মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য

প্রকাশ : ২১ জুলাই ২০২৬, ০১:২২

অবৈধ নিয়োগে অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন!

অভিভাবক ও এলাকাবাসীর মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ

ভ্রাম্যমান প্রতিনিধি
অভিভাবক ও এলাকাবাসীর মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ

একটা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ নিয়োগে ব্যাপক অনিয়ম এবং সেই অনিয়মকে তুলে ধরে বারবার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও মন্ত্রণালয়ে অভিযোগ দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ইতঃপূর্বে এ বিষয়ে অত্র কলেজের শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় এলাকাবাসীর মধ্যে ব্যাপক হাঙ্গামা, দলাদলি, কলেজের মূল গেট সহ বিভিন্ন ফটকে তালা দেওয়া, অনির্দিষ্টকালের জন্যে কলেজ বন্ধ করে দেওয়া সহ বিভিন্ন ধরনের আন্দোলনও করা হয়েছে। কিন্তু কে শুনে কার কথা। কোনো এক অদৃশ্য শক্তির কারণে এই অধ্যক্ষকে কলেজ থেকে বাদ দেওয়া যায়নি! আর সে বিষয় নিয়ে এলাকাবাসী, ছাত্র-ছাত্রী ও অভিভাবকদের মধ্যে বর্তমানে দেখা যাচ্ছে চরম ক্ষোভ ও হতাশা। এমনই একটি ঘটনার জন্ম দিয়েছে ফরিদগঞ্জ উপজেলার গল্লাক আদর্শ ডিগ্রি কলেজ। এলাকার সচেতন মহল ও অত্র অঞ্চলের সকলের দাবি, একটি নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করে এর একটি সুষ্ঠু সমাধান অতীব জরুরি।

অভিযোগের আলোকে জানা যায়, উপজেলার ৫ নং গুপটি পূর্ব ইউনিয়নে অবস্থিত গল্লাক আদর্শ ডিগ্রি কলেজে অধ্যক্ষ পদ শূন্য থাকার কারণে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০২০ সালের ২০ জুলাই হরিপদ দাসকে এই কলেজে অধ্যক্ষ পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ হওয়ার জন্যে যে সকল অভিজ্ঞতা বা নিয়মের প্রয়োজন আছে, হরিপদ দাসের তার কিছুই ছিলো না। অত্র কলেজে অধ্যক্ষ হওয়ার আগে তিনি অন্য কোনো কলেজের অধ্যক্ষ বা উপাধ্যক্ষ ছিলেন না। তৎকালীন সময়ে আওয়ামী লীগ সরকার থাকার কারণে দলীয় বিবেচনায় তার এই নিয়োগ হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। তার এই নিয়োগে যথাযথ বিধি অনুসরণ করা হয় না বলে অভিযোগ করেছেন অত্র কলেজের গভর্নিং বডির সাবেকা সভাপতি মো. মাহবুব মোরশেদ কচি পাটোয়ারী।

এই অধ্যক্ষ হরিপদ দাসের বিরুদ্ধে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বরাবর একটি লিখিত অভিযোগের আলোকে জানা যায়, এমপিও নীতিমালা ২০১৮ এবং পরবর্তীতে ২৫-২-২০১৯-এর সংশোধিত পরিপত্র অনুযায়ী পরিশিষ্ট-ঘ-এর খ কলেজের ক্রমিক নং-১ উপধারায় নিয়োগের জন্যে যে শিক্ষাগত যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা বর্ণিত রয়েছে তার কিছুই প্রতিপালিত হয় নি। এছাড়া অধ্যক্ষ নিয়োগ নির্বাচনী বোর্ডে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি মনোনয়ন প্রসঙ্গে বিগত ১৬-০৩-২০২০ তারিখে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় স্মারক নং ৩৭(১১২১৪) জাঃবিঃ/কঃপঃ/ কোড-৩৯৩০/৪৭৬৮ মূলে অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) গল্লাক আদর্শ ডিগ্রি কলেজ বরাবর প্রদানকৃত চিঠিতে উল্লেখিত রেজুলেশন (সংশোধিত) ২০১৯-এর ০৪ এবং ০৫ ধারার উপধারা সমূহ কোনোভাবেই লংঘন করা যাবে না বলে উল্লেখ করা থাকলেও উক্ত ধারাসমূহ প্রতিপালন না করে অধ্যক্ষ নিয়োগের সুপারিশ করা হয়, যা সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং বেআইনি এবং যা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের স্মারক নং-শাঃ/মামলা /৮-২৩৩/২০০৬/১১৯১, তারিখ ১৮-০৯-২০০৬ অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ

অভিযোগকারী মাহবুব মোর্শেদ কচি পাটোয়ারী উল্লেখিত অধ্যক্ষ নিয়োগে অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়টি এ কলেজের বৃহৎ স্বার্থে সুষ্ঠুভাবে অতি দ্রুত তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাগ্রহণের জন্যে আবেদন করেন।

অভিযোগের প্রেক্ষিতে আরও জানা যায়, চলতি বছরের ৯ মার্চ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজ পরিদর্শক (ভারপ্রাপ্ত) নাজিম উদ্দিন আহমেদ কলেজ গভর্নিং বডির সভাপতিকে একটি চিঠি দেন। চিঠিতে আনীত অভিযোগের বিষয়ে সভাপতির মতামত বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রেরণের জন্যে অনুরোধ করা হয়। কলেজ গভর্নিং বডির সভাপতি হিসেবে বর্তমানে দায়িত্ব পালন করছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।

এরপরেও অভিযুক্ত অধ্যক্ষ হরিপদ দাসের বিরুদ্ধে কোনে ব্যবস্থা না নেওয়ায় গভর্নিং বডির সাবেক সভাপতি মো. মাহবুব মোরশেদ কচি পাটোয়ারী গত ২ মে কলেজ গভর্নিং বডির বর্তমান সভাপতি তথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত চিঠি প্রদান করে। যা ১০ মে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয় কর্তৃক গ্রহণ করা হয়। চিঠিতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক ইস্যুকৃত গত ৯ মার্চের চিঠির আলোকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ করা হয়। চিঠিতে বলা হয়, ইতঃপূর্বে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে সাবেক সভাপতির নিকট একই বিষয়ে অভিযোগ করা হলে একটি তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছিল। তবে তদন্ত কমিটি গঠন প্রক্রিয়া জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি বহির্ভূত ছিলো। তদন্ত রিপোর্টে অভিযোগকারীর বক্তব্যের কোনো প্রতিফলন ঘটেনি। ফলে অভিযোগকারী এ রিপোর্টের বিরুদ্ধে অনাস্থা জ্ঞাপন করে পুনরায় সুষ্ঠু তদন্তের আবেদন জানিয়েছেন।

এই চিঠিতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রেরিত চিঠির নির্দেশনা অনুযায়ী সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যথাযথ কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করার জন্যে গভর্নিং বডির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে অনুরোধ করা হয়। কিন্তু এখন পর্যন্ত ওই অধ্যক্ষের বিধি বহির্ভূত নিয়োগের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষ বিরাজ করছে। উল্লেখিত অবৈধ নিয়োগ বাতিল করে পুনরায় যোগ্যতার ভিত্তিতে অধ্যক্ষ নিয়োগের দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারী, শিক্ষার্থী, এলাকাবাসী ও অত্র অঞ্চলের সচেতন মহল।

এ বিষয়ে ফরিদগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও গল্লাক আদর্শ ডিগ্রি কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি সেটু কুমার বড়ুয়ার সাথে কথা হলে তিনি বলেন, অত্র কলেজের বিষয়ে গত ৯ মার্চ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চিঠি দিয়ে যে মতামত চাওয়া হয়েছিলো সেই মতামত তিনি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রেরণ করে দিয়েছেন। ডিসিকে/ এমজেডএইচ

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়