প্রকাশ : ২১ এপ্রিল ২০২৬, ২৩:১৭
জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনসহ ব্যাপক সাফল্যের সাথে এগিয়ে চলছে বহুবচন একাডেমির শিক্ষার্থীরা

চাঁদপুরের সংস্কৃতি অঙ্গনে বাচিক শিল্পের অন্যতম বিশুদ্ধ প্রতিষ্ঠান বহুবচন একাডেমি। ‘উচ্চারিত প্রতিটি শব্দ হোক শিল্প’ এই শ্লোগানে ২০১৯ সালের ৩ মে বহুবচন একাডেমি প্রতিষ্ঠা করেন আবৃত্তি প্রশিক্ষক ও বিশিষ্ট উপস্থাপক এম আর ইসলাম বাবু। শুদ্ধ, আবৃত্তি, অভিনয়, উপস্থাপনা,গল্প বলাসহ শিশুকে সৃজনশীল হিসেবে গড়ে তোলাই হলো এ প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য।
প্রতিষ্ঠার পর থেকেই একাডেমির শিক্ষার্থীদের ধারাবাহিক সাফল্য অব্যাহত রয়েছে। অদ্যাবধি প্রায় অর্ধশত শিক্ষার্থী জেলা, অঞ্চল, বিভাগ ও জাতীয় পর্যায়ে সাফল্য অর্জন করেছে। এ যাবতকালের সবচেয়ে বড়ো সাফল্য হলো ২০২৫ সালে জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদক প্রতিযোগিতায় বহুবচন একাডেমির শিক্ষার্থী মিফতাহুল জান্নাত সমগ্র বাংলাদেশের মধ্যে আবৃত্তি প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অর্জন করেছে। সে গত ২০২৫ সালে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মহোদয় ও সচিব মহোদয়ের কাছ থেকে স্বর্ণ পদক ও সনদ গ্রহণ করে। মিফতাহুল জান্নাত ফরিদগঞ্জের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে উঠে আসা একজন সাধারণ শিক্ষার্থী। এছাড়াও চট্টগ্রাম বিভাগ থেকে চূড়ান্ত বাছাইয়ের পর ৮ বিভাগের সেরা ৮ জনের মধ্যে জাতীয় পর্যায়ে অংশগ্রহণ করেছে আবৃত্তিতে মাহজেবিন জান্নাত, ২০২২ সালে অভিনয়ে আবৃত্তিতে মুহতাদী সাফি, ২০২৩ সালে আবৃত্তিতে ও গল্প বলায় রাশিদুল, জাতীয় শিশু কিশোর পদকে জেলা চ্যাম্পিয়ন হয়ে মাহজেবিন জান্নাত, জাতীয় শিক্ষা পদকে অভিনয়ে তাজরী বিনতে রিয়াদ, মঞ্চ কুঁড়ি পদক পেয়েছে মাহজেবিন জান্নাত, ২০২৪ সালে আবৃত্তিতে চট্টগ্রাম বিভাগের প্রথম হয়ে মারজান মোহাম্মদ সৌরভ জাতীয় পর্যায়ে অংশগ্রহণ করে। ২০২৪ সালে গল্প বলায় চট্টগ্রাম বিভাগে ১ম হয়ে জাতীয় পর্যায়ে অংশগ্রহণ করে তাসনিম সাবা। একই সালে আবৃত্তিতে জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহে ইফতিখারুন্নিছা বিভাগে ১ম হয়ে জাতীয় পর্যায়ে অংশ গ্রহণ করে। ২০২৫ সালে একক অভিনয়ে জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহে চট্টগ্রাম বিভাগে প্রথম হয়ে জাতীয় পর্যায়ে অংশগ্রহণ করে তাশপিয়া আক্তার। এছাড়াও আবৃত্তি, গল্প বলাতে জেলা পর্যায় থেকে ২য় রাউন্ডে অঞ্চলে অংশগ্রহণ করে সাফল্য অর্জন করেছে ওয়াশফিয়া আলম আরিশা।
জেলা পর্যায়ের আবৃত্তি, অভিনয়, গল্প বলা প্রায় সকল প্রতিযোগিতায় বহুবচন একাডেমির শিক্ষার্থীদের ব্যাপক সাফল্য অর্জন হচ্ছে। ২০২৫ সালে চাঁদপুর জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে মেইড ইন কালচারাল ফেস্টিভ্যালে প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বহুবচন একাডেমির মুহতাদী সাফি, রানার আপ হওয়ার গৌরব অর্জন করে তাসপিয়া আক্তার। বর্তমান সময়ে জেলা পর্যায়ে ও বিভিন্ন জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় পর্যায়ক্রমে ব্যাপক সাফল্য অর্জন করছে বহুবচন একাডেমির শিক্ষার্থীরা। এদের মধ্যে ইতোমধ্যে ব্যাপক সাফল্য অর্জন করেছে ওয়াশফিয়া আলম আরিশা, জিনিয়া ইসলাম, শুভদ্রা চক্রবর্তী সাফা, রোয়ান রোজা, নুহা, মিরসাব মাহাবির শেখ, আলিফ মজুমদার, রাইসা তাহসিন খান, বিক্রম আদিত্য দাস,আরাফাত সানি, ইসমাম হোসেন রোহান, জাহিদুল ইসলাম রাব্বি, ইফফাতুন্নিছা, ইউসরা, নূরুল ইসলাম ইভান, আবু সাইফ, আরশি নূর মমতা, আফিফা মাহমুদ, অরভি, নুহা ফাহমিয়া, ইয়াস ইকবাল, ইনতিহা ইকবাল, ফারিস আল হাসান, সুকৃতি চক্রবতী, তাহিয়া, সাবিহা, ইয়ামিন, মানহা খান, নাফিছা আয়াত, আয়েশা হক রাফা, মোহাম্মদ ভুইয়া, সুপ্রতিক নন্দি অহন, সাবিহা, নুরতাজ, খাদিজা আক্তার, আইমান, আয়েশা, মনি, উম্মি, সাইফুল, ফিদান, সৌলিন,আভা, ইনারা, নুসরাত, মুনতাহা, জুহিসহ আরো অনেক শিক্ষার্থী। সবশেষ মার্কস অলরাউন্ডার প্রতিযোগিতায় যাওয়াতা জারিন সুবাহ চট্টগ্রাম বিভাগে একক অভিনয়ে প্রথম স্থান অর্জন করে এখন জাতীয় পর্যায়ে অংশগ্রহণ করবে। এছাড়াও আবৃত্তিতে মার্কস অলরাউন্ডার প্রতিযোগিতায় চট্টগ্রাম বিভাগে গিয়েছে মিফতাহুল। চাঁদপুর জেলা প্রশাসনের আয়োজনে জাতীয় বিভিন্ন দিবসে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে বহুবচন একাডেমির শিক্ষার্থীদের আবৃত্তি পরিবেশন করার মধ্যে দিয়ে আবৃত্তি শিল্পকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। এছাড়াও বাৎসরিক নিজস্ব পারফরম্যান্স উন্নয়ন ভিত্তিক অনুষ্ঠান, কর্মশালা, অনলাইন ও অফলাইনে নানা ধরনের আয়োজন চলমান রয়েছে। বর্তমানে বহুবচন একাডেমিতে ৭২ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। একেবারে খুদে শিক্ষার্থীদেরকেও আবৃত্তি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে গড়ে তোলা হয় বহুবচন একাডেমিতে।
বহুবচন একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা এম আর ইসলাম বাবুর কাছে একাডেমির প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য জানতে চাইলে তিনি জানান, বাচিক শিল্প সংস্কৃতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বিশেষ করে আবৃত্তি, অভিনয়,গল্পবলা, উপস্থাপনা শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল হিসেবে গড়ে তোলে। সে ভাবনায় চাঁদপুরে একটি মানসম্মত বাচিক শিল্পের সৃজনশীল একাডেমি গড়ে তোলার পরিকল্পনা গ্রহণ করি। সে ভাবনা থেকে বহুবচন একাডেমি প্রতিষ্ঠা করি। একজন প্রশিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করার প্রয়োজনে আমি বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি থেকে আবৃত্তি, অভিনয়ের ওপর প্রশিক্ষণ গ্রহণ ও কর্মশালায় অংশগ্রহণ করি। একুশে পদকপ্রাপ্ত বাংলাদেশের আবৃত্তি জগতের জীবন্ত কিংবদন্তী শিমুল মোস্তাফার কাছে আবৃত্তির ওপর ৩২ তম কোর্সে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করি। জেলা শিল্পকলা একাডেমির আবৃত্তি ও নাট্যকলা বিভাগের প্রশিক্ষক হিসেবে গত ৮ বছর সাফল্যে সাথে দায়িত্ব পালন করেছি চলতি সবশেষ দায়িত্ব পর্যন্ত। এছাড়াও মঞ্চ নাটকের অভিনয় করছি ১৯৯৭ সাল থেকে। সবকিছু মিলিয়ে মহান আল্লাহর রহমতে বহুবচন একাডেমির শিক্ষার্থীরা নানান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে সকল প্রতিযোগিতায় সাফল্য অর্জন করছে, এটাই সার্থকতা। তিনি সকলের কাছে দোয়া কামনা করেন।







