শনিবার, ২৮ মার্চ, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য
ব্রেকিং নিউজ
  •   হাজীগঞ্জে ৩ ডাকাত গ্রেফতার। পিকআপ সহ দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার

প্রকাশ : ২৭ মার্চ ২০২৬, ২০:৫৪

তারাবীহ নামাজ পড়তে বের হয়ে খুনের শিকার শিশু রুবেল হত্যার বিচার দাবিতে মানববন্ধন

প্রবীর চক্রবর্তী ও শামীম হাসান
তারাবীহ নামাজ পড়তে বের হয়ে খুনের শিকার শিশু রুবেল হত্যার বিচার দাবিতে মানববন্ধন

শিশুর ভবিষ্যতের কথা ভেবে মাদ্রাসার বোর্ডিংয়ে দিয়েছিলেন আদরের ধন ৮ বছরের ছোট ছেলে রুবেলকে। পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে তাকে বাড়িতে নিয়ে আসেন। এখান থেকেই প্রতিদিন ইফতারের পর তারাবীহ নামাজ পড়তে মসজিদে যেতো সে। 'প্রতিদিন আসতে ও যেতে আমাকে সালাম দিতো। কিন্তু গত ২ সপ্তাহ ধরে আমি আমার কলিজার টুকরার সালাম পাই না, কারা আমার রুবেলকে মেরেছে। কেনো মেরেছে জানি না'। এ কথাগুলো বলতে বলতে হাউমাউ করে কেঁদে দিলেন নৃশংস হত্যার শিকার শিশু রুবেলের মমতাময়ী মা পরান বেগম। এলাকার নারী ও শিশুরা রুবেলের খুনিদের আটক ও তাদের বিচারের দাবিতে বাড়ির সামনে মানববন্ধনের আয়োজন করলে সেখানে উপস্থিত হয়ে কথা বলেন পরান বেগম। নিহত শিশু রুবেল তিন ভাইয়ের মধ্যে সবার ছোট।

এর কিছু সময় আগে বালিথুবা পূর্ব ইউনিয়নের পাটওয়ারী বাজারে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী এই হত্যার বিচার দাবি করে মানববন্ধন করেন।

হত্যার ঘটনার গত ১৮ দিনেও হত্যাকাণ্ডের রহস্যের উল্লেখ্যযোগ্য অগ্রগতি না হওয়ার প্রতিবাদে ও হত্যাকারীদের আটকের দাবিতে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী শুক্রবার (২৭ মার্চ ২০২৬) বিকেলে এই মানববন্ধন করে।

মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন শিশুটির বাবা আব্দুল কাদের, এলাকাবাসীর পক্ষে ইউপি সদস্য আবু সাদেক, মো. ইব্রাহিম খান, মোশারফ হোসেন বতু, রহমত উল্লাহ তালুকদার, জাহাঙ্গীর খান, তুহিন হাসান চৌধুরী প্রমুখ। তারা বলেন, ৮ বছরের একটি শিশুর কোনো শত্রু থাকার কথা নয়। তাছাড়া সে মাদ্রাসার বোর্ডিংয়ে থাকে, মাহে রমজান উপলক্ষে বাড়িতে এসেছে। বাড়ি থেকেই প্রতিদিনের মতো গত বুধবার (১০ মার্চ ২০২৬) তারাবীহ নামাজ পড়তে বের হয়ে নৃশংস খুনের শিকার হয় রুবেল। এই ঘটনার ১৮ দিন পেরিয়ে গেলেও পুলিশ হত্যার প্রকৃত কারণ ও হত্যাকারীদের আটক করতে পারেনি। এতে এলাকার অভিভাবকরা আতংকে রয়েছে, শিশুরা ভয়ে ভয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যাচ্ছে। ঘটনার পর কোনো ক্লু উদঘাটন হয়েছে কিনা তা আমরা জানি না। আমরা হতাশ, তাই এই মানববন্ধনে দাঁড়িয়েছি।

উল্লেখ্য, বুধবার (১০ মার্চ ২০২৬) ইফতারের পর তারাবীহ নামাজ পড়তে ঘর থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয় নূরানী মাদ্রাসায় পড়ুয়া আট বছর বয়সী শিশু রুবেল। প্রায় ৪ ঘণ্টা পর বাড়ির পাশের বাঁশঝাড়ের পাশে মিলে তার রক্তাক্ত মৃতদেহ। শিশুটি ফরিদগঞ্জ উপজেলার বালিথুবা পূর্ব ইউনিয়নের শোশাইরচর গ্রামের মাইজের বাড়ির দিনমজুর আব্দুল কাদেরের ছোট ছেলে। নিহত রুবেল স্থানীয় সানকিসাইর মাদ্রাসার নূরানী বিভাগের ছাত্র ছিলো । সংবাদ পেয়ে থানা পুলিশ শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে বুধবার (১১ মার্চ ২০২৬) সকালে পোস্টমর্টেমের জন্যে চাঁদপুর প্রেরণ করে। পরে এ ব্যাপারে শিশুটির পিতা বাদী হয়ে ফরিদগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেন।

এ ব্যাপারে ফরিদগঞ্জ থানার ওসি মো. হেলাল উদ্দিন জানান, শিশু রুবেলের মৃত্যুর ঘটনায় পুলিশ তার তদন্ত অব্যাহত রেখেছে। আমাদের তদন্ত টিম ম্যানুয়ালি ও ডিজিটালি তদন্ত করছে।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়