাচাই বাছাই করেই প্রকৃত সমিতিকে ইজারা প্রদান করবে।

ফরিদগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সেটু কুমার বড়ুয়া বলেন, অভিযোগের বিষয়টি জেনেছি। এটি জেলা প্রশাসকের এখতিয়ার, তিনিই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিবেন।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়