প্রকাশ : ২৯ মার্চ ২০২৬, ০৭:৪৮
জেলার ১৫টি ফিলিং স্টেশনে মোটরসাইকেল চালকদের হাহাকার, দীর্ঘ লাইন!

চাঁদপুর জেলার ৮ উপজেলায় প্রায় ১৫টি জ্বালানি তেলের বৈধ ফিলিং স্টেশন থাকা সত্ত্বেও সবক'টিতেই এখন মোটরসাইকেল চালকদের তেলের জন্যে হাহাকার নিয়ে দীর্ঘ লাইনে থাকতে হচ্ছে। কোনো কোনো ফিলিং স্টেশনে ইতোমধ্যেই অকটেন ও পেট্রোল বিক্রি বন্ধ সাইনবোর্ড লাগিয়ে দেয়া হয়েছে। ২/৩টিতে তেল বিক্রি হচ্ছে মোটরসাইকেল প্রতি ২শ’ টাকা করে। আর এতেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা সোনার হরিণের মতো তেল নিতে তীর্থের কাকের মতো অপেক্ষা করতে হচ্ছে মোটরসাইকেল চালকদের। শনিবার (২৮ মার্চ ২০২৬) দিনব্যাপী ফিলিং স্টেশনগুলোতে এমন পরিস্থিতিই দেখা যায়। শহরের জেলা পরিষদ সংলগ্ন তেলের পাম্প শারমিন ফিলিং স্টেশনে গত ২দিন যাবৎ পেট্রোল ও অকটেন বিক্রি বন্ধ রয়েছে। একই চিত্র জেলা শহরের বাইরের ফিলিং স্টেশনগুলোতেও। আবার ২/৩টিতে তেল দিনে মিললেও রাতে বিক্রি বন্ধ থাকছে। শহরের ওয়্যারলেস বাজারে টোলঘরের বিপরীত পাশে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক টং দোকানিকে অকটেন বিক্রি করতে দেখা যায়। তিনি প্রতি লিটার অকটেন বিক্রি করছেন ১৩৫ থেকে ১৪০ টাকায়। তিনি জানান, আমি ১৩৩ টাকা দরে লিটার প্রতি গভীর রাতে তেল কিনছি। আমাদের সাথে ডিপো ও ফিলিং স্টেশনের ভালো যোগাযোগ রয়েছে। তাই সাধারণ মানুষ তেল না পেলেও আমরা পাচ্ছি এবং বিক্রি করছি। শহরের আমির হোসেন খান কোম্পানির ফিলিং স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, মোটরসাইকেলে জ্বালানি তেল সরবরাহ প্রায় বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। অন্যদিকে প্রতি মোটরসাইকেলের জন্যে মাত্র ২ লিটার পেট্রোল বরাদ্দ করে রেশনিং করা হচ্ছে। এ বিষয়ে ফিলিং স্টেশনের ব্যবস্থাপক কামাল হোসেন বলেন, দেশে তেলের সংকট চলছে, তাই রেশনিং নিয়মেই তেল বিক্রি করা হচ্ছে। তেল সংকটের এই দাবিকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি)-এর পদ্মা অয়েল কোম্পানির চাঁদপুরস্থ ডিপো ইনচার্জ লোকমান হোসেন। তিনি জানান, ডিপোসহ কোথাও জ্বালানি তেলের কোনো ঘাটতি নেই। যারা কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে, তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়ার অনুরোধ জানাচ্ছি। চাঁদপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. এরশাদ উদ্দিন জানান, আমাদের জেলা শহরে তেলের তিনটা ডিপো রয়েছে। পদ্মা-মেঘনা ও যমুনা। এগুলো থেকে চাঁদপুর ছাড়াও পার্শ্ববর্তী আরও ৪ জেলায় তেল সরবরাহ করা হয়। প্রশাসনের পক্ষ হতে আমরা জেলার প্রতিটি ফিলিং স্টেশনে ট্যাগ অফিসার নিয়োগ দিয়ে নজরদারি করছি। মোবাইল কোর্টও প্রয়োজনে পরিচালনা করছি। সরকার যেভাবে নির্দেশনা দিয়েছে বিষয়টি সেভাবেই দেখা হচ্ছে। অযৌক্তিকভাবে কোনো ফিলিং স্টেশন তেল আটকে রাখলে বা রেশনিং করলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে। চাঁদপুরের পুলিশ সুপার রবিউল হাসান বলেন, জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুদের কোনো নির্দিষ্ট তথ্য থাকলে, অথবা কেউ যদি বেশি দামে জ্বালানি তেল বিক্রি করে এদের তথ্য আমাদেরকে দিলে আমরা তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেবো। তথ্য প্রদানকারীর নাম-ঠিকানা অবশ্যই আমরা গোপন রাখবো।







