প্রকাশ : ২১ জুন ২০২৬, ১০:২২
ডিজিটাল যুগেও হারায়নি ঐতিহ্য
ঝাকি জাল বুনে সময় কাটাচ্ছেন ষাটোর্ধ্ব তনু মিয়া

বর্ষাকালের বৃষ্টিতে খাল-বিল, ডোবা ও জলাশয়গুলো পানিতে থৈ থৈ করছে। কৃষিকাজের ব্যস্ততা কিছুটা কমে যাওয়ায় অনেকেই অবসর সময় পার করছেন। তবে সেই অবসরকে অলসতায় নষ্ট না করে ব্যতিক্রমীভাবে কাজে লাগাচ্ছেন ষাটোর্ধ্ব তনু মিয়া। বর্ষার ফাঁকে তিনি নিজ হাতে ঝাকি জাল বুনে সময় কাটাচ্ছেন।
ফরিদগঞ্জ উপজেলার বালিথুবা ইউনিয়নের চান্দ্রা বাজার এলাকায় দেখা যায়, একটি যান্ত্রিক গাড়ির মেকানিক দোকানে বসে মনোযোগ সহকারে জালের ফাঁস গেঁথে চলেছেন তনু মিয়া। দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতায় দক্ষ হাতে তিনি তৈরি করছেন মাছ ধরার ঝাকি জাল। বর্ষা মৌসুমে খাল-বিলে মাছ ধরার জন্যে এ ধরনের জালের চাহিদাও রয়েছে।
তনু মিয়া জানান, ছোটবেলা থেকেই তিনি জাল বুননের কাজ শিখেছেন বাপ-চাচাদের কাছ থেকে। অবসর সময় পেলেই তিনি জাল তৈরি করেন। এতে সময়ের সঠিক ব্যবহার যেমন হয়, তেমনি প্রয়োজনে মাছ ধরেও পরিবারের কাজে লাগে। ‘ডিজিটাল যুগে এরকম জাল বুনছেন, এতো সময় ব্যয় না করে নতুন একটি কিনে নিলেই তো পারেন’ এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি হেসে বললেন, কিনে নেওয়া তো সহজ। নিজে তৈরি করা তো কঠিন। আর আমি আমার অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে জাল বুনি, আবার বিক্রি করি।
ডিজিটাল যুগে যন্ত্রনির্ভরতার ভিড়ে হারিয়ে যেতে বসেছে হাতে জাল বোনার ঐতিহ্য। তবে ষাটোর্ধ্ব তনু মিয়ার হাতে এখনো জীবন্ত রয়েছে সেই এনালগ সময়ের দক্ষতা ও গ্রামীণ সংস্কৃতির নিদর্শন। তার মতো প্রবীণদের মাধ্যমে টিকে আছে গ্রামীণ জীবনের বহু পুরোনো ঐতিহ্য।
স্থানীয়রা মনে করেন, নতুন প্রজন্মের কাছে এসব ঐতিহ্য তুলে ধরা জরুরি। কারণ হাতে জাল বোনার এই দক্ষতা শুধু জীবিকার অংশ নয়, এটি গ্রামীণ সংস্কৃতি ও জীবনযাত্রারও একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ।
বয়সের ভার সত্ত্বেও তনু মিয়ার কর্মস্পৃহা ও ঐতিহ্য ধরে রাখার প্রচেষ্টা এলাকাবাসীর প্রশংসা কুড়িয়েছে। তার এই উদ্যোগ প্রমাণ করে, ইচ্ছাশক্তি থাকলে বয়স কখনো কাজের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে না।
জনৈক ফরহাদ পাটোয়ারী জানান, হাতে বোনা জাল টেকসই বেশি এবং মাছ ধরতে গিয়ে জালের ভাঁজ ঠিক থাকে। কিন্তু রেডিমেড জাল (মেশিনে প্রস্তুতকৃত)-এর ওই ভাঁজগুলো পেঁচিয়ে যায়। যাতে মাছ ধরার পর ছুটাতে গেলে জাল ছিঁড়ে যায়।
পাশের দোকানদার কাজল মল্লিক বলেন, তনু ভাই পরিশ্রমী মানুষ। তিনি জাল বুনেন, বিক্রি করেন। এটাই তার আনন্দ। আর এ জালের চাহিদা আছে আমাদের গ্রামে-গঞ্জে। প্রত্যেক বাড়িতেই পুকুর এবং খাল-ডোবা-নালা থাকে, সে কারণে অনেকেই উনার কাছ থেকে এই জাল কিনেন।








