সোমবার, ০৫ জানুয়ারি, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য

প্রকাশ : ০৪ জানুয়ারি ২০২৬, ২০:২৪

সিয়ামের মৃত্যুর কারণ কি মোটরসাইকেল না পাওয়া, নাকি প্রেম?

কামরুজ্জামান টুটুল।।
সিয়ামের মৃত্যুর কারণ কি মোটরসাইকেল না পাওয়া, নাকি প্রেম?
হাজীগঞ্জের বলাখালে নিহত সিয়াম মুন্সী। ছবি : সংগৃহীত।

কলেজ ছাত্র সিয়াম মুন্সী। দু ভাইয়ের মধ্যে বড়ো। বাবা দলিল লিখক ও প্রাসাদোপম মুন্সী ভিলার মালিক। জন্মেছে সে সোনার চামচ মুখে দিয়ে। কিন্তু কী হতে কী হলো বুঝে উঠতে পারছে না কেউ। রাতে ঘুমাতে রুমে যায়, সকালে মা-বাবা রুমে পায় সিয়ামের নিথর দেহ। তাহলে সিয়াম কি আত্মহত্যা করেছে? তবে সে তার নিজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের ইন্ট্রুতে একটি লিখাও লিখেছে। শোকে স্তব্ধ বাবা-মা ঠিক বলতে পারছেন না, কী হয়েছে, কেনো এমন হলো! স্থানীয়দের থেকে একাধিক তথ্য পাওয়া গেলেও তথ্যটি নিশ্চিত করেনি কেউ। কেউ বলে প্রেম সংক্রান্ত বিষয়, কেউ বলেছে সখের মোটরসাইকেলের আবদার ছিলো সিয়ামের।

সিয়াম হাজীগঞ্জ পৌরসভার বলাখাল বাজার এলাকার দিঘির পাড়ের মুন্সী ভিলার মালিক ফারুক মুন্সীর বড় ছেলে। ঘটনাটি শনিবার (৩ জানুয়ারি ২০২৬) দিবাগত রাতের কোনো এক সময়ের।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সিয়াম মুন্সী হাজীগঞ্জ সরকারি মডেল কলেজের শিক্ষার্থী। দু ভাইয়ের মধ্যে সে বড়। প্রেম সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে বাবা-মায়ের সাথে দ্বন্দ্বের জেরে শনিবার রাত থেকে রোববার সকালের কোনো এক সময়ে নিজ বাসভবন মুন্সী ভিলার ৪র্থ তলায় শয়নকক্ষের সিলিং ফ্যানের সাথে ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে সে। তবে স্থানীয়রা বলছেন, সখের মোটরসাইকেল কিনে না দেয়ার কারণে আত্মহত্যার পথ বেছে নেয় সিয়াম। শোকে স্তব্ধ ফারুক মুন্সীর পরিবার থেকে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায় নি।

এদিকে সিয়াম মুন্সী তার ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের ইন্ট্রুতে লিখেন, ‘কেউ দায়ী নয়। আমার মৃত্যুর দায়ভার আমার। কারোই দোষ নেই। আমার দোষ আমি মেনে নিলাম। সুখী হোক সবাই। বিদায়’ (ফেসবুকের লিখাটি হুবহু)।

খবর পেয়ে রোরবার (৪ জানুয়ারি ২০২৬) হাজীগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আবু আহমেদ চৌধুরী মরদেহ উদ্ধারপূর্বক সুরতহাল প্রতিবেদন সম্পন্ন করেন।

হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মদ আব্দুল জব্বার জানান, নিহতের পরিবারের কোনো অভিযোগ না থাকায় এবং লিখিত আবেদনের ভিত্তিতে ময়নাতদন্ত ছাড়া মরদেহ হস্তান্তর করা হয়। এ ঘটনায় একটি ইউডি (অপমৃত্যু) মামলা হচ্ছে।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়