প্রকাশ : ১৩ আগস্ট ২০২৬, ০২:১৯
স্বাধীনতার পর ৫৫ বছরেও হয়নি ব্রিজ।। বাঁশের সাঁকোই ভরসা শত শত মানুষের
দাসদীর মুন্সিবাড়িতে সাঁকো সংস্কার করলেন মোবারক পালোয়ান, স্থায়ী ব্রিজ নির্মাণের দাবি এলাকাবাসীর

স্বাধীনতার আগে থেকেই একটি বাঁশের সাঁকোই ভরসা দাসদী গ্রামের মুন্সিবাড়ি এলাকার প্রায় পাঁচশ' থেকে সাতশ' মানুষের। দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে সাঁকোটি ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ায় চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছিল স্থানীয় বাসিন্দাদের। সম্প্রতি নিজ উদ্যোগে সাঁকোটি সংস্কার করে দিয়েছেন চাঁদপুর পৌরসভার ১৪নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদপ্রার্থী ও ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি মো. মোবারক পালোয়ান। তবে এলাকাবাসীর দাবি—অস্থায়ী সাঁকো নয়, এখানে দ্রুত একটি স্থায়ী ব্রিজ নির্মাণ করতে হবে।
|আরো খবর
শনিবার (৮ আগস্ট ২০২৬) সরজমিনে দাসদী গ্রামের মুন্সিবাড়ি এলাকায় গিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা যায়।
মুন্সিবাড়ির বয়োজ্যেষ্ঠ বাসিন্দা সিরাজুল ইসলাম বলেন, স্বাধীনতার আগে থেকেই এখানে কোনো ব্রিজ নেই। তাই বাধ্য হয়ে বাঁশের সাঁকো তৈরি করে আমরা পারাপার হয়ে আসছি। দীর্ঘদিন ধরে এ নিয়ে আমাদের দুর্ভোগের শেষ নেই। গত ১৭ বছরেও এই ব্রিজ নির্মাণের বিষয়ে কেউ গুরুত্ব দেয়নি। সম্প্রতি মোবারক পালোয়ান আমাদের কষ্টের কথা বিবেচনা করে নিজের উদ্যোগে সাঁকোটি সংস্কার করে দিয়েছেন। এজন্যে আমরা তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞ।
তিনি আরও বলেন, আমরা চাই, আমাদের সদর আসনের সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহম্মেদ মানিক বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে এখানে একটি স্থায়ী ব্রিজ নির্মাণের উদ্যোগ নেবেন।
স্থানীয় বাসিন্দা হাসিনা বেগম বলেন, এই সাঁকো দিয়ে প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ যাতায়াত করেন। বিশেষ করে শিক্ষার্থীরা বাবুরহাট উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ, পাশের মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যেতে এই পথ ব্যবহার করে। এছাড়া গর্ভবতী নারী, শিশু ও বয়স্কদেরও এই সাঁকো দিয়ে চলাচল করতে হয়।
তিনি বলেন, বৃষ্টির সময় সাঁকোটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়। মোবারক পালোয়ান সাঁকোটি সংস্কার করে দেয়ায় আপাতত আমাদের চলাচলের কিছুটা সুবিধা হয়েছে। কিন্তু আমরা এখানে একটি স্থায়ী ব্রিজ চাই। এ ব্যাপারে স্থানীয় সংসদ সদস্যের সর্বোচ্চ সহযোগিতা প্রয়োজন।
সাঁকো সংস্কারের উদ্যোক্তা মো. মোবারক পালোয়ান বলেন, আমি আমার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের লাভের একটি অংশ দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে জনহিতকর বিভিন্ন কাজ করে আসছি। মানুষের বিপদে পাশে দাঁড়াতে পারলে আমি এক ধরনের মানসিক প্রশান্তি অনুভব করি। আশপাশের সাধারণ মানুষ, মা-বোন, ভাই ও আত্মীয়স্বজন যখন এসব কাজকে ভালোভাবে নেন এবং আমাকে আপনজন মনে করেন, এর চেয়ে বড় প্রাপ্তি আর কী হতে পারে!
তিনি আরও বলেন, কেউ কোনো সমস্যায় পড়ে আমার কাছে এলে বিষয়টি শোনার পর আমার সামর্থ্য অনুযায়ী সহযোগিতা করার চেষ্টা করি। বলতে পারেন, এটা আমার এক ধরনের নেশা। মুন্সিবাড়ির মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের কথা জানতে পেরে আমি নিজের ব্যবস্থাপনায় সাঁকোটি সংস্কার করে দিয়েছি। এখন মানুষ কিছুটা নিরাপদে চলাচল করতে পারবে।
স্থায়ী সমাধানের বিষয়ে মোবারক পালোয়ান বলেন, স্থানীয় সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহম্মেদ মানিকের সঙ্গে এ বিষয়ে আমি কথা বলবো। এখানে একটি স্থায়ী ব্রিজ নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয়ার চেষ্টা করবো, যাতে দীর্ঘদিনের এই দুর্ভোগের অবসান ঘটে।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দাসদী গ্রামের মুন্সিবাড়ি এলাকায় প্রায় অর্ধশত পরিবার দীর্ঘদিন ধরে এই সাঁকোর ওপর নির্ভরশীল। প্রতিদিন পাঁচশ' থেকে সাতশ' মানুষ এই পথ দিয়ে পারাপার হন। শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী, কৃষক থেকে শুরু করে অসুস্থ ও গর্ভবতী নারীদেরও নিয়মিত এই সাঁকো ব্যবহার করতে হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, স্বাধীনতার আগে থেকে একটি স্থায়ী ব্রিজের দাবি থাকলেও আজও তা বাস্তবায়ন হয়নি। ফলে বর্ষা ও দুর্যোগের সময় তাদের দুর্ভোগ কয়েকগুণ বেড়ে যায়। একটি স্থায়ী ব্রিজ নির্মিত হলে শুধু মুন্সিবাড়ি নয়, আশপাশের এলাকার মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থারও ব্যাপক উন্নতি হবে। এলাকাবাসী দ্রুত প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিয়ে বাঁশের সাঁকোর স্থলে একটি স্থায়ী ব্রিজ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন।
ডিসিকে/ এমজেডএইচ








