প্রকাশ : ০৫ আগস্ট ২০২৬, ০৯:৫৭
দীর্ঘদিনের পরিত্যক্ত ভবনে যেনো প্রাণের সঞ্চার
দীর্ঘ ১৭ বছরের অবহেলা পেরিয়ে ‘মাল্টিপারপাস হল’ নামে চালু হলো চাঁদপুর পৌর অডিটরিয়াম ভাড়ায় চলছে ‘রাজবাড়ি কমিউনিটি সেন্টার’

দীর্ঘ প্রায় ১৬-১৭ বছর ধরে পরিত্যক্ত ও অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে থাকা চঁাদপুর পৌর অডিটরিয়াম নতুন রূপে প্রাণ ফিরে পেয়েছে। দীর্ঘদিনের স্থবিরতা কাটিয়ে পৌরসভার উদ্যোগে ভবনটি এখন আধুনিক ও নান্দনিক আয়োজনের কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। চঁাদপুর পৌরসভার ‘মাল্টিপারপাস হল’ হিসেবে টেন্ডারের মাধ্যমে ভাড়া দেওয়া ভবনটি বর্তমানে ‘চঁাদপুর রাজবাড়ি কমিউনিটি সেন্টার’ নামে পরিচালিত হচ্ছে।
গত ১ জুলাই ২০২৬ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করা এই কমিউনিটি সেন্টারে এখন বিয়ে, জন্মদিন, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, সভা-সেমিনার, সামাজিক আয়োজন এবং রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডসহ বিভিন্ন ধরনের অনুষ্ঠান আয়োজনের সুযোগ রয়েছে। শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত এই সেন্টারটি চঁাদপুর শহরের সাংস্কৃতিক ও সামাজিক আয়োজনের ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে।
জানা গেছে, দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকা পৌর অডিটরিয়ামটি সচল ও ব্যবহার উপযোগী করতে কয়েক মাস আগে চঁাদপুর পৌরসভা টেন্ডার আহ্বান করে। এই টেন্ডারে প্রায় ১৫টি দরপত্র জমা পড়ে। পরে ব্যবসায়ী জয়নাল আবেদীন জনুর নেতৃত্বে প্রায় ১৫ জন ব্যবসায়িক অংশীদারের সমন্বয়ে গঠিত একটি প্রতিষ্ঠান কার্যাদেশ লাভ করে।
১০ বছর মেয়াদে নেওয়া এই ইজারার জন্যে প্রতি মাসে পৌরসভাকে ১ লাখ ১৬ হাজার টাকার বেশি ভাড়া প্রদান করা হচ্ছে। ফলে দীর্ঘদিন অব্যবহৃত থাকা ভবনটি পুনরায় সচল হওয়ার পাশাপাশি পৌরসভার নিয়মিত রাজস্ব আয়েরও একটি নতুন ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে।
টেন্ডারে কার্যাদেশ পাওযার পর পরিত্যক্ত ভবনটিকে আধুনিক ও আকর্ষণীয় রূপ দিতে ব্যাপক সংস্কার ও সাজসজ্জার কাজ করা হয়। শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাসহ প্রয়োজনীয় আধুনিক সুবিধা সংযোজন করা হয়েছে। বর্তমানে সেন্টারটির পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছেন টিটু সরকার ও মেহেদী হাসান দীপ। হিসাব রক্ষকের দায়িত্ব পালন করছেন ওমর ফারুক খান।
এ বিষয়ে রাজবাড়ি কমিউনিটি সেন্টারের চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদীন জনু বলেন, “ভবনটি দীর্ঘ বছর ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে ছিলো। আমরা চঁাদপুর পৌরসভায় টেন্ডারের মাধ্যমে এটি ভাড়া নিয়েছি। পৌরসভা আমাদের শুধু পরিত্যক্ত ভবনটি দিয়েছে। ভবনটিকে আধুনিক, নান্দনিক ও ব্যবহার উপযোগী করে তুলতে বাকি সব কাজ আমরা করেছি।”
তিনি আরও বলেন, “ভবনটির সংস্কার, আধুনিকায়ন ও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে এখন পর্যন্ত প্রায় ১ কোটি ১৩ লাখ টাকারও বেশি ব্যয় হয়েছে। আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে চঁাদপুরবাসীর জন্যে একটি মানসম্মত ও বহুমুখী আয়োজনের স্থান গড়ে তোলা।”
চঁাদপুর পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা নুর আজম শরীফ বলেন, “দীর্ঘদিন কাজ বন্ধ ও অব্যবহৃত থাকার পর আমরা ভবনটিকে পৌর মাল্টিপারপাস হল হিসেবে রূপ দিয়েছি। টেন্ডারের মাধ্যমে এটি ভাড়া দেওয়া হয়েছে। যারা ভাড়া নিয়েছেন, তারা বর্তমানে রাজবাড়ি কমিউনিটি সেন্টার নামে এটি পরিচালনা করছেন।”
তিনি জানান, এখানে পৌরসভার বিভিন্ন অনুষ্ঠান ছাড়াও বিয়ে, জন্মদিন, সভা-সেমিনার এবং বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করা যাচ্ছে।
চঁাদপুরের দীর্ঘদিনের পৌর অডিটরিয়াম ভবনটির অব্যবহৃত স্থাপনা এখন মানুষের বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রয়োজনে ব্যবহৃত হচ্ছে, যা চঁাদপুর শহরের জন্যে একটি ইতিবাচক উদ্যোগ বলে মনে করছেন অনেকে।
দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত থাকার পর চঁাদপুর পৌর অডিটরিয়ামের নতুন পরিচয়ে এই যাত্রা শহরের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে নতুন গতি সৃষ্টিরও একটি সম্ভাবনাময় উদ্যোগ। আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন এই কমিউনিটি সেন্টার ভবিষ্যতে চঁাদপুরের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, সামাজিক আয়োজন ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রমের অন্যতম কেন্দ্র হয়ে উঠবে এমনটাই প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।








