প্রকাশ : ২০ আগস্ট ২০২৬, ০১:২৩
চাঁদপুর শহর থেকে শাহরাস্তির খাজুরিয়া পর্যন্ত উচ্ছেদ অভিযানে সওজ-এর মাইকিং
৪২ কিলোমিটার সড়কের দু পাশে অবৈধ স্থাপনা সরানোর নির্দেশ

চাঁদপুর শহরের ইলিশ চত্বর থেকে শাহরাস্তির খাজুরিয়া পর্যন্ত আঞ্চলিক মহাসড়কের দু পাশে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে মাঠে নামছে সড়ক ও জনপথ (সওজ) কর্তৃপক্ষ। আগামী সোমবার (২৪ আগস্ট ২০২৬) থেকে এ উচ্ছেদ অভিযান শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ইতোমধ্যে অভিযান সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট এলাকায় মাইকিং করে অবৈধ দখলদারদের নিজ উদ্যোগে স্থাপনা ও মালামাল সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
|আরো খবর
সড়ক ও জনপথ বিভাগের দেওয়া নোটিশে বলা হয়েছে, কুমিল্লা-চাঁদপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের ইলিশ চত্বর থেকে খাজুরিয়া পর্যন্ত প্রায় ৪২ কিলোমিটার সড়কের উভয় পাশে সড়ক ও জনপথ বিভাগের অধিগ্রহণকৃত জায়গায় নির্মিত অবৈধ স্থাপনা, দোকানপাট এবং সড়কের জায়গায় রাখা মালামালসহ সব ধরনের অবৈধ দখল উচ্ছেদে অভিযান পরিচালনা করা হবে।
নোটিশে সংশ্লিষ্ট সবাইকে আগামী চার দিনের মধ্যে নিজ নিজ অবৈধ স্থাপনা ও মালামাল স্ব-উদ্যোগে সরিয়ে নেওয়ার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। অন্যথায় উচ্ছেদ অভিযানকালে অবৈধ স্থাপনা ও মালামাল জব্দ করে নিলামে বিক্রি করা হবে বলে সতর্ক করা হয়েছে। অভিযানের সময় কোনো ধরনের ক্ষয়ক্ষতির জন্যে কর্তৃপক্ষ দায়ী থাকবে না বলেও নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।
সওজ কর্তৃপক্ষ বলছে, আঞ্চলিক মহাসড়কের জায়গা দখল করে দোকানপাট, বিভিন্ন স্থাপনা ও মালামাল রাখার কারণে সড়কের স্বাভাবিক পরিবেশ ও চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। কোথাও কোথাও সড়কের জায়গা সংকুচিত হয়ে যানবাহন চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে। একই সঙ্গে এসব অবৈধ স্থাপনা সড়ক-নিরাপত্তার জন্যেও ঝুঁকি তৈরি করছে।
চাঁদপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মো. শাহিনুর রহমান বলেন, “আমরা ইতোমধ্যেই মাইকিং করেছি এবং সড়কের দু পাশে সড়ক ও জনপথের জায়গা থেকে অবৈধ স্থাপনা ও মালামাল সরিয়ে নেওয়ার জন্যে সবাইকে নির্দেশ দিচ্ছি। এর আগেও প্রশাসনের সহযোগিতা নিয়ে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছিলো। তারই ধারাবাহিকতায় এবারও অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।” তিনি আরও বলেন, “সরকারি ভূমি কেউ দখল করে রাখতে পারবে না। এটি আইনত অপরাধ। এ ব্যাপারে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।”
সওজ সূত্রে জানা গেছে, অভিযান চলাকালে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহযোগিতা নেওয়া হবে। সড়কের জায়গা দখলমুক্ত করে মহাসড়কের স্বাভাবিক প্রশস্ততা ও নিরাপদ চলাচলের পরিবেশ ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচারীরা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে মহাসড়কের বিভিন্ন অংশের পাশে অবৈধ স্থাপনা ও দোকানপাট গড়ে ওঠায় যানজট ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেড়েছে। সড়কটি দখলমুক্ত হলে যানবাহন চলাচল আরও স্বাভাবিক ও নিরাপদ হবে বলে তারা আশা করছেন।
আগামী সোমবার শুরু হতে যাওয়া এ উচ্ছেদ অভিযান কতোটা কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হয়, সেদিকেই এখন নজর স্থানীয়দের।
ডিসিকে/ এমজেডএইচ








