শনিবার, ৩১ জানুয়ারি, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য

প্রকাশ : ৩১ জানুয়ারি ২০২৬, ০৯:৩০

নিকুঞ্জ নিকেতন

রাজীব কুমার দাস
নিকুঞ্জ নিকেতন

(পূর্ব প্রকাশের পর)

১৭.

খুব ভোরে সারোয়ার আমাদের ঘুম থেকে জাগিয়ে তুলেছে। এমনিতে পিটারের ঘটনার পর আমরা বেশ রাত অবদি জেগেছিলাম। সারোয়ারের মতো চঞ্চল, হাসি-খুশি একটা মানুষও যে তার বুকের ভিতর বেদনা লালন করতে পারে এটা কারো ধারণায় ছিল না। পিটার দু-চার প্যাগ গিলেছে তাই সে শুয়ে পড়েছিল তাড়াতাড়ি আর আমিও অনিমেষ অনেক রাত অবদি বিছানায় এপাশ-ওপাশ করেছি। বেচরা কিছুক্ষণ পরপর গিয়ে বাইরে বসছে আবার সিগারেটও টানছে, আমি বারণ করিনি। তার অভ্যেস আছে তাই সমস্যা হওয়ার কথা না। রাতে ঘুমিয়ে পড়ার পর হঠাৎ চোখ খুলেই দেখি সারোয়ার জাগিয়ে তুলছে। তার মাথায় টুপি আর গায়ে পাঞ্জাবি।

‘আরে ভোর হয়ে গেল নাকি? তুমি কী নামাজ পড়তে যাবে?’

‘ফজরের নামাজ আদায় করে একটু বসে তারপর আসলাম উঠুন সকালটা দেখুন অসাধারণ লাগছে।’

কথাটা শোনার পর আর কেহই বিছানায় নেই ঝটপট ফ্রেশ হয়ে জামা-কাপড় পড়তে লাগলাম। কটেজের বাইরে ঝুল দোলনা দেওয়া আছে আমি সেটায় বসে আছি। সেখান থেকে বের হলেই বীচ তাই ধুসর আভায় সমুদ্রটা অসাধারণ লাগছে। পিটার তৈরি হচ্ছে আর তাকে নিয়ে মশকরা চলেছে সারোয়ারের। আমার সাথে অনিমেষও এসে বসেছে। অল্প কিছুক্ষণের মধ্যে ওরা দুজনে এসে উপস্থিত। কটেজের বাউন্ডারি ছেড়ে এবার বীচে নামলাম আমরা, অসাধারণ লাগছে সকালটা। এখন ভোর পৌঁনে ছয়টা কুয়াশা তেমন না থাকলেও আছে বৈকি। বীচের বালিতে নগ্ন পায়ে আমরা সকলেই হাঁটছি আর জুতোজোড়া নিজ নিজ হাতে ঝুলছে। পিটারের ব্যাগে আমাদের সকল সরঞ্জমাদি রাখা তাই সেটা ঝুলছে তার পিঠে। গতকালের তুলনায় সমুদ্রের জল অনেকদূর নেমে গিয়েছে এখন ভাটা না জোয়ার বুঝা যাচ্ছে না। এদিকে গতদিন কটেজের ম্যানেজারকে বলেছিলাম ছেঁড়াদ্বীপ ও নারিকেল জিঞ্জিরা দেখব আপনি ব্যবস্থা করবেন। সে বলে বাই সাইকেলে যাবেন নাকি স্পিডবোটে? স্পিডবোট নেওয়ার জন্য বলতেই বলে সকাল সাতটায় ফোন দিব আপনারা তৈরি থাকবেন আমরা এসে নিয়ে যাব। সেজন্য এখন তৈরি হয়ে বের হয়েছি। বীচে হাঁটতে হাঁটতে কিছুদূর যেতেই দেখা যাচ্ছে কেয়া গাছের সারি বেশ কিছু এলাকা জুড়ে। তার কাছাকাছি যেতেই একটা পল্লি দেখা যায় ভিতরের দিকে আমরা সেখানে গিয়ে হাজির হই। বেশ কয়েকটা ঝুপড়ি ঘর আবার দুটো আছে টিনশেড করা। মাঝবয়েসি একটা লোক দৌঁড়ে এসে হাজির হয় হাসিমুখে। তার পিছন পিছন বেশ কয়েকটা মহিলা ও মেয়ে।

‘স্যার আফনেরা কী ফিলিমের লোক। সুটিং এর জায়গা দেখতে আইছেন?’

‘না বিষয়টা ঠিক সেরকম না।’

‘আফনের কইতে হইব না স্যার আমি জানি এগুলা। গতবছর এইহানে একটা ফিলিমের কাম হইসিল। আমার বাপ আর দুই পোলারে ওরা কামে নিসিল।’

‘তাই...তা আপনি জাল নিয়ে কোথায় যাচ্ছেন?’

‘এইডা নরমেল জাল স্যার, এইডা কিনারায় মাইরা দুরপের খাওনের মাছ ধরি। বেটা-ছেলেরা বেবাকতে গতকাইল সাগরে গেছে ফিরব হাইঞ্জা বেলায়। আমাগো এহানে দিনেরবেলা পুরুষ মানুষ তেমন একটা থাকে না। সাগরে থাকে নাও লইয়া মাছ ধারাত। আফনেগো কী দিয়া যে সমাদার করি!’

‘আপনি টেনশন নিবেন না আমরা এমনিতেই ঘুরতে এসেছি।’

‘ডাব খাইবেন স্যার।’

‘ডাবের ব্যবস্থা আছে! খাব মানে আলবৎ খাব।’

‘একটু সময় দেন ছাওয়ালডারে গাছে উঠাইয়া দেই।

কথাটা বলেই তার ছেলেকে গাছে উঠতে বলে আর অমনি ছেলেটা লাফিয়ে লাফিয়ে দ্রুত গাছে উঠে গেল যেন নারিকেল গাছে উঠা কোনো ব্যপারই না। দশ থেকে পনেরো মিনিটের মধ্যে গাছে উঠে ডাব পেড়ে এনেছে আমরা সকলে অবাক হয়ে তাকিয়ে আছি। প্রাকৃতিক পরিবেশের সাথে লড়াই করে এ মানুষগুলোকে বেঁচে থাকতে হয় তাই সকল কলা কৌশল ওরা জানে যা আমাদের আদৌ শেখা হয়নি। ওদের মাঝে একজন মেয়ে দৌঁড়ে গিয়ে দাঁ নিয়ে আসে। লোকটা ডাব কেটে দেয় আর আমরা খেয়ে যাচ্ছি বেঁতের মোড়ায় বসে। কক্সবাজারের ডাব আর এখানকার ডাবের মধ্যে অনেক ব্যবধান। এই ডাবগুলো বেশ মিষ্টি আর সুস্বাদুও বটে। ডাব খাওয়ার পাশাপাশি কথাবার্তায় ওদের জনজীবন সম্পর্কে অনেক কিছু জানা হয়। কীভাবে ওরা মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করে, ওদের আনন্দ-বিনোদন, বসবাসের ধরন ইত্যাদি সবকিছুই আমাদের জানাচ্ছে। এটা সম্ভব হতো না যদি লোকটাকে সারোয়ার না বলত যে আমরা একটা প্রামাণ্যচিত্র তৈরি করব জেলেদের জীবন কাহিনি নিয়ে। সারোয়ারের এটা বিনোদন দিলেও বিষয়টা আমার কাছে দৃষ্টিকটু লাগে। সরল মানুষগুলোকে মিথ্যে স্বপ্ন দেখানো ছাড়া এটা আর কিছুই না। বেশকিছু সময় কাটিয়ে আমরা যখন ডাবের দাম দিতে চাইলাম ওরা সকলেই একসাথে বলে উঠেÑদাম দিবেন ক্যান স্যার আমাগো বাইত আইছেন কোনো সমাদারই তো করতে পারলাম না। টাকা কোনোভাবেই নিবে না আর জোর করেও টাকা দিতে পারলাম না। দরিদ্র মানুষগুলো অর্থের দরিদ্র হলেও মনের ধনী। তাদের পল্লি থেকে বের হয়ে আমরা বীচের মধ্যে আবারও হাঁটছি ভোরে সূর্যের দেখা যদিও মেলেনি কুয়াশার কারণে তবুও এখন বেশ বেলা হয়েছে। হঠাৎ ম্যানেজারের কল আসে, ফোন ধরতেই বলেÑস্যার বোট তৈরি আপনারা কোথায়? আমাদের লোকেশন বলায় অল্প কিছুক্ষণের মধ্যে ম্যানেজার স্পিডবোট নিয়ে হাজির এবং আমরা লাইফ জ্যাকেট পড়ে তাতে উঠে পড়লাম। শীতের সকাল আর সমুদ্রের বাতাস যদিও কিছুটা কাঁপুনি দিচ্ছে তবে ভালো লাগছে। বেশ কিছুটা হাঁটায় শরীর গরম হয়ে আছে। কিছুক্ষণের মধ্যে ভোরের সূর্যটা মান ভেঙে জেগেছে দেখছি। শীতের ভোর আর মিষ্টি রোদের আবেগ জড়িয়ে স্পিডবোটে করে এগিয়ে যাচ্ছি ছেঁড়াদ্বীপের পথে। বেশি একটা সময় লাগেনি, এজন্যই হয়তো ওরা বলেছিল সাইকেলে যাবেন কী না। সাইকেলে আসলে মন্দ হতো না আবার পথও তো চিনি না তাই ছেঁড়াদ্বীপে এসেছি না অন্য দ্বীপে বুঝব কীভাবে? বোট নেওয়ায় ভালোই হয়েছে ওরা নিজেরা এনে আমাদের দেখিয়ে আবার ফিরিয়ে নিয়ে যাবে। নামার পর ম্যানেজার বলেÑস্যার আপনারা বেশি সময় নিয়েন না আমরা আবার নারিকেল জিঞ্জিরার দিকে গিয়ে তারপর ফিরে যাব। জোয়ার লাগবে বেলা সাড়ে নয়টায় তার আগেই ফিরতে হবে। মাথা নাড়িয়ে তার কথায় সায় দেই। এখানে পৌঁছার পর চারদিকে তাকিয়ে দেখি শুধু প্রবাল আর প্রবাল। দ্বীপে খুব কম জায়গায় বালি দেখতে পাই আবার লাল কাঁকড়াও দেখা যাচ্ছে ঝাঁকে ঝাঁকে। আমরা এগোলেই ওরা প্রবালের ফাঁকে ঢুকে যাচ্ছে। আমাদের চারজনেরই চোখে-মুখে বিস্ময় আর আনন্দের ছোঁয়া। ম্যানেজার বলেছিল দ্বীপটা নাকি জোয়ারের সময় পথ ডুবে গিয়ে মূল দ্বীপ থেকে আলাদা হয়ে যায়। সমুদ্রের জল এতটাই স্বচ্ছ ও নীলাভ যে প্রায় কোমড় অবদি গভীরে জলের মধ্যেও সবকিছু স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। একটু দূরে একটি বড় প্রবাল রয়েছে আমরা নেমে হাঁটু জলে যাওয়ার পর সেটায় উঠতে পারি। সকলকে সাবধান করা হয় কারণ প্রবালগুলো এতটাই ধারাল যে একটু অসাবধানতায় হাত-পা কেটে যেতে পারে। ডায়বেটিকের রোগীদের একটু কাটা-ছেঁড়ায় বেশ ঝামেলায় পড়তে হয়। নিচে প্রবালের ফাঁকে ফাঁকে রং-বেরঙ্গের মাছ দেখা যাচ্ছে, এত ভালো লাগছে যে বলে বোঝাতে পারব না। মাছগুলো আমাদের আশপাশে প্রচুর পরিমাণে আর তা দেখে মনে হচ্ছে এটা যেন কোনো প্রাকৃতিক অ্যাকুরিয়াম। বেশ কিছুক্ষণ বসার পর সেখান থেকে নেমে এসে এবার পুরোটা দ্বীপ ঘুরলাম। এলাকা বেশি একটা বড় নয় তবে অসাধারণ সৌন্দর্য আবার বীচের পাশে কেয়া গাছের সারি বিভিন্ন জায়গায়। আমরা প্রায় আধ ঘণ্টারও বেশি সময় কাটিয়ে এখন ক্ষুধার্থ। পিটারের ব্যাগে কয়েক প্যাকেট বিস্কুট রাখা ছিল যেগুলো সেন্টমার্টিন আসার সময় নিয়ে এসেছিলাম ব্যাগ থেকে বের করে একটা একটা করে চিবোচ্ছি। কিছুক্ষণের মধ্যে আমাদের যাত্রা করতে হয় নারিকেল জিঞ্জিরার দিকে। জায়গাগুলো সবই কাছাকাছি তাছাড়া দ্বীপটাও তো বেশি একটা বড় না। নারিকেল জিঞ্জিরায় নারকেল গাছ প্রচুর পরিমাণে তাই হয়তো এটাকে এমন নামকরণ করেছে। মাঝে মাঝে কেয়া গাছের ঝোঁপ দেখা যায়। এখানেও প্রবাল প্রচুর পরিমাণে রয়েছে। জেলেদের মাছ ধরার নৌকাগুলো কাছাকাছি তাই দ্বীপটাকে নির্জন বলা যাচ্ছে না। এ প্রবালগুলো এখান থেকে নিয়ে গিয়ে পরিষ্কার করে অ্যাকুরিয়ামে বসায় সেজন্য এগুলোকে সাদা দেখি। আমরা কিছু সাদাটে প্রবাল পেয়েছি যার যতটা প্রয়োজন নিয়ে নিল কিন্তু এই প্রবাল দিয়ে করবে কী তারপর একটা একটা করে চারটে প্রবাল বাঁছাই করে বাকিটা সেখানেই রেখে দেই। প্রাকৃতিক জিনিস এটা প্রকৃতিতেই মানায় আর এজন্যই হয়তো বলা হয়Ñবন্যেরা বনে সুন্দর শিশুরা মাতৃক্রোড়ে। শুকনো বিস্কুট চিবিয়ে আমাদের গলা শুকিয়ে কাঠ হয়ে আছে। এখানে ডাব পাওয়া যাচ্ছে তাই কয়েকটা ডাব কিনে নিলাম, এই ডাবের জলটাও মিষ্টি আর সুস্বাদু। হাসিখুশি থাকলে মানুষ বেশ সুস্থ্য থাকে এটা এখন টের পাচ্ছি। এই যে এত অনিয়মে চলছি অথচ কারো কোনো সমস্যা হচ্ছে না। শহরে থাকলে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন সমস্যা দেখা দেয় শারীরিক। তারপর চলে আসি দারুচিনি দ্বীপে। এটার বিষয়ে বেশ শুনেছিলাম আজ স্বচোখে দেখার সৌভাগ্য হয়েছে। প্রখ্যাত লেখক, নাট্যকার, উপন্যাসিক ও সাহিত্যিক হুমায়ূন আহম্মেদের উপন্যাসও আছে এই দ্বীপকে ঘিরে। জোয়ার শুরু হওয়ার আগেই ফিরে আসতে হবে তাই সাড়ে নয়টার মধ্যে ঘুরেফিরে রওয়ানা দেই সেখান থেকে। ভোরটা এত চমৎকার কাটবে ভাবতে পারিনি। ম্যানেজারকে বলেছি আমাদের জেটির দিকে বোট নিয়ে নামিয়ে দিতে ওরা তাই করেছিল। এখানে এখনো ক্রুজশিপ আসেনি তাই জায়গা কিছুটা শান্ত তবে উপরে উঠে বাজারের দিকে আসলেই লোক সমাগম দেখতে পাওয়া যায়। আমরা সেখানে এসে একটা রেস্টুরেন্টে ঢুকে নাশতা সেরে নেই তারপর কটেজের দিকে চলে আসি। রুমে এসে যার যার ওষুধপত্র সেবন করে কিছুটা বিশ্রাম নেই তারপর বেরিয়ে পড়ি সাইকেল নিয়ে। বীচের পাশেই একটা জায়গায় সাইকেল ভাড়া দেওয়া হয় আমরা সাইকেল ভাড়া করে বেড়িয়েছি। দেখা যায় বীচের পাশ দিয়ে আমাদের মতো অনেকেই সাইকেল নিয়ে পুরো দ্বীপটা দেখছে ঘুরে ফিরে। বেলা এখন সোয়া এগারোটা, রোদ আছে বৈকি তবে তেমন তেজ নেই। সাইকেলে চেপে বীচের পাশ দিয়ে সারিবদ্ধভাবে এগিয়ে যাচ্ছি বেশ লাগছে। আমরা সকলে কাছাকাছি তাই একজনের কথা অন্যজনের শুনতে সমস্যা হচ্ছে না। আমাদের পরনে টিশার্ট ও ত্রি-কোয়াটার প্যান্ট আর পায়ে রাবারের চটিজুতো। ষার্টোদ্ধ চারটে মানুষের ড্রেসআপ আর ভঙ্গিমায় অনেকেই তাকিয়েছে এদিকে কিন্তু আমরা আছি আমাদের মতো কারো পরোয়া করার প্রয়োজনই বা কী। পিটার আর সারোয়ার আমাদের বিনোদনের জন্য তাদের অতীত জীবন স্মৃতিচারণ করছে। এতটা প্রাণবন্ত যে তাদের দেখে বুঝা যায় না গতকাল জীবনের অনিশ্চয়তা নিয়ে পিটার নামক ব্যক্তিটা কেঁদেছিল আর সারোয়ার তার অতীত বেদনার ঝুলিটা খুলেছিল। অনিমেষ ও আমি তাদের কথাবার্তায় হাসছি শুধু। বীচ রেখে এবার গ্রামের রাস্তা ধরে এগোচ্ছি এবং কিছুদূর আসার পর দেখি বেশ কিছু এলাকা জুড়ে বাঁশের মাঁচা করা রাস্তার পাশে। কাছে আসতেই নজরে পড়ে বিভিন্ন মাছের শুটকি ওরা মাঁচায় রেখে শুকাচ্ছে। সাইকেল থামিয়ে সেখানে দাঁড়াতেই একজন ভদ্রলোক দৌঁড়ে আসে আর তাকে বলায় সে বলেÑজি স্যার আমরা এভাবেই মাঁচায় শুটকি শুকাই কোনো প্রকার কেমিক্যাল ছাড়া। আমরা শুটকি কিনব বলায় সে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে বলেÑআইসেন স্যার আমাদের বাসায় আইসেন সেখানে গিয়া টাটকা শুটকি দেই এগুলা অহনও শুকায় নাই পুরাডা। সেখানে থেকে ভদ্রলোকের বাড়ির উঠান দেখা যায় আমরা তার বাড়ির উঠানে আসি, বিভিন্ন মাছের শুটকি দেখে সকলে কিছু না কিছু শুকনো শুটকি কিনে নেই। গ্রামটা পুরো ঘুরে দেখলাম অসাধারণ লাগছে। প্রতিকূল পরিবেশের সাথে যুদ্ধ করে বেঁচে থাকা এ মানুষগুলোর জীবনমান বেশ সীমিত। এখানে পর্যটকরা আসে বলেই স্থানীয়রা একটু আধুনিকতার ছোঁয়া পায় নতুবা এরা থাকত এদের মতো করে। লোকটার সাথে আলাপচারিতায় জানা গেল তাদের

প্রয়োজনীয় সবকিছুর জন্য টেকনাফের বাজারের উপর নির্ভর করতে হয়। বেশ ক্লান্ত লাগছে এখন তাছাড়া গ্রামে ঘুরতে ঘুরতে কখন বেলা গড়িয়ে বারোটা টেরই পাইনি অতঃপর আমরা পুনরায় বাজারের দিকে চলে আসি। সাইকেল জমা দিয়ে একটা দোকানের সামনে রাখা বেঞ্চিতে বসে এবার একটু জিরিয়ে নেই। সারোয়ার ইতিমধ্যে নামাজ সেরে আমাদের সাথে যোগ দিল। দুপুরের লাঞ্চের জন্য আসি রাতের সেই রেস্তোরাঁয়। ম্যানুতে দেখলাম অনেক কিছুই আছে তাই কিছু আইটেম দু-একটা করে নেওয়ার চেষ্টা করি। লটিয়া শুটকি ভুনা, রূপ চাঁদার ঝোল, সামুদ্রিক পোয়াসহ বেশ কিছু আইটেম একসাথে নেই তবে এখানে সবজির দাম তুলনামূলক বেশি মনে হলো আমার কাছে। রান্নাটা খারাপ ছিল না এদিকে সাইকেল চালিয়ে এতটাই ক্লান্ত আর ক্ষুধার্থ যে সবকিছু অনায়াসে সাবাড় করতে পেরেছি। লাঞ্চ শেষে রুমে এসে যার যেমন বিছানায় শুয়ে পড়ি আর ঘুম ভাঙে বিকেল চারটায়। কটেজের বাইরের ঝুল দোলনাগুলোতে আমরা শুয়ে দুলছি আর চোখের সামনে বীচ তারপর বিশাল সমুদ্র। শেষ বিকেলের রোদটা বেশ লাগছে। শরীর কেমন যেন ঝিমিয়ে আসছে তাই কটেজের বেয়ারাকে বলে চায়ের ব্যবস্থা করা হলো। অনিমেষ সুখ খুঁজছে সিগারেটের ধোঁয়ায় আর আমি ডায়েরিতে। ভাবনাগুলো লিখে রাখা প্রয়োজন নতুবা হারিয়ে গেলে মনে পড়বে না। বার্ধক্য ছুঁয়ে যাওয়ার পর এখন অনেক কিছুই মনে থাকে না।

[পরের পর্ব আগামী সংখ্যায় প্রকাশিত হবে]

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়