প্রকাশ : ০৫ মার্চ ২০২৬, ১৭:১৬
কচুয়ায় রাফি হত্যার বিচারের দাবিতে সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ মিছিল

কচুয়া উপজেলার ছাত্রদল নেতা রাফি পাটোয়ারীর সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও শোকের সৃষ্টি হয়েছে। তার মৃত্যুর বিচার ও আল আরাফাহ পরিবহনের বাস চলাচল বন্ধের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সড়ক অবরোধ করেছেন স্থানীয় এলাকাবাসী এবং ৩নং বিতারা পশ্চিম ইউনিয়ন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা।
|আরো খবর
বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ ২০২৬) সকাল ১১টার দিকে কচুয়া–সাচার-গৌরিপুর সড়কের বাতাপুকুুরিয়া এলাকায় বিক্ষুব্ধ জনতা সড়ক অবরোধ করেন। এতে প্রায় এক ঘণ্টা সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায় এবং উভয় পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। এ সময় ক্ষুব্ধ জনতা আল আরাফাহ পরিবহনের কয়েকটি বাসও আটকে দেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিক্ষোভকারীরা রাফি পাটোয়ারীর মৃত্যুকে হত্যাকাণ্ড উল্লেখ করে দ্রুত বিচার এবং দুর্ঘটনার জন্যে দায়ী পরিবহন বন্ধের দাবি জানান। এ সময় তারা বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে প্রতিবাদ জানান এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেন।
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে স্থানীয় বিএনপি নেতারা ঘটনাস্থলে এসে বিক্ষোভকারীদের সাথে কথা বলেন। পরে উপজেলা বিএনপির সভাপতি খায়রুল আবেদীন স্বপন মিয়া আন্দোলনকারীদের দাবি শিক্ষামন্ত্রী ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে তুলে ধরার আশ্বাস দিলে এলাকাবাসী সাময়িকভাবে সড়ক অবরোধ প্রত্যাহার করেন। তবে তারা ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ঢাকা-কচুয়া-রামগঞ্জ রুটে আল আরাফাহ বাস চলাচল বন্ধ ও ঘটনার সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান। দাবি পূরণ না হলে আরও কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন বিক্ষুব্ধ জনতা ও ছাত্রদল নেতাকর্মীরা।
উল্লেখ্য, গত বুধবার বিকেলে রাফি পাটোয়ারী ঢাকা থেকে মোটরসাইকেলে করে নিজ বাড়ি কচুয়ার মাঝিগাছা গ্রামের উদ্দেশ্যে ফিরছিলেন। পথে কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার আমিরাবাদ এলাকার হরিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে আল আরাফাহ পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে তার মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে গুরুতর আহত হন রাফি। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে দাউদকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে সেখান থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
রাফি পাটোয়ারীর অকাল মৃত্যুতে তার পরিবার, সহপাঠী ও স্থানীয়দের মাঝে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এলাকাবাসীর দাবি, সড়কে বেপরোয়া বাস চলাচল বন্ধ না হলে এ ধরনের দুর্ঘটনা ভবিষ্যতেও ঘটতে পারে। তাই দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন তারা।








