প্রকাশ : ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:১২
বাবুরহাটে ময়লার স্তূপ, চাঁদপুর শহরে ঢোকার প্রাক্কালে অস্বস্তি

চাঁদপুর-কুমিল্লা আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে বাবুরহাটে যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা ফেলে স্তূপ করে রাখার কারণে পরিবেশের মারাত্মক অবনতি ঘটেছে। দীর্ঘদিন ধরে বর্জ্য ফেলার ফলে সেখানে শত শত টন ময়লার পাহাড় জমেছে। তীব্র দুর্গন্ধ ও অপরিচ্ছন্ন পরিবেশের কারণে চাঁদপুর জেলা সদরের প্রধান এই প্রবেশপথটির বেহাল দশা তৈরি হয়েছে। ফলে চাঁদপুরে আসা পর্যটক, দর্শনার্থী ও সাধারণ যাত্রীদের শুরুতেই এক নেতিবাচক ধারণার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। শহরে প্রবেশের মুখেই এমন নোংরা পরিবেশ দেখে পুরো শহর সম্পর্কে তাদের মনে বিরূপ ধারণা তৈরি হচ্ছে।
|আরো খবর
বাবুরহাট চাঁদপুর জেলা শহরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথ। এ সড়ক দিয়ে প্রতিদিন ঢাকা, হাজীগঞ্জ, কুমিল্লা, ফেনী, লক্ষ্মীপুর ও চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের হাজার হাজার মানুষ যাতায়াত করেন। বিশেষ করে ইলিশের টানে দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসা পর্যটকরাও এই পথ ব্যবহার করেন। অথচ প্রবেশমুখের এই ময়লার স্তূপ ও দুর্গন্ধের কারণে জেলা সম্পর্কে তাদের মনে নেতিবাচক মনোভাব তৈরি হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও সচেতন মহলের প্রশ্ন, অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই স্থানটিকে ময়লা ফেলার জায়গা হিসেবে কারা নির্ধারণ করলো? দ্রুত এখান থেকে বর্জ্য অপসারণ করে সংলগ্ন খালটি রক্ষা করা এবং স্থানটির সৌন্দর্যবর্ধনের দাবি জানিয়েছেন তারা। বাবুরহাটকে একটি পরিচ্ছন্ন ও নান্দনিক প্রবেশমুখ হিসেবে গড়ে তোলার জোর দাবি জানান এলাকাবাসী।
এ বিষয়ে চাঁদপুর পৌরসভার প্রশাসক দেবাশীষ চৌধুরী বলেন, “বিষয়টি আমার নজরে এসেছে এবং এ নিয়ে পৌরসভা কাজ শুরু করেছে। আমরা বর্জ্য ব্যবস্থাপনার স্থায়ী সমাধান চাই, যাতে পরিবেশ অক্ষুণ্ন থাকে এবং জনদুর্ভোগ না পোহাতে হয়।”
পরিবেশ অধিদপ্তর চাঁদপুর জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. মিজানুর রহমান বলেন, “পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর উপায়ে এভাবে যত্রতত্র ময়লা ফেলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। পৌরসভার নিজস্ব ডাম্পিং স্টেশন ব্যবহার করে বর্জ্য অপসারণ করা উচিত। বিষয়টি আমরা দ্রুত পৌর কর্তৃপক্ষকে অবহিত করবো।”
সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর চাঁদপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী ভূঁইয়া রেদওয়ানুর রহমান বলেন, “সড়ক ও জনপথের জায়গায় এসব ময়লা ফেলা হচ্ছে। আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখার অনুরোধ জানাবো। জায়গাটি পরিষ্কার করে নান্দনিক রূপ দেওয়ার পরিকল্পনা আমাদের রয়েছে। সেখানে ফুলের গাছ লাগিয়ে শহরকে আরও সুন্দর করার উদ্যোগ নেওয়া হবে, যাতে মানুষ স্বস্তিদায়ক পরিবেশে যাতায়াত করতে পারেন।”
দীর্ঘদিনের এই জনদুর্ভোগ নিরসনে কেবল আশ্বাসের ওপর নির্ভর না করে দ্রুত ময়লা অপসারণ, খালের স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনা এবং স্থানটির সৌন্দর্যবর্ধনে দৃশ্যমান ও কার্যকর পদক্ষেপ দেখতে চান সচেতন নাগরিকরা। এছাড়া বাবুরহাটের এই স্থানটিকে পরিচ্ছন্ন ও নান্দনিক করে তুলতে চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহম্মেদ মানিকসহ সংশ্লিষ্ট মহলের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।
ডিসিকে /এমজেডএইচ








