বুধবার, ২২ এপ্রিল, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য
ব্রেকিং নিউজ

প্রকাশ : ২১ এপ্রিল ২০২৬, ২৩:১৪

ঢাকায় দ্বিতীয় মান পেয়ে অদিতি অনুপ্রাণিত

সংস্কৃতি অঙ্গন প্রতিবেদক
ঢাকায় দ্বিতীয় মান পেয়ে অদিতি অনুপ্রাণিত

দুঃসময়ের বড়ো সুসময় যখন রবীন্দ্রনাথকে কথায় কথায় সুযোগ পেলে খুঁচিয়ে ঘায়েল করে ক্ষত-বিক্ষত করছে দেশজুড়ে, ঠিক তখনই বুকভরা রবীন্দ্র অর্ঘ্যে সাহস আর দ্রোহ নিয়ে জাতীয় রবীন্দ্র সংগীত সম্মিলন পরিষদের আয়োজনে জাতীয় রবীন্দ্র সংগীত সম্মেলনের চুয়াল্লিশতম অধিবেশন আয়োজন ইতিহাসকে সমৃদ্ধ করে তোলে ভাবীকালের শিলালিপিতে। সুন্দরকে ধারণ ও লালনের অনন্ত অভিলাষে তারই অংশ হিসেবে ঢাকায় আয়োজিত হলো দেশব্যাপী রবীন্দ্র সংগীতের প্রতিযোগিতা। সারাদেশ থেকে উদীয়মান ও উদিত শিল্পীদের বাছাই করে নিয়ে যাওয়া হলো ঢাকায়। চাঁদপুর থেকেও বিভিন্ন বিভাগে সুযোগ পেলো বেশ কয়েকজন। এর মধ্যে কিশোর বিভাগ হতে সুযোগ পেয়ে নিজ জেলা চাঁদপুর হতে ঢাকায় গেলো অদিতি ঘোষ, যে মাতৃপীঠ সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী হিসেবে এখনও অম্ল মধুর সময়ের স্বপনবিহারি।

অদিতিরা দুবোন এবং সে হলো ছোটজন। বড়ো বোন ঢাকায় চিকিৎসাবিজ্ঞান অধ্যয়নে তপস্যামগ্ন। তার বাবা প্রবাহ ঘোষ ইউনিয়ন পরিষদের একজন প্রশাসনিক কমকর্তা এবং মা রত্না ঘোষ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা। চাঁদপুরের স্থায়ী বাসিন্দা অদিতির মাতামহের বাড়ি চাঁদপুর আর পিতামহের বাড়ি শরীয়তপুর জেলার ভেদরগঞ্জ উপজেলার রামভদ্রপুর গ্রামে। শৈশব হতে একটানা বারো বছর ধরে গানের চর্চায় নিজেকে নিমগ্ন রাখা অদিতির গুরু হলেন চাঁদপুরের অনেক সফল শিল্পীর স্রষ্টা শ্রী শংকর আচার্য।

মার্চের শেষে ঢাকায় অনুষ্ঠিত জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় অদিতি অর্জন করেছে দ্বিতীয় মান। তার সাথে চাঁদপুরের আরও কয়েকজন শিল্পী এ মান অর্জন করেছে। দেশবরেণ্য নাট্যশিল্পী ফেরদৌসী মজুমদারের কাছ থেকে পুরস্কার নিতে পেরে ধন্য হওয়া অদিতি রবীন্দ্র সংগীতে মগ্ন থাকাকেই তার পবিত্র ব্রত হিসেবে মনে করে। রবীন্দ্রনাথের সবধরনের গান তার ভালো লাগে। পাশাপাশি বাঙালি সংস্কৃতির ডাক ফুটে ওঠা গানও তার মন কেড়ে নেয়। প্রতিযোগিতায় তার প্রথম গান ছিলো রবীন্দ্রনাথের পূজা পর্যায়ের একটা গান, ‘ প্রতিদিন আমি হে জীবন স্বামী , দাঁড়াব তোমারি সম্মুখে’। তার দ্বিতীয় গানও ছিলো পূজা পর্যায়ের যার প্রথম চরণ, ‘ওদের সাথে মেলাও যারা চড়ায় তোমার ধেনু’। গান শুনলেই বোঝা যায় অদিতির গায়কী স্বতন্ত্র এবং গলা নিয়মিত চর্চায় নির্মিত। সুরের সাথে একাত্ম হয়ে গানের বাণীকে হৃদয়ঙ্গম করে সংগীত পরিবেশন করাই হলো অদিতির সাধনার লক্ষ্য। বয়ঃসন্ধির চাঞ্চল্য তাকে ঘিরে থাকলেও রবীন্দ্রনাথের প্রতি তার সমর্পণ তাকে সঠিক পথে ব্যাপৃত রেখেছে।

অদিতির ভাষ্যে মঞ্চে দাঁড়িয়ে তার গান গাওয়ার অনুভূতি অনির্বচনীয়। একদিকে উত্তেজনা আরদিকে ভয়। সুন্দরকে উপযুক্তভাবে ধারণ ও লালনের তার যে অভিপ্রায় তার প্রতি সে শতভাগ নিবেদিত। তার সাংগীতিক যাত্রায় অদিতি বাবা-মার পাশাপাশি দাদু-দিদা, সংগীত গুরু সকলের কাছেই সমান ঋণী।

অদিতির জীবনপথের যাত্রা মাত্র হলো শুরু। তাকে আরও অনেকটা পথ পাড়ি দিতে হবে সুরের সাধনায়। গানের পাশাপাশি সে আবৃত্তি শিল্পেরও নিমগ্ন সাধক। আবৃত্তি শিল্পী হিসেবে সে ইতোমধ্যেই মুক্তা পীযূষের নেতৃত্বে তার সংগঠনের সাথে বিটিভিসহ নানামঞ্চে নানাদিবসে অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেছে।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়