সোমবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য
ব্রেকিং নিউজ

প্রকাশ : ১২ এপ্রিল ২০২৬, ২১:০২

মতলবে শ্বশুর বাড়িতে জামাতার মৃত্যু।। পরিবারের দাবি হত্যা

রেদওয়ান আহমেদ জাকির

মতলব দক্ষিণ উপজেলায় রিপন প্রধান (২৭) নামে এক যুবকের শ্বশুর বাড়িতে মৃত্যুকে ঘিরে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিহতের পরিবারের দাবি, পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করা হয়েছে।

উপজেলার খাদেরগাঁও ইউনিয়নের নাগদা গ্রামের নিহত রিপন প্রধান মতলব উত্তর উপজেলার লবাইরকান্দি গ্রামের আনামত উল্লাহর ছেলে। তিনি পেশায় একজন ব্যবসায়ী ছিলেন। তার স্ত্রী খাদিজা আক্তার মতলব দক্ষিণ উপজেলার নাগদা এলাকার বাসিন্দা। তাদের দাম্পত্য জীবনে তিন বছর বয়সী এক ছেলে রয়েছে।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার (১১ এপ্রিল ২০২৬) সকাল ১০টার দিকে ঢাকার খিলগাঁও এলাকায় নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে নাস্তার কথা বলে বের হন রিপন। বিকেল ৪টার দিকে খাদিজা আক্তারের পরিবারের পক্ষ থেকে ফোন করে জানানো হয়, রিপন অসুস্থ হয়ে চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। পরে স্বজনরা হাসপাতালে গিয়ে কর্মরত চিকিৎসকদের কাছ থেকে তার মৃত্যুর খবর জানতে পারেন।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, একজন পুরুষ ও একজন মহিলা রিপনকে হাসপাতালে নিয়ে আসেন। তবে ভর্তি করানোর পর থেকেই তারা নিখোঁজ হয়ে যান এবং তাদের সাথে আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

নিহতের বড়োভাই শাহ আলম (৪৫) অভিযোগ করে বলেন, আমার ভাই সম্পূর্ণ সুস্থ অবস্থায় ঢাকা থেকে শ্বশুরবাড়িতে আসে। পরে পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করা হয়েছে। ক'দিন আগে তার স্ত্রীর পরকীয়া নিয়ে সালিস হয়েছিলো। এই ঘটনার জেরে আমার ভাইকে তারা মেরে ফেলেছে।

তিনি আরও দাবি করেন, খাদিজা আক্তারের মামাতো ভাই বিল্লালের সাথে তার পরকীয়ার সম্পর্ক ছিলো, যা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক বিরোধ চলছিলো। পোস্ট মর্টেম রিপোর্ট পেয়ে আইনী ব্যবস্থাগ্রহণ করবো।

তবে স্ত্রী পক্ষের দাবি, তিনি বিষপান করে অসুস্থ হয়ে পড়েন। স্ত্রী খাদিজা আক্তার বলেন, আমার স্বামী আমাদের বাড়িতে এসে সকালে আমাকে কল দিছে বাড়িতে আসার জন্যে। আমি বাড়িতে আসার আগেই বিকেলে খবর এসেছে, স্বামী রিপন কেরির ট্যাবলেট খাইছে।

আমি সিএনজি নিয়ে মতলব হাসপাতালে যাই। স্বামীর অবস্থা বেগতিক দেখে ডাক্তাররা চাঁদপুর হাসপাতালে রেফার করে। তারপর আমি বাড়িতে চলে আসি।

খাদিজার বড়ো বোন তপুরা বেগম বেগম বলেন, রিপন হঠাৎ ঘরে এসে বলতেছে, কেরির ট্যাবলেট খাইছে। তারপর আমি এবং আমার ভাতিজা ফাহিমরে সাথে নিয়ে হাসপাতালে নিয়ে যাই। মতলব হাসপাতাল থেকে চাঁদপুর রেফার করলে আমি সাথে যাই। ডাক্তার রিপনের মৃত্যুর কথা বললে আমি লাশ রেখে চলে আসি।

উল্লেখ্য, নিহতের শ্যালক নুরে আলমের স্ত্রীকে দু বছর আগে বিষ প্রয়োগে হত্যার অভিযোগ রয়েছে, যা বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন। নিহতের পরিবার দাবি করছে, একই কায়দায় রিপনকেও হত্যা করা হয়েছে।

ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। মতলব দক্ষিণ থানার ওসি (তদন্ত) অখিল চন্দ্র সরকার বলেন, এ বিষয়ে থানায় এখনো কেউ অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে আমরা তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাগ্রহণ করবো।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়