প্রকাশ : ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ১১:৩১
জাগরণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের তৃতীয় বাঁশি উৎসব

'সুরের মূর্ছনায় ঐক্যের সুরে থাকি' এ প্রতিপাদ্যে জাগরণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্র-আয়োজিত লোকজধারার সংস্কৃতি তুলে ধরার প্রয়াসে 'তৃতীয় বাঁশি উৎসব' অনুষ্ঠিত হয়ে গেলো ১৭ এপ্রিল ২০২৬ (শুক্রবার) চাঁদপুর প্রেসক্লাবে।
|আরো খবর
এবারের উৎসবের উদ্বোধন করেন প্রথম পর্বের প্রধান অতিথি বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার জহির উদ্দিন বাবর। বিকেল ৪ টায় জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে উদ্বোধনী পর্বের প্রধান আলোচকের বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি সোহেল রুশদী। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর সাংস্কৃতিক চর্চা কেন্দ্রের আহ্বায়ক, নাট্যব্যক্তিত্ব শরীফ চৌধুরী, সিইসিসির ম্যানেজিং ডিরেক্টর প্রকৌশলী সামাউন কবির, বিজয়ী নারী উন্নয়ন সংস্থার ফাউন্ডার তানিয়া ইশতিয়াক খান। স্বাগত বক্তব্য রাখেন উৎসব কমিটির আহ্বায়ক ও জাগরণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের উপদেষ্টা অ্যাড. নুরুল হক কমল। উদ্বোধনী পর্বে ব্যারিস্টার জহির উদ্দিন বাবর বলেন, বাঁশি একটি লোকজ ধারার সংস্কৃতি। সংগীতের গুরুত্বপূর্ণ বাহন বাঁশি। প্রাচীন ভারতসহ মধ্য এশিয়ায় এর প্রচলন কয়েক হাজার বছর আগে থেকে। সংগীতের এমন একটি মাধ্যম বাঁশিকে তুলে ধরা সত্যিই প্রশংসনীয়। শিশুরা যে কতো চমৎকার চিত্র এঁকেছে তাতে খুবই ভালো লেগেছে। জাগরণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের এমন উদ্যোগকে স্বাগত জানাই।
পুরস্কার বিতরণী ও সমাপনী পর্বে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন ঢাকা মেডিকেল কলেজের প্রাক্তন সহকারী রেজিস্টার ও সমাজসেবক-রাজনীতিক ডা. মোবারক হোসেন চৌধুরী। স্বাগত বক্তব্য রাখেন জাগরণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের উপদেষ্টা ও চাঁদপুর চেম্বার অব কমার্সের পরিচালক রোটারিয়ান গোপাল সাহা।
ডা. মোবারক হোসেন চৌধুরী বলেন, বাঁশি উৎসব আয়োজন সত্যিই ভালো লেগেছে। এমন আয়োজনে জ্ঞানের বিকাশ হয়। প্রজন্ম ভুল পথে ধাবিত হয় না। সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড চলমান থাকা সমাজের ভারসাম্য রক্ষার জন্যে জরুরি।
উভয় পর্বে সভাপ্রধান ছিলেন বাঁশি উৎসবের উদ্যোক্তা, জাগরণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি জাহাঙ্গীর হোসেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন জাগরণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. মো. মাসুদ রানা ও সাংবাদিক আশিক খান।
উৎসবে ৭ জন বাঁশিশিল্পী অংশগ্রহণ করেন। এবারে বাঁশিশিল্পীদের মধ্যে অংশ নেন দেশের বিভিন্ন টেলিভিশনের অনুষ্ঠানসহ এবং বিশ্বের সাতাশটি দেশে যিনি বাঁশি বাজিয়ে দর্শক স্রোতাদের মুগ্ধ করেন প্রখ্যাত বাঁশিশিল্পী হাসান আলী, বরিশালের জুম্মান শরীফ, কুমিল্লার গোলাম মোস্তফা, মুন্সিগঞ্জের মো. তফাজ্জল হোসেন শিহাব, চাঁদপুরের মো. কামাল হোসেন ও শীতল মজুমদার। সংগীত পরিবেশন করেন জাগরণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের উপদেষ্টা স্বজন সাহা, কণ্ঠশিল্পী নন্দিতা দাস, সুপ্রতীক দাস ও সারা তাবাসসুম জীবা।
অনুষ্ঠানে আগত অতিথি ও বাঁশিশিল্পীদেরকে শুভেচ্ছা ক্রেস্ট প্রদান ও ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়। এবার উৎসব উৎসর্গ করা হয়েছে জাগরণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের উপদেষ্টা, প্রখ্যাত গণসংগীতশিল্পী ও চাঁদপুরের কৃতী সন্তান প্রয়াত মনোজ আচার্যীকে।
অনুষ্ঠানের সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন সংগঠনের সহ-সাধারণ সম্পাদক আশিষ মজুমদার, সংগীত সম্পাদক মো. শাহিন কান, প্রচার সম্পাদক তানভির হোসেন খান, উৎসব কমিটির সদস্য মো. আল আমিন ও কমল চন্দ্র দাস।
বাঁশি উৎসব ঘিরে বাঁশিভিত্তিক রচনা ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, সংগীত ও নৃত্য পরিবেশন হয়ে থাকে। সবশেষে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।








