মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারি, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য

প্রকাশ : ১৩ জানুয়ারি ২০২৬, ০৮:১৩

কুমিল্লা শহরে ফুটপাত দখল করেই চলছে রমরমা ব্যবসা, চলাচলে সৃষ্টি হচ্ছে জনভোগান্তি

তাপস চন্দ্র সরকার, কুমিল্লা থেকে
কুমিল্লা শহরে ফুটপাত দখল করেই চলছে রমরমা ব্যবসা, চলাচলে সৃষ্টি হচ্ছে জনভোগান্তি

কুমিল্লা নগরীর প্রধান প্রধান সড়ক ও ফুটপাত দখল করে গড়ে উঠছে অসংখ্য ফুড কোর্ট, ভ্রাম্যমাণ খাবার ও কাপড়ের দোকান। এতে প্রতিদিনই সৃষ্টি হচ্ছে যানজট, ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক চলাচল আর চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন নগরবাসী।

নগরীর টাউন হল, কান্দিরপাড়, রাজগঞ্জ, ছাতি পট্টি, চকবাজার, ধর্মসাগরপাড় ও ফৌজদারি মোড়সহ ব্যস্ত এলাকাগুলোতে সন্ধ্যা নামলেই রাস্তার একাংশ দখল করে বসানো হয় চেয়ার-টেবিল। ফলে সড়ক সংকুচিত হয়ে যান চলাচল ধীরগতির হয়ে পড়ে। কোথাও কোথাও যানজট দীর্ঘ সময় স্থায়ী হচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ফুটপাত দখল হয়ে যাওয়ায় পথচারীদের বাধ্য হয়ে মূল সড়ক দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। এতে নারী, শিশু ও বয়স্কদের জন্যে ঝুঁকি আরও বেড়ে গেছে। অনেকেই বলছেন, প্রতিদিনই দুর্ঘটনার আশঙ্কা নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। এছাড়া রাস্তার পাশে অনিয়ন্ত্রিতভাবে খাবার রান্না ও ময়লা-আবর্জনা ফেলায় পরিবেশ দূষণ ও স্বাস্থ্যঝুঁকিও বাড়ছে। দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ হচ্ছেন আশপাশের বাসিন্দা ও দোকানিরা।

কুমিল্লা নগরীর ছোটরা এলাকার বাসিন্দা মো. কামাল হোসেন বলেন, ‘আগে এই রাস্তা দিয়ে স্বাভাবিকভাবে চলাচল করা যেতো। এখন খাবারের দোকান আর ক্রেতার ভিড়ে পুরো সড়কই বন্ধ হয়ে যায়। বাচ্চাদের স্কুল ও কলেজ টাইমে বের হলে সময়মতো গন্তব্যে পৌঁছানো প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।’ নগরীর কান্দিরপাড় শপিংমলের দোকানদার সুজন মজুমদার বলেন, ‘শিশুদের নিয়ে রাস্তা পার হওয়াই এখন সবচেয়ে বড়ো আতঙ্ক। ফুটপাত থাকলেও তা দোকানিদের দখলে। বাধ্য হয়ে সড়কে নামতে হয়, যেটা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ।’

অটোরিকশা চালক মো. কাউছার আহমেদ বলেন, ‘রাতে দোকানের সামনে যেভাবে গাড়ি আর মোটরসাইকেল পার্কিং করা হয়, তাতে রিকশা বা মিশুক চালানোই যায় না। প্রায়ই ঝগড়া-বিবাদ আর ছোটখাট দুর্ঘটনা ঘটে।’

ভ্রাম্যমাণ কাপড় ব্যবসায়ী মো. মফিজ মিয়া বলেন, ‘নির্দিষ্ট কোনো জায়গা না থাকায় তারা বাধ্য হয়েই রাস্তার পাশে ব্যবসা পরিচালনা করছেন। তবে সচেতন নাগরিকদের মতে, ব্যবসার সুবিধার জন্যে জনসাধারণের চলাচলের জায়গা দখল করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।’

সুশীল সমাজের প্রতিনিধি মো. আলমগীর খাঁন বলেন, ‘নগরে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে ফুড কোর্টগুলোর জন্যে নির্দিষ্ট স্থান নির্ধারণ, লাইসেন্স ব্যবস্থা জোরদার এবং নিয়মিত তদারকি জরুরি। তা না হলে কুমিল্লা শহরের জনজীবন আরও বিপর্যস্ত হয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।’

কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মামুন বলেন, ‘অবৈধভাবে রাস্তা ও ফুটপাত দখলের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়