প্রকাশ : ০৪ এপ্রিল ২০২৬, ২২:৩৮
বাবুরহাট বাজারে চুরির ঘটনায় চোর ধরতে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান চলছে

চাঁদপুর সদর উপজেলার প্রসিদ্ধ বাবুরহাট বাজারে গত বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল ২০২৬) দিবাগত রাতে মেসার্স সিটি ট্রেডার্সে এক দুর্ধর্ষ চুরি সংঘটিত হয় এবং প্রায় ১০ লাখ টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে যায় সংঘবদ্ধ চোর চক্র। এ ঘটনায় চাঁদপুর কণ্ঠে প্রতিবেদন ছাপা হয় গত ০৪ এপ্রিল ২০২৬। চুরির ঘটনায় বাবুরহাট বাজার সহ অত্র এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য দেখা দেয়। কারণ এ বাজারে গত ১৬ বছরে এ রকম কোনো বড়ো ধরনের চুরি সংঘটিত হয়নি। এ বিষয়ে দোকান মালিক আলহাজ্ব মমিনুল ইসলাম মমিনের সাথে কথা হলে তিনি জানান, এলাকার মাদকসেবী ও চিহ্নিত কিছু চোর রয়েছে, যারা মাদকের টাকা জোগাড় করতে এই ধরনের চুরি করতে পারে। চোরেরা দীর্ঘদিন থেকে এই পরিকল্পনা করে আসছিলো এবং তারা এটার বাস্তবায়ন করে দেখালো। তিনি জানান, চুরির ঘটনায় তিনি ব্যবসা নিয়ে শঙ্কিত আছেন। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, গত রমজানে তার প্রতিষ্ঠান থেকে ১২৭ জনকে বিভিন্ন ইফতার সামগ্রী প্রদান করা হয়, বেশ কিছু মাদ্রাসায় পাঁচ হাজার পঞ্চাশ টাকা করে দেয়া হয় এবং যাকাত ফান্ডের টাকা থেকে প্রায় ৩৫০ টি মাদ্রাসাকে দান করা হয়।
|আরো খবর
চুরির ঘটনায় বাবুরহাট বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটির ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি মাসুদ পালোয়ানের সাথে আলোচনা কালে তিনি জানান, এই চুরির ঘটনা দ্রুত উদ্ঘাটন হবে এবং আমরা এটা নিয়ে কাজ করছি। তিনি জানান, বাজারে নিরাপত্তার জন্যে সাতজন নাইট গার্ড সারারাত পাহারা দিয়ে থাকে, কিন্তু চোরেরা মার্কেটের পেছন দিক দিয়ে চুরি করে চলে যায়। যে কারণে পাহারাদারদের পক্ষে চোরদেরকে ধরা সম্ভব হয়নি। তিনি জানান, নিরাপত্তা কর্মীদের আরো সতর্কতার সাথে কাজ করার ব্যাপারে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। তিনি জানান, এ রকম চুরি যাতে আর কখনোই না ঘটে সে ব্যাপারে বাজার ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ তাদের সাধ্যমত কাজ করে যাচ্ছে। তিনি এ ব্যাপারে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন। চুরির এ ঘটনায় চাঁদপুর সদর থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ বিষয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা চাঁদপুর সদর থানার এস আই কালাম গাজী জানান, বাবুরহাট বাজারের চুরির ঘটনায় আসামিদেরকে ধরতে গতরাতে পুলিশ অত্র অঞ্চলে ব্যাপক অভিযান চালিয়েছে এবং আসামিদেরকে ধরতে সোর্স লাগানো আছে। আমরা খুবই আশাবাদী দ্রুতই এই ঘটনার একটি সুষ্ঠু সমাধান পুলিশ বের করতে পারবে। তিনি জানান, আজ (শনিবার) রাতেও পুলিশ অভিযান পরিচালনা করবে এবং ইতোমধ্যেই চোরের ঘটনার সাথে সন্দেহভাজন যারা জড়িত তাদেরকে অনেকটা চিহ্নিত করা হয়েছে। তবে তদন্ত চলমান থাকায় তিনি এ বিষয়ে কারো নাম উল্লেখ করেননি।
সার্বিক বিষয়ে বাবুরহাট বাজারের এই চুরির ঘটনায় বাজারের প্রায় তিন হাজার দোকানদারের মাঝে আশঙ্কা, সন্দেহ এবং ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। সচেতন মহল মনে করে, এ ঘটনার দ্রুত সমাধান হলে এ রকম দুর্ধর্ষ চুরির ঘটনা আর ঘটবে না। এ বিষয়ে সকলেই পুলিশের রাত্রিকালীন টহল আশা করে।







