মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য
ব্রেকিং নিউজ

প্রকাশ : ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৪১

দীর্ঘদিন পর উন্মুক্ত চাঁদপুর সরকারি কলেজ মাঠ, ফিরেছে উৎসবমুখর পরিবেশ

ক্যাম্পাস প্রতিনিধি (তাইয়্যেব)
দীর্ঘদিন পর উন্মুক্ত চাঁদপুর সরকারি কলেজ মাঠ, ফিরেছে উৎসবমুখর পরিবেশ

চাঁদপুর জেলার ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চাঁদপুর সরকারি কলেজ। নান্দনিক পরিবেশের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা ও শরীরচর্চার জন্য রয়েছে সুবিশাল মাঠ। তবে শুধু কলেজের শিক্ষার্থীরাই নন, আশপাশের বিভিন্ন বয়সী মানুষের নিয়মিত যাতায়াতে মাঠটি এখন প্রাণবন্ত।

২০২৪ সালের আগে দীর্ঘদিন মাঠটিতে খেলাধুলা বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের শরীরচর্চার সুযোগ সীমিত হয়ে পড়েছিলো। পরবর্তীতে স্থানীয় অধিবাসী ও বিভিন্ন ব্যক্তির অনুরোধে বর্তমান অধ্যক্ষ মাঠটি পুনরায় সবার জন্য উন্মুক্ত করেন। এরপর থেকেই মূলত শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীর পদচারণায় মাঠে নতুন করে প্রাণচাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। এখন প্রতিদিন বিকেলে বিভিন্ন পাড়া-মহল্লা থেকে আসা শতাধিক মানুষ এখানে হাঁটাচলা, শরীরচর্চা ও খেলাধুলায় মেতে ওঠেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, প্রতিদিন সকালে স্থানীয় নারী-পুরুষদের পদচারণায় মুখর থাকে মাঠটি। অনেকেই ছোট সন্তানদের নিয়ে উন্মুক্ত হাওয়ায় কিছুটা সময় কাটাতে এখানে আসেন। শিশুদের সাইকেল চালানো শেখা কিংবা কিশোর-কিশোরীদের খেলাধুলার প্রিয় প্রাঙ্গণ এখন এটি। বিশেষ করে ভলিবল খেলার জন্য মাঠটিতে রয়েছে উপযুক্ত পরিবেশ।

সকালের একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত হোস্টেল, মেস ও আশপাশের বাসাবাড়িতে থাকা শিক্ষার্থীদের জন্য মাঠটি উন্মুক্ত থাকে। আর বিকেলে কলেজ শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি স্থানীয় ও অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরাও একসঙ্গে খেলাধুলার সুযোগ পান।

ব্যক্তিগত উদ্যোগের পাশাপাশি বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকেও মাঠে নিয়মিত দৌড় ও শরীরচর্চার আয়োজন করা হচ্ছে। ‘চলেন হাঁটি’, ‘রানার্স’ ও ‘দৌড়াই’-এর মতো স্বেচ্ছাসেবী প্ল্যাটফর্মগুলোর উদ্যোগে পরিচালিত কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছেন শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও চাকরিজীবীসহ নানা পেশার মানুষ।

এলাকাবাসীর মতে, মাঠটি উন্মুক্ত করার পর থেকে সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বাস্থ্য সচেতনতা ও শরীরচর্চার আগ্রহ বেড়েছে। একই সঙ্গে শিশু-কিশোররা পেয়েছে একটি উন্মুক্ত খেলাধুলার পরিবেশ।

এ বিষয়ে চাঁদপুর সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর আবদুল মাননান জানান, মাঠ সুরক্ষার কথা চিন্তা করে তিনি প্রথমে খেলাধুলা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তবে আশপাশে খেলাধুলার বিকল্প কোনো স্থান না থাকায় স্থানীয়দের অনুরোধের কথা ভেবে তিনি মাঠটি উন্মুক্ত রাখার সিদ্ধান্ত নেন।

তিনি বলেন, “মাঠটি যাতে নষ্ট না হয় সে জন্য আমি খেলা বন্ধ রাখতে চেয়েছিলাম। কিন্তু এলাকায় খেলাধুলার অন্য কোনো মাঠ না থাকায় সবার অনুরোধ ও ছেলেমেয়েদের বিনোদনের কথা বিবেচনা করেই এটি উন্মুক্ত রাখা হয়েছে।”

শিক্ষার্থীদের শরীরচর্চার পাশাপাশি চাঁদপুর সরকারি কলেজের মাঠটি এখন স্থানীয় সব বয়সের মানুষের সুস্থ বিনোদন ও মেলবন্ধনের এক অনুপম স্থানে পরিণত হয়েছে।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়