শুক্রবার, ০২ অক্টোবর, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য

প্রকাশ : ০২ অক্টোবর ২০২৬, ১৯:২৪

ফণার নিচে

মমতা শিকদার বাসির

গ্রীষ্মের দুপুর। আমগাছের উঁচু ডালে কাঠবিড়ালি ছুটকির ছোট্ট বাসা। সেখানে তার তিনটি অন্ধ বাচ্চা। গাছের নিচের গর্তে থাকত সাপ বাসুকি। সেদিন সে রোদ পোহাতে বেরিয়েছিল। ছুটকি পাকা আম পাড়তে গিয়ে হঠাৎ পা ফসকে পড়ে গেল। তার থাবা থেকে ছুটে যাওয়া আমটি সজোরে গিয়ে পড়ল বাসুকির মাথায়।

চমকে উঠে বাসুকি ফণা তুলল। ছুটকিও ভয় পেল। কিন্তু ভয়কে ঢাকতে রাগ দেখিয়ে বলল, “তুই আমার বাচ্চাদের খেতে এসেছিস?”

বাসুকি হিস্ করে উঠল, “তোর বোকামির জন্য মাথায় আঘাত পেলাম, আবার আমাকেই দোষ দিচ্ছিস?”

সেদিনের ভুল বোঝাবুঝিই তাদের মধ্যে শত্রুতার দেয়াল তুলে দিল। এরপর বাসুকি গাছের গুঁড়ি বেয়ে উঠতে চাইলে ছুটকি ডাল ভেঙে ছুড়ে মারত। বাসুকি গর্ত থেকে বেরোলেই ছুটকি চিৎকার করে বাচ্চাদের সতর্ক করত। দুজনেই মনে মনে ভাবত, অন্যজনই বিপদ। অথচ সত্যিটা কেউ জানার চেষ্টা করল না।

তৃতীয় দিন সকালে বনের এক পাশে আগুন লাগল। শুকনো পাতার ওপর দিয়ে আগুন দ্রুত ছুটে এল আমগাছের দিকে। ছুটকি বাচ্চাদের নিয়ে পালাতে গিয়ে দেখল, একটি বাচ্চা নিচের

ঝোপে পড়ে গেছে। ঠিক তখনই আগুনে আটকে পড়ল বাসুকি। তার গর্তের মুখে আগুন, পালানোর পথও বন্ধ। ছুটকি এক মুহূর্তের জন্য ভাবল, “শত্রুর শেষ!”

কিন্তু পরক্ষণেই দেখল, বাসুকি নিজের শরীর দিয়ে সেই ছোট্ট বাচ্চাটিকে আগুনের স্ফুলিঙ্গ থেকে ঢেকে রেখেছে। ছুটকি স্তব্ধ হয়ে গেল। সে ছুটে গিয়ে ভেজা কলাপাতা এনে বাসুকির পোড়া লেজের ওপর রাখল। তারপর ডালপালা সরিয়ে আগুনের পথ ঘুরিয়ে দিল। অনেকক্ষণ পর আগুন থামল। ক্লান্ত বাসুকির পাশে বসে ছুটকি কঁাপা গলায় বলল, “তুমি আমার বাচ্চাকে বঁাচালে?”

বাসুকি ধীরে চোখ খুলল। বলল, “শত্রু ভেবেছিলে বলে কি সত্যিই শত্রু হয়ে যাই? সেই দিনের আমটা ছিল দুর্ঘটনা। কিন্তু আমাদের রাগই দুর্ঘটনাটাকে শত্রুতায় পরিণত করেছিল।”

ছুটকি মাথা নিচু করল। সেদিন থেকে আমগাছের নিচে আর কোনো ফণা ওঠেনি, কোনো ডালও ছোড়া হয়নি। ছুটকি দিনে বাসুকির গর্তের সামনে শুকনো পাতা রেখে যায়, আর রাতে বাসুকি গাছটির নিচে পাহারা দেয়।

তারা বুঝেছিল, অনেক সময় শত্রু আমাদের সামনে থাকে না; আমাদের ভুল ধারণার ভেতরেই তার জন্ম হয়।

নিচের লেখায় প্রচুর ইংরেজি আছে। একটু চেক করে দিয়েন ভাই। যথোপযুক্ত একটি ছবি দিয়ে দিয়েন।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়